ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
একঝলক (১৯ অক্টোবর ২০২৬) কলকাতায় বিভিন্ন মণ্ডপের সামনে বইয়ের স্টল ভাঙচুর, হাইকোর্টে মামলা করল সিপিএম সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে আবার রিয়াদের ফ্লাইট চলাচল শুরু করা হবে: বিমানমন্ত্রী জুনে সিএনএন ছাড়ছেন ক্রিশ্চিয়ান আমানপুর সব ধর্মের মানুষ এক হয়ে কাজ করলে দেশ এগিয়ে যাবে: প্রধানমন্ত্রী সরকার পতন নয়, অবাধ নির্বাচন চাই: বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সঙ্গে তুলনার জবাবে শশী থারুর উত্তাল ফ্রান্স, কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি ৯ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩, মব সহিংসতায় ১৮৭: এইচআরএসএস বন্দিতালিকায় দুজনের নাম থাকলেও শাস্তির তথ্য কেন ঊহ্য রাখা হলো, প্রশ্ন ঢাকার আফগানিস্তানের কাছে ১৫৮ রানের বড় ব্যবধানে হারল জিম্বাবুয়ে

৯ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩, মব সহিংসতায় ১৮৭: এইচআরএসএস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ১ হাজার ১৩টি ঘটনায় ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৪৭৩ জন। একই সময়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৩৯৮টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৭ জন। কারাগারে মারা গেছেন ৯৫ জন বন্দী; আর নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ৫১৮ জন সাংবাদিক।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ১৬টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ এবং সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। সোমবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক সহিংসতার ৯১ শতাংশই বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে ঘটেছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৩৪২টি ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ২ হাজার ৬৩২ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ৩২১টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১ জন, আহত ২ হাজার ১৯০ জন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক ৪০২টি সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩ জন, আহত ২ হাজার ৬২৩ জন। নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ছয় শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩ জনের মধ্যে বিএনপির ৪৬, জামায়াতের ৮ ও আওয়ামী লীগের ৬ জন। এ ছাড়া ১২ জনের রাজনৈতিক পরিচয় অজানা বা তাঁরা অন্যান্য দলের সদস্য।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ৯ মাসে ২ হাজার ৪০৪ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৫৭ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন; ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৯ জনকে। একই সময়ে ১ হাজার ৮১০ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের মধ্যে অন্তত ৪৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছে। শ্রমিক নির্যাতনের ৫৮২টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪৫ জন, আহত ১ হাজার ২৬৩ জন। কর্মক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও সুরক্ষাসামগ্রীর অভাবে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৩৯০ জন শ্রমিক। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলায় ৬২ জন আহত হয়েছেন; ২১টি মন্দির, ২০টি প্রতিমা ও ৪৭টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের হামলায় নিহত হয়েছেন ১৩ জন, আহত ৩৯ জন। এ ছাড়া নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডের ৪৬৫টি ঘটনায় ৪৯১টি লাশ উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে সংগঠনটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত, নির্যাতন, গুলিবর্ষণ ও কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে অন্তত একটি গুম ও একজনকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন ও হয়রানির ২৮৮টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৯৭ জন, লাঞ্ছিত ৮৭ জন এবং হুমকির মুখে পড়েছেন ৭৭ জন। ২০ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া সভা-সমাবেশে বাধার ৫৮টি ঘটনায় ৪৩৯ জন আহত ও ৪৬ জন আটক হয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ২৭০টির বেশি মামলায় ৫ হাজার ৮০৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে; অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৩২ হাজার ৪৩৩ জনকে।

এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং হেফাজতে ও কারাগারে মৃত্যু প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

৯ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩, মব সহিংসতায় ১৮৭: এইচআরএসএস

আপডেট সময় : ০২:০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ১ হাজার ১৩টি ঘটনায় ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৪৭৩ জন। একই সময়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৩৯৮টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৭ জন। কারাগারে মারা গেছেন ৯৫ জন বন্দী; আর নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ৫১৮ জন সাংবাদিক।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ১৬টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ এবং সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। সোমবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক সহিংসতার ৯১ শতাংশই বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে ঘটেছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৩৪২টি ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ২ হাজার ৬৩২ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ৩২১টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১ জন, আহত ২ হাজার ১৯০ জন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক ৪০২টি সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩ জন, আহত ২ হাজার ৬২৩ জন। নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ছয় শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩ জনের মধ্যে বিএনপির ৪৬, জামায়াতের ৮ ও আওয়ামী লীগের ৬ জন। এ ছাড়া ১২ জনের রাজনৈতিক পরিচয় অজানা বা তাঁরা অন্যান্য দলের সদস্য।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ৯ মাসে ২ হাজার ৪০৪ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৫৭ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন; ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৯ জনকে। একই সময়ে ১ হাজার ৮১০ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের মধ্যে অন্তত ৪৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছে। শ্রমিক নির্যাতনের ৫৮২টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪৫ জন, আহত ১ হাজার ২৬৩ জন। কর্মক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও সুরক্ষাসামগ্রীর অভাবে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৩৯০ জন শ্রমিক। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলায় ৬২ জন আহত হয়েছেন; ২১টি মন্দির, ২০টি প্রতিমা ও ৪৭টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের হামলায় নিহত হয়েছেন ১৩ জন, আহত ৩৯ জন। এ ছাড়া নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডের ৪৬৫টি ঘটনায় ৪৯১টি লাশ উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে সংগঠনটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত, নির্যাতন, গুলিবর্ষণ ও কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে অন্তত একটি গুম ও একজনকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন ও হয়রানির ২৮৮টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৯৭ জন, লাঞ্ছিত ৮৭ জন এবং হুমকির মুখে পড়েছেন ৭৭ জন। ২০ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া সভা-সমাবেশে বাধার ৫৮টি ঘটনায় ৪৩৯ জন আহত ও ৪৬ জন আটক হয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ২৭০টির বেশি মামলায় ৫ হাজার ৮০৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে; অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৩২ হাজার ৪৩৩ জনকে।

এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং হেফাজতে ও কারাগারে মৃত্যু প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।