ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়—অধ্যায় ৬: বাংলা ছিল চিরকালই সংগীতের দেশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

প্রশ্ন: সংস্কৃতি বলতে কী বোঝায়?উত্তর: সংস্কৃতি হলো একটি সমাজ বা জাতির জীবনধারা, বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান, শিল্প-সাহিত্য, সংগীত, নৃত্য, ধর্ম, ভাষা ও সামাজিক রীতিনীতির সমষ্টি। এটি মানুষের চিন্তা, অনুভূতি ও চর্চার মাধ্যমে গড়ে ওঠে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হয়। সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি জাতির পরিচয় বহন করে এবং সমাজের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলার সংস্কৃতি লোকসংগীত, নৃত্য, পোড়ামাটির শিল্প, পটচিত্র, নাটক, সাহিত্য ও বিভিন্ন উৎসবের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

প্রশ্ন: ‘বাংলা চিরকালই সংগীতের দেশ’ ব্যাখ্যা করো।উত্তর: বাংলা বরাবরই সংগীতপ্রেমী মানুষের আবাসভূমি। প্রাচীনকাল থেকেই এখানে লোকসংগীত, বাউল, ভাটিয়ালি, জারি-সারি, কীর্তনসহ নানা ধরনের সংগীতের চর্চা হয়ে আসছে। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, লালনগীতি, পালাগান, ধুনচি নাচসহ বিভিন্ন সংগীতধারা বাংলার সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। সংগীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি বাঙালির আবেগ, অনুভূতি, সংগ্রাম ও জীবনধারার প্রতিচিত্র। বাংলা ভাষার গানের শক্তি প্রমাণিত হয়েছে আমাদের জাতীয় ও মুক্তিসংগ্রামে, বিশেষত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে। তাই বলা হয়, বাংলা চিরকালই সংগীতের দেশ।

প্রশ্ন: পোড়ামাটির শিল্প বলতে কী বোঝায়?উত্তর: পোড়ামাটির শিল্প বলতে মাটি দিয়ে তৈরি ভাস্কর্য, ফলক, টেরাকোটা অলংকরণ ও বিভিন্ন কারুকার্য বোঝায়, যাকে আগুনে পুড়িয়ে স্থায়িত্ব দেওয়া হয়। এটি বাংলার এক প্রাচীন শিল্পধারা, যা মন্দির, রাজপ্রাসাদ, মঠ, দালানের দেয়ালে দেখা যায়। পোড়ামাটির শিল্প বিশেষত বাংলার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য, যেমন কান্তজিউ মন্দির, পুঠিয়ার মন্দির ও ষাটগম্বুজ মসজিদে সমৃদ্ধভাবে ফুটে উঠেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন খেলনা, মূর্তি ও অলংকার তৈরিতেও পোড়ামাটি ব্যবহৃত হয়, যা বাংলার লোকশিল্পের অংশ।

প্রশ্ন: অন্য সংস্কৃতির ধারা নিজ সংস্কৃতিতে আয়ত্ত করাকে কী বলে? ব্যাখ্যা করো।উত্তর: অন্য সংস্কৃতির ধারা নিজ সংস্কৃতিতে আয়ত্ত করাকে সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ বলে। সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতিকে আয়ত্ত করে। যখন মানুষ কোনো নতুন সাংস্কৃতিক পরিবেশে বসবাস করতে আসে, তখন সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ, চিন্তাচেতনা, মূল্যবোধ—এককথায় সমগ্র জীবনধারার সঙ্গে আত্তীকৃত হতে চেষ্টা করে। এভাবে একসময় আত্তীকরণ হয়ে যায়।

প্রশ্ন: সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ কেন ঘটে?উত্তর: অন্য সংস্কৃতির ধারা নিজ সংস্কৃতিতে আয়ত্ত করার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ ঘটে। সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতি আয়ত্ত করে। যখন মানুষ কোনো নতুন সংস্কৃতি বা সাংস্কৃতিক পরিবেশে বসবাস করতে আসে, তখন সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ, চিন্তাচেতনা, মূল্যবোধ—এককথায় সমগ্র জীবনধারার সঙ্গে আত্তীকৃত হতে চেষ্টা করে। এভাবে একসময় আত্তীকরণ হয়ে যায়।

প্রশ্ন: পাল যুগে তালপাতায় আঁকা ছবিগুলো এখনো ঝকঝকে রয়েছে কেন?উত্তর: পাল যুগে তালপাতার পুঁথিতে অঙ্কিত ছবি আমাদের কাছে স্মরণীয়। এসব পুঁথিতে দেশীয় রং দিয়ে ছবি আঁকা হতো, যার প্রশংসা আধুনিক বিশ্বের শিল্পরসিকদের কাছ থেকেও পাওয়া যায়। দেশীয় রং ছিল অনেক উন্নত মানের। ফলে সেগুলো সহজে নষ্ট হতো না। এ জন্য ছবিগুলো হাজার বছর পরও চমৎকার ঝকঝকে রয়েছে।

মিজানুর রহমান, শিক্ষকধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়—অধ্যায় ৬: বাংলা ছিল চিরকালই সংগীতের দেশ

আপডেট সময় : ১১:৩৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

প্রশ্ন: সংস্কৃতি বলতে কী বোঝায়?উত্তর: সংস্কৃতি হলো একটি সমাজ বা জাতির জীবনধারা, বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান, শিল্প-সাহিত্য, সংগীত, নৃত্য, ধর্ম, ভাষা ও সামাজিক রীতিনীতির সমষ্টি। এটি মানুষের চিন্তা, অনুভূতি ও চর্চার মাধ্যমে গড়ে ওঠে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হয়। সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি জাতির পরিচয় বহন করে এবং সমাজের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলার সংস্কৃতি লোকসংগীত, নৃত্য, পোড়ামাটির শিল্প, পটচিত্র, নাটক, সাহিত্য ও বিভিন্ন উৎসবের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

প্রশ্ন: ‘বাংলা চিরকালই সংগীতের দেশ’ ব্যাখ্যা করো।উত্তর: বাংলা বরাবরই সংগীতপ্রেমী মানুষের আবাসভূমি। প্রাচীনকাল থেকেই এখানে লোকসংগীত, বাউল, ভাটিয়ালি, জারি-সারি, কীর্তনসহ নানা ধরনের সংগীতের চর্চা হয়ে আসছে। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, লালনগীতি, পালাগান, ধুনচি নাচসহ বিভিন্ন সংগীতধারা বাংলার সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। সংগীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি বাঙালির আবেগ, অনুভূতি, সংগ্রাম ও জীবনধারার প্রতিচিত্র। বাংলা ভাষার গানের শক্তি প্রমাণিত হয়েছে আমাদের জাতীয় ও মুক্তিসংগ্রামে, বিশেষত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে। তাই বলা হয়, বাংলা চিরকালই সংগীতের দেশ।

প্রশ্ন: পোড়ামাটির শিল্প বলতে কী বোঝায়?উত্তর: পোড়ামাটির শিল্প বলতে মাটি দিয়ে তৈরি ভাস্কর্য, ফলক, টেরাকোটা অলংকরণ ও বিভিন্ন কারুকার্য বোঝায়, যাকে আগুনে পুড়িয়ে স্থায়িত্ব দেওয়া হয়। এটি বাংলার এক প্রাচীন শিল্পধারা, যা মন্দির, রাজপ্রাসাদ, মঠ, দালানের দেয়ালে দেখা যায়। পোড়ামাটির শিল্প বিশেষত বাংলার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য, যেমন কান্তজিউ মন্দির, পুঠিয়ার মন্দির ও ষাটগম্বুজ মসজিদে সমৃদ্ধভাবে ফুটে উঠেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন খেলনা, মূর্তি ও অলংকার তৈরিতেও পোড়ামাটি ব্যবহৃত হয়, যা বাংলার লোকশিল্পের অংশ।

প্রশ্ন: অন্য সংস্কৃতির ধারা নিজ সংস্কৃতিতে আয়ত্ত করাকে কী বলে? ব্যাখ্যা করো।উত্তর: অন্য সংস্কৃতির ধারা নিজ সংস্কৃতিতে আয়ত্ত করাকে সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ বলে। সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতিকে আয়ত্ত করে। যখন মানুষ কোনো নতুন সাংস্কৃতিক পরিবেশে বসবাস করতে আসে, তখন সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ, চিন্তাচেতনা, মূল্যবোধ—এককথায় সমগ্র জীবনধারার সঙ্গে আত্তীকৃত হতে চেষ্টা করে। এভাবে একসময় আত্তীকরণ হয়ে যায়।

প্রশ্ন: সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ কেন ঘটে?উত্তর: অন্য সংস্কৃতির ধারা নিজ সংস্কৃতিতে আয়ত্ত করার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ ঘটে। সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতি আয়ত্ত করে। যখন মানুষ কোনো নতুন সংস্কৃতি বা সাংস্কৃতিক পরিবেশে বসবাস করতে আসে, তখন সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ, চিন্তাচেতনা, মূল্যবোধ—এককথায় সমগ্র জীবনধারার সঙ্গে আত্তীকৃত হতে চেষ্টা করে। এভাবে একসময় আত্তীকরণ হয়ে যায়।

প্রশ্ন: পাল যুগে তালপাতায় আঁকা ছবিগুলো এখনো ঝকঝকে রয়েছে কেন?উত্তর: পাল যুগে তালপাতার পুঁথিতে অঙ্কিত ছবি আমাদের কাছে স্মরণীয়। এসব পুঁথিতে দেশীয় রং দিয়ে ছবি আঁকা হতো, যার প্রশংসা আধুনিক বিশ্বের শিল্পরসিকদের কাছ থেকেও পাওয়া যায়। দেশীয় রং ছিল অনেক উন্নত মানের। ফলে সেগুলো সহজে নষ্ট হতো না। এ জন্য ছবিগুলো হাজার বছর পরও চমৎকার ঝকঝকে রয়েছে।

মিজানুর রহমান, শিক্ষকধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকা