ঢাকা ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জেনে নিন, সর্বোচ্চ বেহেশত ‘ফেরদাউস’ পাওয়ার ৫ আমল একঝলক (১৯ অক্টোবর ২০২৬) কলকাতায় বিভিন্ন মণ্ডপের সামনে বইয়ের স্টল ভাঙচুর, হাইকোর্টে মামলা করল সিপিএম সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে আবার রিয়াদের ফ্লাইট চলাচল শুরু করা হবে: বিমানমন্ত্রী জুনে সিএনএন ছাড়ছেন ক্রিশ্চিয়ান আমানপুর সব ধর্মের মানুষ এক হয়ে কাজ করলে দেশ এগিয়ে যাবে: প্রধানমন্ত্রী সরকার পতন নয়, অবাধ নির্বাচন চাই: বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সঙ্গে তুলনার জবাবে শশী থারুর উত্তাল ফ্রান্স, কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি ৯ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩, মব সহিংসতায় ১৮৭: এইচআরএসএস বন্দিতালিকায় দুজনের নাম থাকলেও শাস্তির তথ্য কেন ঊহ্য রাখা হলো, প্রশ্ন ঢাকার

পদপিষ্টের ঘটনার শোক কাটিয়ে মহা অষ্টমীর উৎসব কলকাতায়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন পূজামণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর থমকে গিয়েছিল কলকাতার দুর্গাপূজার স্বাভাবিক ছন্দ। তবে দুই দিনের শোক কাটিয়ে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সোমবার মহা অষ্টমীতে আবারও শারদীয় উৎসবে মেতে উঠেছেন তিলোত্তমা নগরীর বাসিন্দারা।

শোকের আবহ কিছুটা কাটলেও মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা নিয়ে এখনো উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। এ ঘটনার দায় কার, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তর্কবিতর্ক। বিরোধীরা রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত গাফিলতিকে দায়ী করেছে। অন্যদিকে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস এ ঘটনায় বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ব্যর্থতা রাজ্য সরকারের। এই মৃত্যু এড়ানো যেত। সরকার আগে থেকে ব্যবস্থা নিলে এমন ঘটনা ঘটত না।

তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও বিধায়ক কুণাল ঘোষের বক্তব্য, এখন লোকদেখানো নাটক শুরু করেছে রাজ্য সরকার। পূজা কমিটির মাথায় যাঁরা আছেন, তাঁদের কেন গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ?

যদিও ঘটনার পর চোরবাগান পূজা কমিটির চেয়ারম্যান ও বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝাসহ সাতজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে মাইকে দেওয়া একটি ঘোষণাই চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। সে সময় বৃষ্টি শুরু হলে পূজা কমিটির পক্ষ থেকে মাইকে ঘোষণা করা হয়, ‘প্যান্ডেলের অবস্থা খারাপ, ভেঙে বসে যেতে পারে। আপনারা সবাই দ্রুত বেরিয়ে যান, পদপিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ এই সতর্কবার্তা শোনার পর মণ্ডপে উপস্থিত দর্শনার্থীরা দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেন। এর জেরেই ভিড়ের চাপে পিষ্ট হয়ে শিশুসহ ১৯ জনের করুণ মৃত্যু হয়। দর্শনার্থীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত ছিলেন না।

এসব শোক ও বিতর্কের আবহেই সোমবার উদ্‌যাপিত হয় বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের মহা অষ্টমী। রাজ্যজুড়ে এবার মোট ৫৭ হাজার ৪০০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পূজামণ্ডপের সংখ্যা একলাফে ১২ হাজার ৪০০টি বেড়েছে। এ বছর আর্থিকভাবে দুর্বল পূজা কমিটিগুলোকে ১ লাখ রুপি করে অনুদান দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তবে বড় বাজেটের প্রায় ২০০টি পূজা কমিটি সরকারি সহায়তা প্রত্যাখ্যান করায় সেই অর্থ দুর্বল কমিটিগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। গত বছর অনুদানের পরিমাণ ছিল কমিটিপ্রতি ১ লাখ ১০ হাজার রুপি।

দুর্ঘটনার ছায়া থাকলেও বরাবরের মতো এবারও কলকাতা ও আশপাশের পূজায় থিমের লড়াইয়ে কোনো কমতি নেই। বিভিন্ন ক্লাবের মধ্যে চলছে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতা। এ বছর মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কলকাতার বালিগঞ্জ সমাজসেবী সংঘ, রাসবিহারীর লেক ইয়ুথ কর্নার এবং টালিগঞ্জের তিলকনগর সর্বজনীন উত্তম কুমারকে নিয়ে বিশেষ থিম তৈরি করেছে। এ ছাড়া আরজি কর হাসপাতালের নারী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের (অভয়া–কাণ্ড) প্রতিবাদী রূপ ফুটিয়ে তুলেছে নরেন্দ্রপুর এলাচি রামচন্দ্রপুর সর্বজনীন ও টালিগঞ্জ নেতাজি জাতীয় সেবাদল। অন্যদিকে ঝাড়গ্রামের গিধনী স্পোর্টিং ক্লাবের মণ্ডপে স্থান পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা নির্বাচনী প্রচারের সময় স্থানীয় এক মহাসড়কের পাশের দোকান থেকে ১০ টাকার ঝালমুড়ি খাওয়ার বাস্তব দৃশ্যটি।

এদিকে কলকাতার সেরা পূজামণ্ডপ নির্বাচনে সরেজমিন সমীক্ষা চালিয়ে সাতটি মণ্ডপকে সম্মাননা দিয়েছে আনন্দবাজার ডটকম। সেরা সাতটি পূজামণ্ডপ হলো—উত্তর কলকাতা সর্বজনীন, নাকতলা উদয়ন সংঘ, আলিপুর সর্বজনীন, দমদম পার্ক ভারত চক্র, সল্টলেকের এফডি ব্লক, বেহালা ইয়ংমেন্স অ্যাসোসিয়েশন ও দমদম পার্ক তরুণ সংঘ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

পদপিষ্টের ঘটনার শোক কাটিয়ে মহা অষ্টমীর উৎসব কলকাতায়

আপডেট সময় : ০১:২৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন পূজামণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর থমকে গিয়েছিল কলকাতার দুর্গাপূজার স্বাভাবিক ছন্দ। তবে দুই দিনের শোক কাটিয়ে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সোমবার মহা অষ্টমীতে আবারও শারদীয় উৎসবে মেতে উঠেছেন তিলোত্তমা নগরীর বাসিন্দারা।

শোকের আবহ কিছুটা কাটলেও মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা নিয়ে এখনো উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। এ ঘটনার দায় কার, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তর্কবিতর্ক। বিরোধীরা রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত গাফিলতিকে দায়ী করেছে। অন্যদিকে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস এ ঘটনায় বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ব্যর্থতা রাজ্য সরকারের। এই মৃত্যু এড়ানো যেত। সরকার আগে থেকে ব্যবস্থা নিলে এমন ঘটনা ঘটত না।

তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও বিধায়ক কুণাল ঘোষের বক্তব্য, এখন লোকদেখানো নাটক শুরু করেছে রাজ্য সরকার। পূজা কমিটির মাথায় যাঁরা আছেন, তাঁদের কেন গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ?

যদিও ঘটনার পর চোরবাগান পূজা কমিটির চেয়ারম্যান ও বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝাসহ সাতজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে মাইকে দেওয়া একটি ঘোষণাই চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। সে সময় বৃষ্টি শুরু হলে পূজা কমিটির পক্ষ থেকে মাইকে ঘোষণা করা হয়, ‘প্যান্ডেলের অবস্থা খারাপ, ভেঙে বসে যেতে পারে। আপনারা সবাই দ্রুত বেরিয়ে যান, পদপিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ এই সতর্কবার্তা শোনার পর মণ্ডপে উপস্থিত দর্শনার্থীরা দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেন। এর জেরেই ভিড়ের চাপে পিষ্ট হয়ে শিশুসহ ১৯ জনের করুণ মৃত্যু হয়। দর্শনার্থীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত ছিলেন না।

এসব শোক ও বিতর্কের আবহেই সোমবার উদ্‌যাপিত হয় বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের মহা অষ্টমী। রাজ্যজুড়ে এবার মোট ৫৭ হাজার ৪০০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পূজামণ্ডপের সংখ্যা একলাফে ১২ হাজার ৪০০টি বেড়েছে। এ বছর আর্থিকভাবে দুর্বল পূজা কমিটিগুলোকে ১ লাখ রুপি করে অনুদান দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তবে বড় বাজেটের প্রায় ২০০টি পূজা কমিটি সরকারি সহায়তা প্রত্যাখ্যান করায় সেই অর্থ দুর্বল কমিটিগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। গত বছর অনুদানের পরিমাণ ছিল কমিটিপ্রতি ১ লাখ ১০ হাজার রুপি।

দুর্ঘটনার ছায়া থাকলেও বরাবরের মতো এবারও কলকাতা ও আশপাশের পূজায় থিমের লড়াইয়ে কোনো কমতি নেই। বিভিন্ন ক্লাবের মধ্যে চলছে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতা। এ বছর মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কলকাতার বালিগঞ্জ সমাজসেবী সংঘ, রাসবিহারীর লেক ইয়ুথ কর্নার এবং টালিগঞ্জের তিলকনগর সর্বজনীন উত্তম কুমারকে নিয়ে বিশেষ থিম তৈরি করেছে। এ ছাড়া আরজি কর হাসপাতালের নারী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের (অভয়া–কাণ্ড) প্রতিবাদী রূপ ফুটিয়ে তুলেছে নরেন্দ্রপুর এলাচি রামচন্দ্রপুর সর্বজনীন ও টালিগঞ্জ নেতাজি জাতীয় সেবাদল। অন্যদিকে ঝাড়গ্রামের গিধনী স্পোর্টিং ক্লাবের মণ্ডপে স্থান পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা নির্বাচনী প্রচারের সময় স্থানীয় এক মহাসড়কের পাশের দোকান থেকে ১০ টাকার ঝালমুড়ি খাওয়ার বাস্তব দৃশ্যটি।

এদিকে কলকাতার সেরা পূজামণ্ডপ নির্বাচনে সরেজমিন সমীক্ষা চালিয়ে সাতটি মণ্ডপকে সম্মাননা দিয়েছে আনন্দবাজার ডটকম। সেরা সাতটি পূজামণ্ডপ হলো—উত্তর কলকাতা সর্বজনীন, নাকতলা উদয়ন সংঘ, আলিপুর সর্বজনীন, দমদম পার্ক ভারত চক্র, সল্টলেকের এফডি ব্লক, বেহালা ইয়ংমেন্স অ্যাসোসিয়েশন ও দমদম পার্ক তরুণ সংঘ।