ঢাকা ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে গুলি করে হত্যার ঘটনা বাংলাদেশে সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিকের বেহাল নিরাপত্তাকে উন্মোচন করে দেয়। লুৎফুজ্জামান বেসরকারি আইপি টিভির প্রতিনিধি ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ পেজের মাধ্যমে স্থানীয় দুর্নীতি, মাদক পাচার ও অপকর্মের খবর প্রকাশ করতেন। আরও উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে তাঁর ওপর আরেকবার হামলা করা হয়েছিল।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি কীভাবে দিন দিন অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং অপরাধীদের আরও সাহসী করে তোলে, এ ঘটনা তারও প্রমাণ। বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে, তারই চড়া মাশুল দিতে হলো লুৎফুজ্জামানকে। অতীতেও দুর্গাপুরে একাধিক রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের সুবিচার না হওয়ার যে অভিজ্ঞতা স্থানীয় ব্যক্তিদের রয়েছে, তা বিচারব্যবস্থার ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমিয়ে দেয়।

বাংলাদেশে সংবাদকর্মী ও সাংবাদিকতার জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। বিগত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্তৃক সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে সরকার সাইবার সুরক্ষা আইনের যে সংশোধনীর খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে, সেটাও যে মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে, তা ইতিমধ্যে গণমাধ্যমকর্মীরা উচ্চকণ্ঠে জানিয়েছেন। সাংবাদিকতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে, তার প্রমাণ রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের (আরএসএফ) ২০২৬ সালের সূচকেও প্রতিফলিত হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান আরও পিছিয়ে ১৫২-তে ঠেকেছে। ইতিমধ্যে ব্রাসেলসভিত্তিক দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) যথার্থই মন্তব্য করেছে, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের সহিংসতা কেবল মত ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্যই হুমকি নয়; বরং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আইনের শাসনকেই ধূলিসাৎ করে দেয়।

আমরা মনে করি, সরকারকে লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যার ঘটনার নিরপেক্ষ, প্রভাবমুক্ত ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িত সব ঘাতক এবং এর নেপথ্যের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এটা কেবল সাংবাদিকের নিরাপত্তার বিষয়ও নয়, দেশে ক্রমাগত অবনতির দিকে যাওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটালে সামগ্রিকভাবে নাগরিকের নিরাপত্তাহীনতার বোধ কাটবে না। সাংবাদিকদের যদি কথা বলা বা সংবাদ প্রকাশের পর জান ও মাল নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়, তাহলে দেশের আইনের শাসন ও গণতন্ত্র সবই হুমকির মুখে পড়ে যায়।

আমরা মনে করি, যত দ্রুত সম্ভব লুৎফুজ্জামান হত্যার বিচার করতে হবে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর যে হামলা হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। সাংবাদিকদের জীবন হুমকির মুখে ফেলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হতে পারে না আর সংবাদমাধ্যম যদি স্বাধীন না হয়, তাহলে গণতন্ত্রও দ্রুত মুখ থুবড়ে পড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

আপডেট সময় : ০৯:০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে গুলি করে হত্যার ঘটনা বাংলাদেশে সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিকের বেহাল নিরাপত্তাকে উন্মোচন করে দেয়। লুৎফুজ্জামান বেসরকারি আইপি টিভির প্রতিনিধি ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ পেজের মাধ্যমে স্থানীয় দুর্নীতি, মাদক পাচার ও অপকর্মের খবর প্রকাশ করতেন। আরও উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে তাঁর ওপর আরেকবার হামলা করা হয়েছিল।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি কীভাবে দিন দিন অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং অপরাধীদের আরও সাহসী করে তোলে, এ ঘটনা তারও প্রমাণ। বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে, তারই চড়া মাশুল দিতে হলো লুৎফুজ্জামানকে। অতীতেও দুর্গাপুরে একাধিক রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের সুবিচার না হওয়ার যে অভিজ্ঞতা স্থানীয় ব্যক্তিদের রয়েছে, তা বিচারব্যবস্থার ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমিয়ে দেয়।

বাংলাদেশে সংবাদকর্মী ও সাংবাদিকতার জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। বিগত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্তৃক সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে সরকার সাইবার সুরক্ষা আইনের যে সংশোধনীর খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে, সেটাও যে মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে, তা ইতিমধ্যে গণমাধ্যমকর্মীরা উচ্চকণ্ঠে জানিয়েছেন। সাংবাদিকতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে, তার প্রমাণ রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের (আরএসএফ) ২০২৬ সালের সূচকেও প্রতিফলিত হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান আরও পিছিয়ে ১৫২-তে ঠেকেছে। ইতিমধ্যে ব্রাসেলসভিত্তিক দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) যথার্থই মন্তব্য করেছে, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের সহিংসতা কেবল মত ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্যই হুমকি নয়; বরং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আইনের শাসনকেই ধূলিসাৎ করে দেয়।

আমরা মনে করি, সরকারকে লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যার ঘটনার নিরপেক্ষ, প্রভাবমুক্ত ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িত সব ঘাতক এবং এর নেপথ্যের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এটা কেবল সাংবাদিকের নিরাপত্তার বিষয়ও নয়, দেশে ক্রমাগত অবনতির দিকে যাওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটালে সামগ্রিকভাবে নাগরিকের নিরাপত্তাহীনতার বোধ কাটবে না। সাংবাদিকদের যদি কথা বলা বা সংবাদ প্রকাশের পর জান ও মাল নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়, তাহলে দেশের আইনের শাসন ও গণতন্ত্র সবই হুমকির মুখে পড়ে যায়।

আমরা মনে করি, যত দ্রুত সম্ভব লুৎফুজ্জামান হত্যার বিচার করতে হবে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর যে হামলা হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। সাংবাদিকদের জীবন হুমকির মুখে ফেলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হতে পারে না আর সংবাদমাধ্যম যদি স্বাধীন না হয়, তাহলে গণতন্ত্রও দ্রুত মুখ থুবড়ে পড়বে।