ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লাপিদের জয় দাবি, নেতানিয়াহুর কঠিন পথ আজ রাতে হরর মুভি দেখার প্ল্যান করছেন? দেখুন ভয় পেলে আপনার শরীরে কী কী ঘটে মনে হয় সেদিন শুটিং করলাম, এখন তারা দুনিয়ায় নেই… কুইজে কুইজে মুক্তিযুদ্ধকে জানল আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীরা ১৭ বছর বয়সী কিশোরের কোম্পানি মহাকাশের বড় সমস্যার সমাধান করেছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, হোটেল মালিককে জরিমানা হেরে গিয়ে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান নেতানিয়াহু, বিরোধীদের দাবি অনিয়মকারীদের সঙ্গে আঁতাত করেছেন সিইসি ও ইসি সচিব, অভিযোগ জামায়াতের বাংলাদেশের চাওয়া দুই শ রানের লক্ষ্য দেওয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ কী চায় শাহবাগে এনসিপির গণবিক্ষোভ সমাবেশ শুরু

‘পুতুলের মতো মেয়েটা আমাদের ছেড়ে চলে গেল’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘অনেক প্রার্থনা করেছি, মেয়েটা যেন সুস্থ হয়ে যায়। কিন্তু পুতুলের মতো মেয়েটা আমাদের ছেড়ে চলে গেল। অনেক চেষ্টা করেছি। কোনোভাবেই মেয়েটাকে বাঁচাতে পারলাম না।’

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া আট বছরের শিশু ঐশী দাসের বিষয়ে জানাতে গিয়ে কথাগুলো বলছিলেন শিশুটির চাচা মিটন দাস। আজ শুক্রবার সকালে নগরের উত্তর কাট্টলী বাংলাবাজার এলাকায় বাড়িতে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।

ঐশী দাসের মৃত্যু হয় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। সে কাট্টলী এলাকার একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা লিটন দাস কুয়েতপ্রবাসী। ঐশী ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া আরেক মেয়ে রুহি দাসকে নিয়ে কাট্টলীর বাড়িটিতে থাকেন মা লিপি দাস।

.

শুক্রবার সকালে বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শোকের মাতম চলছে। ঘরের সামনে জড়ো হয়েছেন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা। মেয়েকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তার মা লিপি দাস।

বাবা বিদেশ থেকে ফিরবেন, তাই ফ্রিজারে রাখা হয় ঐশীর মরদেহ। শুক্রবার সকালেই ফেরেন ঐশীর বাবা লিটন দাস। ঘরের সামনে এসেই তিনি মেয়ের মরদেহ দেখার জন্য আহাজারি করতে করতে ছুটে যান। এ সময় সেখানে উপস্থিত স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তর কাট্টলী সনদ দত্ত মহাশ্মশানে ঐশীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

ঐশীর চাচা মিটন দাসের সঙ্গে বাড়িতে কথা হয়। তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে ঐশীর মৃত্যুতে তার বাবা, মা ও বোন সবাই ভেঙে পড়েছেন। তাঁরা কেউই কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। মেয়েটি পরিবারের সবার কাছে অনেক বেশি প্রিয় ছিল। তার এভাবে চলে যাওয়া কেউই মেনে নিতে পারছেন না।

.

ডেঙ্গুতে ঐশীর মৃত্যুতে তার বাবা, মা ও বোন সবাই ভেঙে পড়েছেন। তাঁরা কেউই কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। মেয়েটি পরিবারের সবার কাছে অনেক বেশি প্রিয় ছিল। তার এভাবে চলে যাওয়া কেউই মেনে নিতে পারছেন না।

মিটন দাস, ঐশীর চাচা

.

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত সোমবার ঐশীর জ্বর দেখা দেয়। জ্বরের মাত্রা ছিল ১০৩ ডিগ্রি। এরপর দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান তার মা ও চাচা। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হলে তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। চিকিৎসকেরা ঐশীকে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পরামর্শ দেন।

পরে ঐশীকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। বাসায় এসে সে অল্প একটু ভাত খেয়েছিল। এর কিছুক্ষণ পরই বমি শুরু হয় তার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রথমে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকার রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ঐশীকে। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়।

.

ঐশীর চাচা মিটন দাস জানান, হাসপাতালটিতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) শয্যা খালি ছিল না। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বায়েজিদ এলাকার সাজিনাস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে ভর্তি করার পর তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঐশীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেড়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে চলতি বছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। ২০২৩ সালে জেলায় সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৮৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। চলতি বছরের গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার।

.

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৯২৪ জন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৩৬৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন কেবল সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে। এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৫। এর মধ্যে চলতি অক্টোবর মাসে মারা গেছেন ১৪ জন। ঐশী দাসের মৃত্যুর পর এ সংখ্যা ১৫।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

‘পুতুলের মতো মেয়েটা আমাদের ছেড়ে চলে গেল’

আপডেট সময় : ০৫:৪২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

‘অনেক প্রার্থনা করেছি, মেয়েটা যেন সুস্থ হয়ে যায়। কিন্তু পুতুলের মতো মেয়েটা আমাদের ছেড়ে চলে গেল। অনেক চেষ্টা করেছি। কোনোভাবেই মেয়েটাকে বাঁচাতে পারলাম না।’

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া আট বছরের শিশু ঐশী দাসের বিষয়ে জানাতে গিয়ে কথাগুলো বলছিলেন শিশুটির চাচা মিটন দাস। আজ শুক্রবার সকালে নগরের উত্তর কাট্টলী বাংলাবাজার এলাকায় বাড়িতে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।

ঐশী দাসের মৃত্যু হয় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। সে কাট্টলী এলাকার একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা লিটন দাস কুয়েতপ্রবাসী। ঐশী ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া আরেক মেয়ে রুহি দাসকে নিয়ে কাট্টলীর বাড়িটিতে থাকেন মা লিপি দাস।

.

শুক্রবার সকালে বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শোকের মাতম চলছে। ঘরের সামনে জড়ো হয়েছেন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা। মেয়েকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তার মা লিপি দাস।

বাবা বিদেশ থেকে ফিরবেন, তাই ফ্রিজারে রাখা হয় ঐশীর মরদেহ। শুক্রবার সকালেই ফেরেন ঐশীর বাবা লিটন দাস। ঘরের সামনে এসেই তিনি মেয়ের মরদেহ দেখার জন্য আহাজারি করতে করতে ছুটে যান। এ সময় সেখানে উপস্থিত স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তর কাট্টলী সনদ দত্ত মহাশ্মশানে ঐশীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

ঐশীর চাচা মিটন দাসের সঙ্গে বাড়িতে কথা হয়। তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে ঐশীর মৃত্যুতে তার বাবা, মা ও বোন সবাই ভেঙে পড়েছেন। তাঁরা কেউই কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। মেয়েটি পরিবারের সবার কাছে অনেক বেশি প্রিয় ছিল। তার এভাবে চলে যাওয়া কেউই মেনে নিতে পারছেন না।

.

ডেঙ্গুতে ঐশীর মৃত্যুতে তার বাবা, মা ও বোন সবাই ভেঙে পড়েছেন। তাঁরা কেউই কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। মেয়েটি পরিবারের সবার কাছে অনেক বেশি প্রিয় ছিল। তার এভাবে চলে যাওয়া কেউই মেনে নিতে পারছেন না।

মিটন দাস, ঐশীর চাচা

.

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত সোমবার ঐশীর জ্বর দেখা দেয়। জ্বরের মাত্রা ছিল ১০৩ ডিগ্রি। এরপর দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান তার মা ও চাচা। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হলে তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। চিকিৎসকেরা ঐশীকে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পরামর্শ দেন।

পরে ঐশীকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। বাসায় এসে সে অল্প একটু ভাত খেয়েছিল। এর কিছুক্ষণ পরই বমি শুরু হয় তার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রথমে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকার রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ঐশীকে। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়।

.

ঐশীর চাচা মিটন দাস জানান, হাসপাতালটিতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) শয্যা খালি ছিল না। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বায়েজিদ এলাকার সাজিনাস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে ভর্তি করার পর তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঐশীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেড়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে চলতি বছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। ২০২৩ সালে জেলায় সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৮৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। চলতি বছরের গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার।

.

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৯২৪ জন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৩৬৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন কেবল সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে। এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৫। এর মধ্যে চলতি অক্টোবর মাসে মারা গেছেন ১৪ জন। ঐশী দাসের মৃত্যুর পর এ সংখ্যা ১৫।