ঢাকা ০১:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাবা-মেয়েকে বাড়ির আঙিনায় দাফন, মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি আহত স্ত্রী–ছেলেকে সর্বানন্দ ইউনিয়নের বিভিন্ন দুর্গামন্দিরে সাবেক চেয়ারম্যানের আর্থিক সহায়তা সরকারি দপ্তরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির এক লাখ নিয়োগ আটকে গেল, কী বলছে অর্থ বিভাগ থ্রিডি বায়োপ্রিন্টিংয়ে যেভাবে কৃত্রিম টিস্যু হয় সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে কনস্যুলেটের চিঠিতে কী আছে কুকুরের ডাকাডাকি শুনে ঘর থেকে বের হন ছাত্রদল নেতার ভাই, ফাঁকা গুলি ছুড়ে অপহরণ মাদক মামলার আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার দুই পুলিশ সদস্য আলো যখন মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রক: গল্পের শুরু একটি সবুজ শৈবাল থেকে ‘মুখ দেখাতে পারছি না’, যাচাইয়ে বাদ পড়ে তাঁদের দুঃসহ জীবন চীন কেন বিপুল পরিমাণে সোনা কিনছে? কাহিনী কী?

৬ ছেলের পাকা বাড়ি, তবু কারও কাছে ঠাঁই পাচ্ছিলেন মা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছয় ছেলের প্রত্যেকেরই রয়েছে পাকা বসতবাড়ি। কিন্তু ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা জয়নব ভানুর ঠাঁই হচ্ছিল না কারও ঘরেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নজরে এলে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত সেজ ছেলের ঘরে আশ্রয় পেলেন তিনি।

জয়নব ভানু চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের কাদরা পূর্বপাড়ার মৃত সৈয়দ আহম্মেদের স্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন ওই গ্রামে গিয়ে এ বিষয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নেন।

.

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে জয়নব ভানুর স্বামী মারা যান। চরম কষ্ট ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে ছয় ছেলে ও চার মেয়েকে বড় করে তোলেন তিনি। ছেলেরা সবাই প্রতিষ্ঠিত এবং তাঁদের প্রত্যেকেরই পাকা বাড়ি রয়েছে। কিন্তু সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জয়নব ভানুকে ঘরে নিতে অস্বীকৃতি জানান ছেলেরা। গত রোববার কুমিল্লা থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফেরেন জয়নব ভানু। ছেলেদের ভবনের সামনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও কোনো ছেলেই মাকে ঘরে নেননি।

খবর পেয়ে মেয়ে ঝর্ণা বেগম এসে অসুস্থ মাকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। একই গ্রামে ঝর্ণার শ্বশুরবাড়ি।

.

বিষয়টি জানাজানি হলে এবং সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর গতকাল বিকেলে ইউএনও মনিরা খাতুন কাদরা গ্রামে যান। পরে মেয়ে ঝর্ণা বেগমের বাড়ি থেকে জয়নব ভানুকে এনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বৈঠক বসান। প্রায় দুই ঘণ্টার পারিবারিক সমঝোতা শেষে সৌদিপ্রবাসী সেজ ছেলে আনোয়ার হোসেনের বাসায় বৃদ্ধা জয়নব ভানুকে তুলে দেওয়া হয়।

.

শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ছয় ছেলের পাকা ভবন থাকার পরও মায়ের জন্য একটি কক্ষে জায়গা হয়নি। আমরা পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে তাঁকে সেজ ছেলের ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। পুরো বিষয়টি তদারকিতে রাখব। দুই মাস পর আমি নিজে এসে আবার তাঁর খোঁজ নেব। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যকে এ বিষয়ে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

৬ ছেলের পাকা বাড়ি, তবু কারও কাছে ঠাঁই পাচ্ছিলেন মা

আপডেট সময় : ০৮:৫৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

ছয় ছেলের প্রত্যেকেরই রয়েছে পাকা বসতবাড়ি। কিন্তু ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা জয়নব ভানুর ঠাঁই হচ্ছিল না কারও ঘরেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নজরে এলে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত সেজ ছেলের ঘরে আশ্রয় পেলেন তিনি।

জয়নব ভানু চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের কাদরা পূর্বপাড়ার মৃত সৈয়দ আহম্মেদের স্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন ওই গ্রামে গিয়ে এ বিষয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নেন।

.

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে জয়নব ভানুর স্বামী মারা যান। চরম কষ্ট ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে ছয় ছেলে ও চার মেয়েকে বড় করে তোলেন তিনি। ছেলেরা সবাই প্রতিষ্ঠিত এবং তাঁদের প্রত্যেকেরই পাকা বাড়ি রয়েছে। কিন্তু সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জয়নব ভানুকে ঘরে নিতে অস্বীকৃতি জানান ছেলেরা। গত রোববার কুমিল্লা থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফেরেন জয়নব ভানু। ছেলেদের ভবনের সামনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও কোনো ছেলেই মাকে ঘরে নেননি।

খবর পেয়ে মেয়ে ঝর্ণা বেগম এসে অসুস্থ মাকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। একই গ্রামে ঝর্ণার শ্বশুরবাড়ি।

.

বিষয়টি জানাজানি হলে এবং সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর গতকাল বিকেলে ইউএনও মনিরা খাতুন কাদরা গ্রামে যান। পরে মেয়ে ঝর্ণা বেগমের বাড়ি থেকে জয়নব ভানুকে এনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বৈঠক বসান। প্রায় দুই ঘণ্টার পারিবারিক সমঝোতা শেষে সৌদিপ্রবাসী সেজ ছেলে আনোয়ার হোসেনের বাসায় বৃদ্ধা জয়নব ভানুকে তুলে দেওয়া হয়।

.

শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ছয় ছেলের পাকা ভবন থাকার পরও মায়ের জন্য একটি কক্ষে জায়গা হয়নি। আমরা পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে তাঁকে সেজ ছেলের ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। পুরো বিষয়টি তদারকিতে রাখব। দুই মাস পর আমি নিজে এসে আবার তাঁর খোঁজ নেব। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যকে এ বিষয়ে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’