ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই থানার দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গত সোমবার সকাল ও দুপুরে কক্সবাজারের ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারি সড়কের হিমছড়ি ঢালা এলাকায় দুই দফায় অন্তত ৬০টি যানবাহনে ডাকাতি ও লুটপাট হয়েছে। মারধরে আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লুটপাট চললেও পুলিশের টহল ছিল না। পরিচিত একটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দিনের বেলায় এতগুলো যানবাহনের যাত্রী আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা গুরুতর উদ্বেগের। সেখানে টহল কেন ছিল না, খবর পাওয়ার পর পুলিশ কত দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর প্রয়োজন।

সড়কটির নিরাপত্তাহীনতা নতুন নয়। স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ বছরে এখানে অন্তত চারজন খুন হয়েছেন; অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৫০টির বেশি। অন্তত ২৩ জন মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

.

১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি একাধিক উপজেলা ও দুই জেলার মধ্যে পড়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, অপরাধ ঘটলে এক থানা অন্য থানার কথা বলে। এমন দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনিক সীমানা নাগরিকের নিরাপত্তা পাওয়ার পথে বাধা হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট জেলা ও থানা কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব সুস্পষ্ট করে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রতিটি অংশে টহল, তথ্য আদান–প্রদান ও জরুরি সাড়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

সড়কের মাঝামাঝি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি বা তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে ভবন নির্মাণ করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। পর্যাপ্ত জনবল, উপযুক্ত যানবাহন, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং দ্রুত অভিযানের সক্ষমতা থাকতে হবে। ফাঁড়ি চালুর অপেক্ষায় বর্তমান নিরাপত্তাব্যবস্থা শিথিল রাখারও সুযোগ নেই। এখনই ঝুঁকিপূর্ণ অংশে নিয়মিত ও আকস্মিক টহল বাড়াতে হবে।

.

পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা কয়েকটি এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধী দলের আস্তানা থাকার কথা বলেছেন। এসব দল মাদক চোরাচালান, অপহরণ ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও অভিযান প্রয়োজন। অপরাধীদের অর্থের উৎস, অস্ত্রের জোগান এবং আশ্রয়দাতাদের শনাক্ত করতে হবে। পাশাপাশি নিরীহ স্থানীয় বাসিন্দারা যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

পুলিশ বলছে, সর্বশেষ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দেননি। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ গ্রহণ, সাক্ষীদের নিরাপত্তা এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। পুরোনো হত্যা ও অপহরণ মামলার অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। এই সড়কের ওপর মানুষের জীবিকা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা নির্ভরশীল। দীর্ঘদিনের আবেদন ও আশ্বাসের পর বাসিন্দারা এবার দৃশ্যমান ফল চান। অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের পাশাপাশি দিন–রাত নির্বিঘ্নে চলাচলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

দুই থানার দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই

আপডেট সময় : ০৯:৩২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

গত সোমবার সকাল ও দুপুরে কক্সবাজারের ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারি সড়কের হিমছড়ি ঢালা এলাকায় দুই দফায় অন্তত ৬০টি যানবাহনে ডাকাতি ও লুটপাট হয়েছে। মারধরে আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লুটপাট চললেও পুলিশের টহল ছিল না। পরিচিত একটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দিনের বেলায় এতগুলো যানবাহনের যাত্রী আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা গুরুতর উদ্বেগের। সেখানে টহল কেন ছিল না, খবর পাওয়ার পর পুলিশ কত দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর প্রয়োজন।

সড়কটির নিরাপত্তাহীনতা নতুন নয়। স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ বছরে এখানে অন্তত চারজন খুন হয়েছেন; অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৫০টির বেশি। অন্তত ২৩ জন মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

.

১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি একাধিক উপজেলা ও দুই জেলার মধ্যে পড়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, অপরাধ ঘটলে এক থানা অন্য থানার কথা বলে। এমন দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনিক সীমানা নাগরিকের নিরাপত্তা পাওয়ার পথে বাধা হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট জেলা ও থানা কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব সুস্পষ্ট করে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রতিটি অংশে টহল, তথ্য আদান–প্রদান ও জরুরি সাড়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

সড়কের মাঝামাঝি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি বা তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে ভবন নির্মাণ করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। পর্যাপ্ত জনবল, উপযুক্ত যানবাহন, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং দ্রুত অভিযানের সক্ষমতা থাকতে হবে। ফাঁড়ি চালুর অপেক্ষায় বর্তমান নিরাপত্তাব্যবস্থা শিথিল রাখারও সুযোগ নেই। এখনই ঝুঁকিপূর্ণ অংশে নিয়মিত ও আকস্মিক টহল বাড়াতে হবে।

.

পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা কয়েকটি এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধী দলের আস্তানা থাকার কথা বলেছেন। এসব দল মাদক চোরাচালান, অপহরণ ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও অভিযান প্রয়োজন। অপরাধীদের অর্থের উৎস, অস্ত্রের জোগান এবং আশ্রয়দাতাদের শনাক্ত করতে হবে। পাশাপাশি নিরীহ স্থানীয় বাসিন্দারা যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

পুলিশ বলছে, সর্বশেষ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দেননি। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ গ্রহণ, সাক্ষীদের নিরাপত্তা এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। পুরোনো হত্যা ও অপহরণ মামলার অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। এই সড়কের ওপর মানুষের জীবিকা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা নির্ভরশীল। দীর্ঘদিনের আবেদন ও আশ্বাসের পর বাসিন্দারা এবার দৃশ্যমান ফল চান। অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের পাশাপাশি দিন–রাত নির্বিঘ্নে চলাচলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।