প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬। বাংলা: বাঘের প্রধান আবাসস্থল সুন্দরবন
- আপডেট সময় : ০৩:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলা: রয়েল বেঙ্গল টাইগার
∎ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
প্রশ্ন: বিড়ালকে কেন ‘বাঘের মাসি’ বলা হয়?
উত্তর: বাঘ মূলত মার্জার বা বিড়াল প্রজাতির সবচেয়ে বড় প্রাণী। বাঘের শারীরিক গঠন ও আচরণের সঙ্গে বিড়ালের অনেক মিল রয়েছে। এই জাতগত মিলের কারণেই লোকজ ভাষায় বিড়ালকে ‘বাঘের মাসি’ বলে ডাকা হয়।
প্রশ্ন: বাঘের গায়ের রঙের বর্ণনা দাও।
উত্তর: রয়েল বেঙ্গল টাইগারের গায়ের রং সাধারণত হলুদ থেকে গাঢ় কমলা হয়ে থাকে। এর সারা শরীরে কালো রঙের ডোরাকাটা দাগ থাকে, যা একে অনন্য সৌন্দর্য দান করে। বাঘের পেটের দিকটা হয় ধবধবে সাদা।
প্রশ্ন: বাঘের ওজন ও উচ্চতা সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: একটি পুরুষ বাঘের গড় ওজন ২২০ কেজি এবং বাঘিনীর গড় ওজন ১৪০ কেজি। কাঁধের দিকে একটি বাঘের উচ্চতা প্রায় ১০০ সেন্টিমিটারের মতো হয়। এটি বিড়াল প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী প্রাণী।
.
প্রশ্ন: বাঘ কত বছর বাঁচে এবং বাঘিনী কত সময় পর বাচ্চা দেয়?
উত্তর: বাঘ সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। বাঘিনী সাধারণত প্রতি তিন বছর অন্তর ৩টি থেকে ৪টি করে বাচ্চা দিয়ে থাকে। এই বাচ্চারা প্রায় এক বছর তাদের মায়ের সঙ্গে থাকে।
প্রশ্ন: বাঘ কীভাবে নিঃশব্দে চলাফেরা করতে পারে?
উত্তর: বাঘের পায়ের থাবার নিচের অংশ অত্যন্ত নরম ও পুরু। এই বিশেষ গঠনের কারণে বনের ভেতরে হাঁটা বা শিকার ধরার সময় বাঘের পায়ের কোনো শব্দ হয় না। ফলে সে নিঃশব্দে শিকারের খুব কাছে পৌঁছাতে পারে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের জাতীয় পশুর নাম কী এবং এটি কোথায় বাস করে?
উত্তর: বাংলাদেশের জাতীয় পশুর নাম রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এই বিশ্ববিখ্যাত প্রাণীটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে বসবাস করে। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশই এই বাঘের প্রধান আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।
প্রশ্ন: বাঘের প্রধান খাদ্যগুলো কী কী?
উত্তর: বাঘ মাংসাশী প্রাণী। সুন্দরবনের হরিণ, বুনো শূকর এবং বানরের মাংস বাঘের প্রধান খাদ্য। একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘ সাধারণত প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ কেজি পর্যন্ত কাঁচা মাংস খেয়ে থাকে।
.
প্রশ্ন: বাংলাদেশের জাতীয় পশুর নাম কী?
উত্তর: বাংলাদেশের জাতীয় পশুর নাম হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
প্রশ্ন: কোন কোন বৈশিষ্ট্য বাঘকে দক্ষ শিকারি বানিয়েছে?
উত্তর: নিচের বৈশিষ্ট্যগুলো বাঘকে দক্ষ শিকারি বানিয়েছে:
দৃষ্টি, শ্রবণ ও ঘ্রাণশক্তি: বাঘের দৃষ্টি, শ্রবণ ও ঘ্রাণশক্তি খুবই প্রখর।
শক্তিশালী থাবা ও নখর: তাদের আছে শক্তিশালী থাবা, যা নরম ও লোমযুক্ত হওয়ায় চলার সময় শব্দ হয় না। শিকার ধরার সময় থাবা থেকে নখর বেরিয়ে আসে।
দাঁত ও চোয়াল: খাবার চিবানোর জন্য এদের রয়েছে তীক্ষ্ণ ও ধারালো দাঁত আর মজবুত চোয়াল।
প্রশ্ন: রয়েল বেঙ্গল টাইগার কমে যাওয়ার কারণ কী?
উত্তর: প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানুষের শিকারের কারণে রয়েল বেঙ্গল টাইগার কমে যাচ্ছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে বাঘের জীবন বিপন্ন হয়। এ ছাড়া কিছু লোক চামড়া ও অন্যান্য প্রত্যঙ্গের লোভে বাঘ মেরে ফেলে। ফলে বাঘ এখন বিলুপ্তির পথে।
প্রশ্ন: বিড়ালকে বাঘের মাসি বলা হয় কেন?
উত্তর: বাঘ বিড়াল প্রজাতির সবচেয়ে বড় প্রাণী। এ কারণে বিড়ালকে বাঘের মাসি বলা হয়।
প্রশ্ন: বাঘের সাঁতারের ব্যাপারে কী বলা হয়?
উত্তর: বাঘ খুব ভালো সাঁতার কাটতে পারে। বাঘের সাঁতারের ব্যাপারে বলা হয়ে থাকে যে সে নদী বা খাল পার হওয়ার সময়ে ঠিক সোজাসুজি এগিয়ে যায়। যদি স্রোতের কারণে কিছুদূর সরে যায়, তবে আবার ঠিক আগের জায়গায় ফিরে আসে।
.
∎ পাঠ থেকে কে, কী, কখন, কোথায়, কেন, কীভাবে ইত্যাদি ব্যবহার করে প্রশ্ন তৈরি করো।
কে?: কে বাঘের মাসি হিসেবে পরিচিত?
কী?: বাঘের পেটের দিকের রং কী হয়ে থাকে?
কখন?: বাঘিনী সাধারণত কখন ৩-৪টি করে বাচ্চা দেয়?
কোথায়?: রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের কোথায় দেখা যায়?
কেন?: কেন বাঘের সংখ্যা দিন দিন কমছে?
কীভাবে?: শিকার ধরার সময় বাঘ কীভাবে তার নখর বের করে আনে?
∎ শব্দের বিপরীত শব্দ লিখে বাক্য তৈরি করো।
উত্তর
নরম—শক্ত: প্রচণ্ড রোদের তাপে মাটি শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেছে।
সুন্দর—বিশ্রী: রাস্তার পাশের নোংরা ডাস্টবিন থেকে বিশ্রী গন্ধ আসছে।
সোজা—বাঁকা: বাঁকা পথ ধরে গ্রামের দিকে যাওয়া যাবে।
তীক্ষ্ণ—ভোঁতা: দাদু তার ভোঁতা ছুরিতে ধার দিচ্ছেন।
মজবুত—দুর্বল: বয়সের ভারে লোকটি দুর্বল হয়ে গেছেন।
-
মো. সুজাউদ দৌলা, সহকারী অধ্যাপক
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা






















