ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইউপি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দিলেন এমপি, ইউএনওর হাততালি সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির চালিকা শক্তি করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী ‘মাইরা ফেলার মতো কাজ তো করি নাই’: গুলির ঘটনায় আসিফ আকবর সিডনিতে কাল চালু হচ্ছে নতুন দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ‘সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে’ হুমকির পর কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যান ভাঙচুর চূড়ান্ত পর্বের টিকিট কাটল কৃষ্ণা-মাছুরার দল জাতীয় ত্বকী চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার ফল প্রকাশ, পুরস্কার বিতরণ ২০ নভেম্বর সংসারে সচ্ছলতা আনতে কিস্তিতে অটোরিকশা কেনেন আবদুল, কুপিয়ে হত্যা করে নিয়ে গেল দুর্বৃত্তরা স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ভালো লক্ষণ দেখছি না: জামায়াতের আমির খাওয়ার সময় অস্বাভাবিক ঘাম হয় কেন?

নদীর মাছ রক্ষায় গাইবান্ধায় জেলেদের সঙ্গে বন্ধুসভার মতবিনিময়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার কামারজানিতে ব্রহ্মপুত্র নদে বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে মাছ শিকার এবং চীনা জাল ব্যবহারের ফলে মাছসহ নদীর বিভিন্ন জলজ সম্পদ ধ্বংসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মৎস্যসম্পদ রক্ষা, অবৈধ পদ্ধতিতে মাছ আহরণ বন্ধ এবং জেলেদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সেখানে মতবিনিময় সভা করেছে গাইবান্ধা বন্ধুসভা। ২২ অক্টোবর বিকেলে সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট এলাকায় এ সভা হয়।

সভায় নদ-নদীর মাছ ও অন্যান্য জলজ সম্পদ সংরক্ষণ, মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় জেলেদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে মাছ শিকার, চীনা জাল বা শয়তান জালের ব্যবহার এবং এসব পদ্ধতির কারণে মাছের পোনা, ছোট মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।

.

বক্তারা বলেন, নদ-নদীতে অবৈধ ও ক্ষতিকর পদ্ধতিতে মাছ আহরণ বন্ধ করা না গেলে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হবে। এতে একদিকে যেমন নদীর জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে মাছের প্রাপ্যতা কমে জেলেদের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়বে। তাই মৎস্য আইন মেনে মাছ আহরণ, ক্ষতিকর জালের ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং নদীর পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, নদ-নদী শুধু মাছের উৎস নয়, বরং নদীকেন্দ্রিক মানুষের জীবন-জীবিকা, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নদীর মাছ ও জলজ সম্পদ রক্ষায় জেলেদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

.

এ বিষয়ে গাইবান্ধা বন্ধুসভার সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, ‘নদ-নদী ও জলজ সম্পদ আমাদের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য এবং জেলেদের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে মাছ শিকার এবং চীনা জাল ব্যবহারের মতো ক্ষতিকর পদ্ধতি নদীর মাছ ও জলজ পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। মাছের প্রজনন মৌসুমে আইন মেনে চলা, অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ করা এবং নদীদূষণ রোধে জেলেদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন হতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে নদীর মাছ ও জলজ সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব।’

.

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মেহেদী হাসান, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক তাওহিদা খন্দকার, লেখক ও শিক্ষক রঞ্জু খন্দকার, সামাজিক উন্নয়ন পদক্ষেপ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এম সাদ্দাম হোসেন ও প্রথম আলোর গাইবান্ধা প্রতিনিধি শাহাবুল শাহীন।

গাইবান্ধা বন্ধুসভার এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে নদ-নদী ও জলজ সম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি জেলে সম্প্রদায়কে সংরক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

নদীর মাছ রক্ষায় গাইবান্ধায় জেলেদের সঙ্গে বন্ধুসভার মতবিনিময়

আপডেট সময় : ০৬:৫০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

গাইবান্ধার কামারজানিতে ব্রহ্মপুত্র নদে বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে মাছ শিকার এবং চীনা জাল ব্যবহারের ফলে মাছসহ নদীর বিভিন্ন জলজ সম্পদ ধ্বংসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মৎস্যসম্পদ রক্ষা, অবৈধ পদ্ধতিতে মাছ আহরণ বন্ধ এবং জেলেদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সেখানে মতবিনিময় সভা করেছে গাইবান্ধা বন্ধুসভা। ২২ অক্টোবর বিকেলে সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট এলাকায় এ সভা হয়।

সভায় নদ-নদীর মাছ ও অন্যান্য জলজ সম্পদ সংরক্ষণ, মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় জেলেদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে মাছ শিকার, চীনা জাল বা শয়তান জালের ব্যবহার এবং এসব পদ্ধতির কারণে মাছের পোনা, ছোট মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।

.

বক্তারা বলেন, নদ-নদীতে অবৈধ ও ক্ষতিকর পদ্ধতিতে মাছ আহরণ বন্ধ করা না গেলে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হবে। এতে একদিকে যেমন নদীর জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে মাছের প্রাপ্যতা কমে জেলেদের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়বে। তাই মৎস্য আইন মেনে মাছ আহরণ, ক্ষতিকর জালের ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং নদীর পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, নদ-নদী শুধু মাছের উৎস নয়, বরং নদীকেন্দ্রিক মানুষের জীবন-জীবিকা, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নদীর মাছ ও জলজ সম্পদ রক্ষায় জেলেদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

.

এ বিষয়ে গাইবান্ধা বন্ধুসভার সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, ‘নদ-নদী ও জলজ সম্পদ আমাদের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য এবং জেলেদের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে মাছ শিকার এবং চীনা জাল ব্যবহারের মতো ক্ষতিকর পদ্ধতি নদীর মাছ ও জলজ পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। মাছের প্রজনন মৌসুমে আইন মেনে চলা, অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ করা এবং নদীদূষণ রোধে জেলেদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন হতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে নদীর মাছ ও জলজ সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব।’

.

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মেহেদী হাসান, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক তাওহিদা খন্দকার, লেখক ও শিক্ষক রঞ্জু খন্দকার, সামাজিক উন্নয়ন পদক্ষেপ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এম সাদ্দাম হোসেন ও প্রথম আলোর গাইবান্ধা প্রতিনিধি শাহাবুল শাহীন।

গাইবান্ধা বন্ধুসভার এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে নদ-নদী ও জলজ সম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি জেলে সম্প্রদায়কে সংরক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।