ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান ব্যালন ডি’অর: মেসি, এমবাপ্পে, কেইন, ইয়ামালে আলো ঝলমলে লন্ডন পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও সেতুর অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদালত অবমাননার অভিযোগ: ট্রাইব্যুনালে ক্ষমা চাইলেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী হামের সঙ্গে নিউমোনিয়ার জটিলতা, দূরদূরান্তের শিশুদের শেষ ভরসা ঢাকা এনসিপির স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ, মাহিন–আরিফের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বে সেই রনি সিপিবির মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তুলে হামলা পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, দেওবন্দে ৫ হাজার প্রতিনিধির সম্মেলন চা–বাগানের শিশুদের স্কুলব্যাগ-খাতা-পেনসিল উপহার এক দশকে জাপানে রপ্তানি বেড়েছে ৩৫%, আমদানি ১০%

এক দশকে জাপানে রপ্তানি বেড়েছে ৩৫%, আমদানি ১০%

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার জাপান। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বছরে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি ডলারের। এর মধ্যে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি ৪০ শতাংশের আশপাশে; বাকিটা আমদানি।

বাংলাদেশ থেকে প্রধানত ওভেন ও নিট পোশাক এবং চামড়াজাত পণ্য জাপানে রপ্তানি হয়। তার বিপরীতে জাপান থেকে আমদানি হয় লোহা, ইস্পাত, জাহাজ, যানবাহন ও যন্ত্রপাতি। জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) করেছে বাংলাদেশ। তবে তার সুফল এখনো পুরোপুরি রপ্তানিতে পড়েনি।

জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সে দেশে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটার কারখানা ও জেরার এলএনজি টার্মিনাল পরিদর্শন করার কথা রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর।

জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া বলছে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করতে চায় জাপান। অটোমোবাইল ও অন্যান্য ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে এই বিনিয়োগে আগ্রহী দেশটির উদ্যোক্তারা।

.

রপ্তানির শীর্ষে পোশাক, আমদানিতে ইস্পাত

বাংলাদেশ ব্যাংক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬–১৭ অর্থবছরে জাপানে ১০১ কোটি ২৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয় বাংলাদেশ থেকে। সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৬ কোটি ডলারে। সেই হিসাবে এক দশকে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। তার বিপরীতে একই সময়ের ব্যবধানে দেশটি থেকে আমদানি বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে জাপানে প্রায় ৪০০ ধরনের পণ্য রপ্তানি হয়। রপ্তানির বেশির ভাগই তৈরি পোশাক। এর বাইরে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। এ ছাড়া হিমায়িত মাছ ও জলজ প্রাণী, দুগ্ধজাত পণ্য, ফলমূল ও বাদাম, চা-কফি-মসলা, শস্য, তেলবীজ ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রী রপ্তানি হয় দেশটিতে। রপ্তানি পণ্যের তালিকায় আরও আছে আসবাব ও প্রকৌশল পণ্য, ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি, বয়লার ও মেশিনারিজ; বিভিন্ন ধাতু ও ধাতুসামগ্রী, রাসায়নিক ও প্লাস্টিক পণ্য, রাবার, ওষুধ, সাবান, খেলনা ও খেলাধুলার সামগ্রী, ঘড়ি, কাঠের পণ্য, কাগজ ও মুদ্রিত বইপত্র।

.

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে জাপান থেকে প্রায় ১৮৮ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। আমদানি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বড় স্থান দখল করে আছে লোহা ও ইস্পাত, যা দেশটি থেকে মোট আমদানির ৩৭ শতাংশ। দেশটি থেকে আমদানির দ্বিতীয় শীর্ষ পণ্যের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ও এর যন্ত্রাংশ। এ ছাড়া জাহাজ, নৌকা, ভারী যন্ত্রপাতি, বয়লার, খনিজ জ্বালানি, তেল ও বিটুমিনাস পদার্থ, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম সুতা, প্লাস্টিক সামগ্রী, ফটোগ্রাফিক ও সিনেমাটোগ্রাফিক পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে আমদানির তালিকায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জাপান থেকে ৫২ লাখ ডলারের নিট এফডিআই এসেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ এসেছে ট্রেডিং খাতে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিনিয়োগ এসেছে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে। এ ছাড়া পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ ও রাসায়নিক খাত, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও মৎস্য খাতেও কিছু কিছু জাপানি বিনিয়োগ এসেছে। এর আগে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে জাপান থেকে সাড়ে পাঁচ কোটি ডলারের বেশি এফডিআই এসেছিল। ২০১৮ সালে জাপান টোব্যাকো ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করে। এ ছাড়া জাপানি প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, মিৎসুবিশি, মারুবেনিসহ বাংলাদেশে নিবন্ধিত জাপানি কোম্পানির সংখ্যা প্রায় ৩৫০।

.

জাপান ব্যাংক অব ইন্টারন্যাশনাল কো–অপারেশনের (জেবিআইসি) তথ্য অনুসারে, জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছে টানা তিন বছর ধরে ব্যবসা প্রসারের জন্য সেরা ২০টি সম্ভাবনাময় দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। আর জাপানি বিনিয়োগ সহায়তাকারী সংস্থা জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) জরিপে উঠে এসেছে, প্রায় ৭২ শতাংশ জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা বাড়াতে আগ্রহী। জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ইতিমধ্যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চল) গড়ে তোলা হয়েছে।

জাপানের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে জাপান–বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া বলেন, ‘এখন অনেক বেসরকারি জাপানি প্রতিষ্ঠানও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। এই বিনিয়োগ এলে স্থবির অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হবে। এ জন্য বাংলাদেশকে কিছু নীতি পদক্ষেপ নিতে হবে। উভয় দেশের পার্লামেন্টে দ্রুত ইপিএ অনুমোদন (র্যাটিফিকেশন) করিয়ে তা কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়া আমাদের দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ ও তা বহাল রাখতে হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

এক দশকে জাপানে রপ্তানি বেড়েছে ৩৫%, আমদানি ১০%

আপডেট সময় : ১১:৫২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার জাপান। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বছরে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি ডলারের। এর মধ্যে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি ৪০ শতাংশের আশপাশে; বাকিটা আমদানি।

বাংলাদেশ থেকে প্রধানত ওভেন ও নিট পোশাক এবং চামড়াজাত পণ্য জাপানে রপ্তানি হয়। তার বিপরীতে জাপান থেকে আমদানি হয় লোহা, ইস্পাত, জাহাজ, যানবাহন ও যন্ত্রপাতি। জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) করেছে বাংলাদেশ। তবে তার সুফল এখনো পুরোপুরি রপ্তানিতে পড়েনি।

জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সে দেশে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটার কারখানা ও জেরার এলএনজি টার্মিনাল পরিদর্শন করার কথা রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর।

জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া বলছে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করতে চায় জাপান। অটোমোবাইল ও অন্যান্য ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে এই বিনিয়োগে আগ্রহী দেশটির উদ্যোক্তারা।

.

রপ্তানির শীর্ষে পোশাক, আমদানিতে ইস্পাত

বাংলাদেশ ব্যাংক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬–১৭ অর্থবছরে জাপানে ১০১ কোটি ২৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয় বাংলাদেশ থেকে। সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৬ কোটি ডলারে। সেই হিসাবে এক দশকে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। তার বিপরীতে একই সময়ের ব্যবধানে দেশটি থেকে আমদানি বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে জাপানে প্রায় ৪০০ ধরনের পণ্য রপ্তানি হয়। রপ্তানির বেশির ভাগই তৈরি পোশাক। এর বাইরে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। এ ছাড়া হিমায়িত মাছ ও জলজ প্রাণী, দুগ্ধজাত পণ্য, ফলমূল ও বাদাম, চা-কফি-মসলা, শস্য, তেলবীজ ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রী রপ্তানি হয় দেশটিতে। রপ্তানি পণ্যের তালিকায় আরও আছে আসবাব ও প্রকৌশল পণ্য, ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি, বয়লার ও মেশিনারিজ; বিভিন্ন ধাতু ও ধাতুসামগ্রী, রাসায়নিক ও প্লাস্টিক পণ্য, রাবার, ওষুধ, সাবান, খেলনা ও খেলাধুলার সামগ্রী, ঘড়ি, কাঠের পণ্য, কাগজ ও মুদ্রিত বইপত্র।

.

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে জাপান থেকে প্রায় ১৮৮ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। আমদানি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বড় স্থান দখল করে আছে লোহা ও ইস্পাত, যা দেশটি থেকে মোট আমদানির ৩৭ শতাংশ। দেশটি থেকে আমদানির দ্বিতীয় শীর্ষ পণ্যের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ও এর যন্ত্রাংশ। এ ছাড়া জাহাজ, নৌকা, ভারী যন্ত্রপাতি, বয়লার, খনিজ জ্বালানি, তেল ও বিটুমিনাস পদার্থ, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম সুতা, প্লাস্টিক সামগ্রী, ফটোগ্রাফিক ও সিনেমাটোগ্রাফিক পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে আমদানির তালিকায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জাপান থেকে ৫২ লাখ ডলারের নিট এফডিআই এসেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ এসেছে ট্রেডিং খাতে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিনিয়োগ এসেছে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে। এ ছাড়া পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ ও রাসায়নিক খাত, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও মৎস্য খাতেও কিছু কিছু জাপানি বিনিয়োগ এসেছে। এর আগে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে জাপান থেকে সাড়ে পাঁচ কোটি ডলারের বেশি এফডিআই এসেছিল। ২০১৮ সালে জাপান টোব্যাকো ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করে। এ ছাড়া জাপানি প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, মিৎসুবিশি, মারুবেনিসহ বাংলাদেশে নিবন্ধিত জাপানি কোম্পানির সংখ্যা প্রায় ৩৫০।

.

জাপান ব্যাংক অব ইন্টারন্যাশনাল কো–অপারেশনের (জেবিআইসি) তথ্য অনুসারে, জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছে টানা তিন বছর ধরে ব্যবসা প্রসারের জন্য সেরা ২০টি সম্ভাবনাময় দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। আর জাপানি বিনিয়োগ সহায়তাকারী সংস্থা জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) জরিপে উঠে এসেছে, প্রায় ৭২ শতাংশ জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা বাড়াতে আগ্রহী। জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ইতিমধ্যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চল) গড়ে তোলা হয়েছে।

জাপানের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে জাপান–বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া বলেন, ‘এখন অনেক বেসরকারি জাপানি প্রতিষ্ঠানও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। এই বিনিয়োগ এলে স্থবির অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হবে। এ জন্য বাংলাদেশকে কিছু নীতি পদক্ষেপ নিতে হবে। উভয় দেশের পার্লামেন্টে দ্রুত ইপিএ অনুমোদন (র্যাটিফিকেশন) করিয়ে তা কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়া আমাদের দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ ও তা বহাল রাখতে হবে।’