ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পুজোর সাজে সাবেকি, না আধুনিক: মিমের আনারকলি, মন্দিরার বেনারসি, দীঘির কাঞ্চিপুরম, জয়ার সুতির শাড়ি কার লুক নজর কাড়ল সবচেয়ে বেশি ঢাকা থেকে ১৩৪ ফ্লাইট বাতিল-স্থগিতে ভোগান্তিতে ২০ হাজার ২৫৪ যাত্রী এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২ প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে যে চার নির্দেশনা দিল মাউশি বদলি নেমে অভিষেকে ৫ উইকেট রাকিবের; খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটের জয় জীবনে বরকত আসার ১০ উৎস সাবেক স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টা, গ্রেপ্তার যুবক গাড়িচাপায় হত্যাচেষ্টার শিকার অস্ট্রেলিয়ার নারী এমপি দুই পা-ই হারালেন কিশোর ছেলের মরদেহ পড়ে ছিল শিমখেতে, আহাজারি থামছে না মায়ের

‘ওয়্যারেবল এআই’ বন্ধু, নাকি নীরব গুপ্তচর?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৮:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সকাল ৮টা। অফিসের পথে বাসে বসে নুসরাত (ছদ্মনাম) হঠাৎ খেয়াল করলেন, তাঁর সহকর্মীর গলায় ঝোলানো ছোট্ট একটা পেনডেন্ট বা লকেট, যেটা আসলে কোনো গয়না নয়। ‘এটা কী?’ জিজ্ঞেস করতেই সহকর্মী হেসে বললেন, ‘এটা সারাক্ষণ শুনছে আমার আশেপাশের কথাবার্তা, আর দিনশেষে নিজে থেকেই একটা সারাংশ লিখে দেয়। কোন সভায় কী বলা হলো, কাকে কী প্রতিশ্রুতি দিলাম, সব।’ নুসরাত কিছুটা অবাক, কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে ভাবলেন, তাহলে তো এই যন্ত্র আমার কথাও শুনছে, অথচ আমার সম্মতিই নেয়নি।

.

এই ছোট্ট পেনডেন্টই আসলে প্রযুক্তি দুনিয়ার নতুন প্রবণতা। পরিধানযোগ্য এআই বা ওয়্যারেবল এআই। বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এখন স্মার্টফোনের পরের ধাপ হিসেবে এমন সব যন্ত্রে বিনিয়োগ করছে, যা সব সময় শরীরে পরিধেয় হয়ে থাকবে আর চারপাশের কথাবার্তা থেকে সাহায্য নিয়ে আসবে সরাসরি। একটি বড় প্রতিষ্ঠান এ বছরেই প্রায় এক কোটি এমন ডিভাইস বিক্রির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, আর তাদের নতুন স্মার্ট চশমার সিরিজও বাজারে আসছে; একের পর একেকটা মডেল এরই মধ্যে বাজারে এসেছে, আরও তিন-চারটা মডেল আসছে আগামী কয়েক মাসে। শুধু এই একটা প্রতিষ্ঠানই গত বছর প্রায় ৭০ লাখ স্মার্ট চশমা বিক্রি করেছে, যা বলে দেয় বাজারটা কতটা দ্রুত বড় হচ্ছে!

.

ফোনে হাত দিয়ে টাইপ করে প্রশ্ন করার বদলে এই ডিভাইসগুলো ধরে নেয়, ব্যবহারকারী পুরো দিনটাই এআইয়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবেন—কথা বলে, দেখিয়ে, এমনকি চোখের ইশারায়। সভার সারাংশ, কাজের তালিকা, এমনকি হারিয়ে যাওয়া তথ্য খুঁজে বের করা—সবই এখন সম্ভব শুধু গলায় ঝোলানো বা চোখে পরা একটা যন্ত্র দিয়ে। কর্মক্ষেত্রেও এখন প্রতিষ্ঠানগুলো এই ডিভাইস বিক্রির পরিকল্পনা করছে বড় পরিসরে, বিশেষ একটা গ্রাহক সেবার মাধ্যমে, যেখানে একেকটা প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে শতাধিক ডিভাইস কিনে নিজেদের কর্মীদের হাতে তুলে দিচ্ছে।

.

  • এই ডিভাইস শুধু আপনার কথা শোনে না, বরং আপনার আশপাশের প্রত্যেকের কথাও রেকর্ড করে, যাদের কেউই হয়তো জানেই না যে তাদের কথা কোথাও জমা বা রেকর্ড করা হচ্ছে।

  • আগে এ ধরনের ডিভাইস বাজারে এনে ব্যর্থ হয়েছে একাধিক প্রতিষ্ঠান, মূলত ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে আর ডিভাইসের বাস্তব উপযোগিতা প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায়।

  • সারাক্ষণ রেকর্ড হওয়া কথোপকথন কোথায় জমা থাকছে, কত দিন থাকছে, আর ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহৃত হতে পারে, তা নিয়ে স্বচ্ছ তথ্য এখনো অনেক ব্যবহারকারীর কাছেই অস্পষ্ট।

  • অফিস বা পারিবারিক পরিবেশে এমন ডিভাইস পরিধান করা মানুষ কার্যত প্রত্যেককে না জানিয়েই একধরনের নজরদারির অংশ বানিয়ে ফেলছে।

  • বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর হার্ডওয়্যার বিভাগ এখনো লোকসানে চলছে বছরের পর বছর ধরে। ফলে বাজার ধরে রাখার চাপ থেকে অনেক সময় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার দিকগুলো তাড়াহুড়োয় সামলানো হতে পারে।

  • সুবিধাটা যতই লোভনীয় হোক, চারপাশের প্রত্যেক মানুষের অজান্তে কথা রেকর্ড হওয়াটা মোটেও ছোট বিষয় নয়।

.

কয়েক বছর আগেও এ ধরনের একটা এআই পিন বাজারে এসেছিল, যেটা গলায় বা কাপড়ে আটকে সারাক্ষণ তথ্য দিত। কিন্তু গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ, বেশি গরম হয়ে যাওয়ার সমস্যা আর ব্যবহারকারীর প্রকৃত চাহিদার সঙ্গে না মেলার কারণে সেই প্রতিষ্ঠান বাজার থেকে কার্যত হারিয়ে যায়। এবারের পার্থক্য হলো, নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো একেবারে নতুন কিছু বানানোর বদলে আগে থেকেই জনপ্রিয় একটা পণ্যের ওপর ভিত্তি করে এগোচ্ছে, যেমন একটি প্রতিষ্ঠান তাদের স্মার্ট চশমার সঙ্গে বিখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ডের অংশীদারত্ব নিয়ে এগিয়েছে, যাতে মানুষ প্রযুক্তির চেয়ে আগে পণ্যটাকে সাধারণ দৈনন্দিন জিনিস হিসেবেই গ্রহণ করে। তবু প্রশ্নটা রয়েই যায়, চেহারা বদলালেও গোপনীয়তার মূল সমস্যাটা কি সত্যিই সমাধান হয়েছে, নাকি শুধু সুন্দর মোড়কে ঢাকা পড়েছে?

.

১. অফিসে এমন ডিভাইস ব্যবহারের আগে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা যাচাই করুন—কোন তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, আর কর্মী ছেড়ে দিলে সেই তথ্যের কী হবে, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

২. অন্যের সঙ্গে কথা বলার সময় ডিভাইসটি রেকর্ড করছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানিয়ে দেওয়াটাই ভদ্রতা আর অনেক জায়গায় আইনি বাধ্যবাধকতাও। সেটা মেনে ব্যবহার করুন।

৩. সংবেদনশীল আলোচনার সময় (পারিবারিক, চিকিৎসা বা আর্থিক বিষয়) ডিভাইসটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

সেদিন বিকেলে নুসরাত অফিস থেকে ফেরার পথে ঠিক করলেন, এমন কোনো ডিভাইস কিনলেও প্রথমেই বন্ধুদের জানিয়ে রাখবেন, ‘আমার সঙ্গে কথা বললে হয়তো এআই শুনছে আর রেকর্ড করছে, সাবধান।’ কয়েক দিন পর তিনি নিজেও একটা স্মার্ট চশমা কিনলেন, কিন্তু প্রথম শর্ত হিসেবে ঠিক করলেন, কোনো ব্যক্তিগত আলোচনায় বসার আগে সেটা খুলে রাখবেন।

তাহলে এই সারাক্ষণ শোনা যন্ত্র কি জীবনের বন্ধু, নাকি আমাদের গোপনীয়তার শত্রু? দুটোই আসলে সত্যি হতে পারে একসঙ্গে। প্রশ্নটা প্রযুক্তির নয়, প্রশ্নটা হলো, আমরা কাকে কতটা শোনার অনুমতি দিচ্ছি, আর কাকে দিচ্ছি না।

লেখক: টেক ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

‘ওয়্যারেবল এআই’ বন্ধু, নাকি নীরব গুপ্তচর?

আপডেট সময় : ০৬:১৮:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

সকাল ৮টা। অফিসের পথে বাসে বসে নুসরাত (ছদ্মনাম) হঠাৎ খেয়াল করলেন, তাঁর সহকর্মীর গলায় ঝোলানো ছোট্ট একটা পেনডেন্ট বা লকেট, যেটা আসলে কোনো গয়না নয়। ‘এটা কী?’ জিজ্ঞেস করতেই সহকর্মী হেসে বললেন, ‘এটা সারাক্ষণ শুনছে আমার আশেপাশের কথাবার্তা, আর দিনশেষে নিজে থেকেই একটা সারাংশ লিখে দেয়। কোন সভায় কী বলা হলো, কাকে কী প্রতিশ্রুতি দিলাম, সব।’ নুসরাত কিছুটা অবাক, কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে ভাবলেন, তাহলে তো এই যন্ত্র আমার কথাও শুনছে, অথচ আমার সম্মতিই নেয়নি।

.

এই ছোট্ট পেনডেন্টই আসলে প্রযুক্তি দুনিয়ার নতুন প্রবণতা। পরিধানযোগ্য এআই বা ওয়্যারেবল এআই। বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এখন স্মার্টফোনের পরের ধাপ হিসেবে এমন সব যন্ত্রে বিনিয়োগ করছে, যা সব সময় শরীরে পরিধেয় হয়ে থাকবে আর চারপাশের কথাবার্তা থেকে সাহায্য নিয়ে আসবে সরাসরি। একটি বড় প্রতিষ্ঠান এ বছরেই প্রায় এক কোটি এমন ডিভাইস বিক্রির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, আর তাদের নতুন স্মার্ট চশমার সিরিজও বাজারে আসছে; একের পর একেকটা মডেল এরই মধ্যে বাজারে এসেছে, আরও তিন-চারটা মডেল আসছে আগামী কয়েক মাসে। শুধু এই একটা প্রতিষ্ঠানই গত বছর প্রায় ৭০ লাখ স্মার্ট চশমা বিক্রি করেছে, যা বলে দেয় বাজারটা কতটা দ্রুত বড় হচ্ছে!

.

ফোনে হাত দিয়ে টাইপ করে প্রশ্ন করার বদলে এই ডিভাইসগুলো ধরে নেয়, ব্যবহারকারী পুরো দিনটাই এআইয়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবেন—কথা বলে, দেখিয়ে, এমনকি চোখের ইশারায়। সভার সারাংশ, কাজের তালিকা, এমনকি হারিয়ে যাওয়া তথ্য খুঁজে বের করা—সবই এখন সম্ভব শুধু গলায় ঝোলানো বা চোখে পরা একটা যন্ত্র দিয়ে। কর্মক্ষেত্রেও এখন প্রতিষ্ঠানগুলো এই ডিভাইস বিক্রির পরিকল্পনা করছে বড় পরিসরে, বিশেষ একটা গ্রাহক সেবার মাধ্যমে, যেখানে একেকটা প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে শতাধিক ডিভাইস কিনে নিজেদের কর্মীদের হাতে তুলে দিচ্ছে।

.

  • এই ডিভাইস শুধু আপনার কথা শোনে না, বরং আপনার আশপাশের প্রত্যেকের কথাও রেকর্ড করে, যাদের কেউই হয়তো জানেই না যে তাদের কথা কোথাও জমা বা রেকর্ড করা হচ্ছে।

  • আগে এ ধরনের ডিভাইস বাজারে এনে ব্যর্থ হয়েছে একাধিক প্রতিষ্ঠান, মূলত ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে আর ডিভাইসের বাস্তব উপযোগিতা প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায়।

  • সারাক্ষণ রেকর্ড হওয়া কথোপকথন কোথায় জমা থাকছে, কত দিন থাকছে, আর ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহৃত হতে পারে, তা নিয়ে স্বচ্ছ তথ্য এখনো অনেক ব্যবহারকারীর কাছেই অস্পষ্ট।

  • অফিস বা পারিবারিক পরিবেশে এমন ডিভাইস পরিধান করা মানুষ কার্যত প্রত্যেককে না জানিয়েই একধরনের নজরদারির অংশ বানিয়ে ফেলছে।

  • বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর হার্ডওয়্যার বিভাগ এখনো লোকসানে চলছে বছরের পর বছর ধরে। ফলে বাজার ধরে রাখার চাপ থেকে অনেক সময় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার দিকগুলো তাড়াহুড়োয় সামলানো হতে পারে।

  • সুবিধাটা যতই লোভনীয় হোক, চারপাশের প্রত্যেক মানুষের অজান্তে কথা রেকর্ড হওয়াটা মোটেও ছোট বিষয় নয়।

.

কয়েক বছর আগেও এ ধরনের একটা এআই পিন বাজারে এসেছিল, যেটা গলায় বা কাপড়ে আটকে সারাক্ষণ তথ্য দিত। কিন্তু গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ, বেশি গরম হয়ে যাওয়ার সমস্যা আর ব্যবহারকারীর প্রকৃত চাহিদার সঙ্গে না মেলার কারণে সেই প্রতিষ্ঠান বাজার থেকে কার্যত হারিয়ে যায়। এবারের পার্থক্য হলো, নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো একেবারে নতুন কিছু বানানোর বদলে আগে থেকেই জনপ্রিয় একটা পণ্যের ওপর ভিত্তি করে এগোচ্ছে, যেমন একটি প্রতিষ্ঠান তাদের স্মার্ট চশমার সঙ্গে বিখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ডের অংশীদারত্ব নিয়ে এগিয়েছে, যাতে মানুষ প্রযুক্তির চেয়ে আগে পণ্যটাকে সাধারণ দৈনন্দিন জিনিস হিসেবেই গ্রহণ করে। তবু প্রশ্নটা রয়েই যায়, চেহারা বদলালেও গোপনীয়তার মূল সমস্যাটা কি সত্যিই সমাধান হয়েছে, নাকি শুধু সুন্দর মোড়কে ঢাকা পড়েছে?

.

১. অফিসে এমন ডিভাইস ব্যবহারের আগে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা যাচাই করুন—কোন তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, আর কর্মী ছেড়ে দিলে সেই তথ্যের কী হবে, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

২. অন্যের সঙ্গে কথা বলার সময় ডিভাইসটি রেকর্ড করছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানিয়ে দেওয়াটাই ভদ্রতা আর অনেক জায়গায় আইনি বাধ্যবাধকতাও। সেটা মেনে ব্যবহার করুন।

৩. সংবেদনশীল আলোচনার সময় (পারিবারিক, চিকিৎসা বা আর্থিক বিষয়) ডিভাইসটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

সেদিন বিকেলে নুসরাত অফিস থেকে ফেরার পথে ঠিক করলেন, এমন কোনো ডিভাইস কিনলেও প্রথমেই বন্ধুদের জানিয়ে রাখবেন, ‘আমার সঙ্গে কথা বললে হয়তো এআই শুনছে আর রেকর্ড করছে, সাবধান।’ কয়েক দিন পর তিনি নিজেও একটা স্মার্ট চশমা কিনলেন, কিন্তু প্রথম শর্ত হিসেবে ঠিক করলেন, কোনো ব্যক্তিগত আলোচনায় বসার আগে সেটা খুলে রাখবেন।

তাহলে এই সারাক্ষণ শোনা যন্ত্র কি জীবনের বন্ধু, নাকি আমাদের গোপনীয়তার শত্রু? দুটোই আসলে সত্যি হতে পারে একসঙ্গে। প্রশ্নটা প্রযুক্তির নয়, প্রশ্নটা হলো, আমরা কাকে কতটা শোনার অনুমতি দিচ্ছি, আর কাকে দিচ্ছি না।

লেখক: টেক ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর