ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলিম পরীক্ষা ২০২৮, নম্বর বণ্টনসহ নতুন সিলেবাস প্রকাশ ইশরাককে পদত্যাগ করতে বলার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী অন্যদের কী বার্তা দিলেন? ফ্রান্সে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ‘চট্টগ্রামের রবিন থেকে গিটারসম্রাট, আইয়ুব বাচ্চুর জীবনই তো সিনেমা!’ হাত–পা বেঁধে আটকে রাখা হয় একটি ঘরে, খেতে দেওয়া হয় কলা–পাউরুটি ফেসবুকে উসকানি দিয়ে হত্যার ঘটনায় জবাবদিহির বাইরেই থাকবে মেটা? অস্বীকার, প্রতিবাদ, হুঁশিয়ারি—শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন ইশরাক ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশ থেকে ফেরত নিতে আবার নির্দেশ দিলেন আসামের হাইকোর্ট পূজা দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নারীর মৃত্যু, ‘আনন্দের সময়ে পরিবারটিতে বিষাদ নেমে এল’ খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত মানুষের পাশে শি

কোহলিকে প্রথম দেখায় কেন ‘অহংকারী ও দাম্ভিক’ মনে হয়েছিল ডি ভিলিয়ার্সের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিরাট কোহলি ও এবি ডি ভিলিয়ার্স। একজন ভারতের ক্রিকেটের মহাতারকা, অন্যজন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি। ক্রিকেট মাঠে দুজনের রসায়ন ছিল দেখার মতো। মাঠের বাইরেও তাঁদের বন্ধুত্বের গল্প কম মধুর নয়। অথচ এই ডি ভিলিয়ার্সই কিনা প্রথম দেখায় কোহলিকে মনে করেছিলেন ‘অহংকারী ও দাম্ভিক’!

শুনে অবাক হচ্ছেন? হওয়ারই কথা। তবে কথাটা ডি ভিলিয়ার্স নিজেই বলেছেন। শুধু তা-ই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়কের বিশ্বাস, কোহলিও তাঁর এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত হবেন।

সম্প্রতি প্রখর গুপ্তর একটি পডকাস্টে কোহলির সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের স্মৃতিচারণা করেছেন ডি ভিলিয়ার্স। সেখানেই উঠে এসেছে ভারতীয় তারকাকে নিয়ে তাঁর প্রথম ধারণার কথা।

ডি ভিলিয়ার্সকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কোহলিকে প্রথম দেখায় সত্যিই কি তাঁর অহংকারী ও দাম্ভিক মনে হয়েছিল? উত্তরে কোনো রাখঢাক করেননি তিনি, ‘হ্যাঁ। আমার মনে হয়, সে–‍ও (কোহলি) এ ব্যাপারে একমত হবে।’

কিন্তু কোহলিকে কেন এমন মনে হয়েছিল ডি ভিলিয়ার্সের?

আসলে অহংকার আর আত্মবিশ্বাসের মধ্যে একটা সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। কখনো কখনো প্রবল আত্মবিশ্বাসকেও অহংকার বলে ভুল হয়। কোহলির বেলায় ডি ভিলিয়ার্সেরও সেটাই হয়েছিল।সেই সময়ের কোহলিকে নিয়ে ডি ভিলিয়ার্স বলেছেন, ‘ওর মধ্যে আত্মবিশ্বাস ছিল প্রচুর। ও সব সময় এভাবেই ক্রিকেট খেলেছে। কখনো কখনো মানুষ সেটাকে ভুল বোঝে। আমার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছিল। প্রথম দেখায় ওকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছিল।’

কোহলির সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের সেই স্মৃতি অবশ্য এখন কিছুটা রসিকতার সুরেই বলেন ডি ভিলিয়ার্স। তাঁর কথায়, ‘এটা ছিল আমার প্রথম ধারণা। আমি যখন কথাটা বলি, তখন একটু মজা করেই বলি। তবে আমার মনে হয়, কোহলিও এতে একমত হবে। ১৯, ২০ কিংবা ২১ বছর বয়সে ও ছিল প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী এক তরুণ। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কথা বলছি।’

ডি ভিলিয়ার্স অবশ্য কোহলির সেই আত্মবিশ্বাসের মধ্যে খারাপ কিছু দেখেন না। বরং তাঁর মতে, বড় ক্রিকেটার হয়ে ওঠার জন্য এমন আত্মবিশ্বাস প্রয়োজন।

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই ব্যাটসম্যান বলেছেন, ‘বড় সাফল্য পেতে হলে এমন আত্মবিশ্বাস দরকার। নিজের সামর্থ্যের ওপর প্রবল বিশ্বাস থাকতে হবে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ শুধু শেখে, কীভাবে সেই আত্মবিশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।’

কোহলির ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটেছে বলে মনে করেন ডি ভিলিয়ার্স। বয়স বেড়েছে, অভিজ্ঞতা বেড়েছে, ক্রিকেটে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে অনেক ওপরে উঠেছেন। সেই সঙ্গে বদলেছে তাঁর ব্যক্তিত্বও।ডি ভিলিয়ার্স বলেছেন, ‘বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওর সেই ব্যাপারটা কমে এসেছে। মানুষ ও ক্রিকেটার হিসেবে ও আরও পরিণত ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে। আমার মনে হয়, তরুণ বয়সে ওর অনেক কিছু প্রমাণ করার ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই তাগিদও কমেছে। অন্যদের সামনে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখানোর প্রয়োজনীয়তাও আর অনুভব করেনি। এভাবেই ও বদলে গেছে।’

কোহলি আর ডি ভিলিয়ার্সের বন্ধুত্বের শুরু ক্রিকেট মাঠে প্রথম পরিচয়ের পর থেকেই। তবে সেই সম্পর্ক সত্যিকার অর্থে গভীর হয় আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে একসঙ্গে খেলার সময়। একই দলের হয়ে বছরের পর বছর খেলতে খেলতে একে অন্যকে আরও ভালোভাবে চিনেছেন। মাঠে গড়ে উঠেছে অসাধারণ বোঝাপড়া, মাঠের বাইরে গভীর বন্ধুত্ব।

সময়ের সঙ্গে কোহলির ক্রিকেটীয় সামর্থ্যের পাশাপাশি মানুষ কোহলির প্রতিও ডি ভিলিয়ার্সের শ্রদ্ধা ও মুগ্ধতা বেড়েছে।

প্রথম দেখায় যাঁকে অহংকারী মনে হয়েছিল, সেই কোহলিই এখন ডি ভিলিয়ার্সের সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের একজন। প্রথম ধারণা যে সব সময় শেষ কথা নয়, তাঁদের বন্ধুত্বই তার বড় প্রমাণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

কোহলিকে প্রথম দেখায় কেন ‘অহংকারী ও দাম্ভিক’ মনে হয়েছিল ডি ভিলিয়ার্সের

আপডেট সময় : ১২:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

বিরাট কোহলি ও এবি ডি ভিলিয়ার্স। একজন ভারতের ক্রিকেটের মহাতারকা, অন্যজন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি। ক্রিকেট মাঠে দুজনের রসায়ন ছিল দেখার মতো। মাঠের বাইরেও তাঁদের বন্ধুত্বের গল্প কম মধুর নয়। অথচ এই ডি ভিলিয়ার্সই কিনা প্রথম দেখায় কোহলিকে মনে করেছিলেন ‘অহংকারী ও দাম্ভিক’!

শুনে অবাক হচ্ছেন? হওয়ারই কথা। তবে কথাটা ডি ভিলিয়ার্স নিজেই বলেছেন। শুধু তা-ই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়কের বিশ্বাস, কোহলিও তাঁর এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত হবেন।

সম্প্রতি প্রখর গুপ্তর একটি পডকাস্টে কোহলির সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের স্মৃতিচারণা করেছেন ডি ভিলিয়ার্স। সেখানেই উঠে এসেছে ভারতীয় তারকাকে নিয়ে তাঁর প্রথম ধারণার কথা।

ডি ভিলিয়ার্সকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কোহলিকে প্রথম দেখায় সত্যিই কি তাঁর অহংকারী ও দাম্ভিক মনে হয়েছিল? উত্তরে কোনো রাখঢাক করেননি তিনি, ‘হ্যাঁ। আমার মনে হয়, সে–‍ও (কোহলি) এ ব্যাপারে একমত হবে।’

কিন্তু কোহলিকে কেন এমন মনে হয়েছিল ডি ভিলিয়ার্সের?

আসলে অহংকার আর আত্মবিশ্বাসের মধ্যে একটা সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। কখনো কখনো প্রবল আত্মবিশ্বাসকেও অহংকার বলে ভুল হয়। কোহলির বেলায় ডি ভিলিয়ার্সেরও সেটাই হয়েছিল।সেই সময়ের কোহলিকে নিয়ে ডি ভিলিয়ার্স বলেছেন, ‘ওর মধ্যে আত্মবিশ্বাস ছিল প্রচুর। ও সব সময় এভাবেই ক্রিকেট খেলেছে। কখনো কখনো মানুষ সেটাকে ভুল বোঝে। আমার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছিল। প্রথম দেখায় ওকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছিল।’

কোহলির সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের সেই স্মৃতি অবশ্য এখন কিছুটা রসিকতার সুরেই বলেন ডি ভিলিয়ার্স। তাঁর কথায়, ‘এটা ছিল আমার প্রথম ধারণা। আমি যখন কথাটা বলি, তখন একটু মজা করেই বলি। তবে আমার মনে হয়, কোহলিও এতে একমত হবে। ১৯, ২০ কিংবা ২১ বছর বয়সে ও ছিল প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী এক তরুণ। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কথা বলছি।’

ডি ভিলিয়ার্স অবশ্য কোহলির সেই আত্মবিশ্বাসের মধ্যে খারাপ কিছু দেখেন না। বরং তাঁর মতে, বড় ক্রিকেটার হয়ে ওঠার জন্য এমন আত্মবিশ্বাস প্রয়োজন।

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই ব্যাটসম্যান বলেছেন, ‘বড় সাফল্য পেতে হলে এমন আত্মবিশ্বাস দরকার। নিজের সামর্থ্যের ওপর প্রবল বিশ্বাস থাকতে হবে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ শুধু শেখে, কীভাবে সেই আত্মবিশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।’

কোহলির ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটেছে বলে মনে করেন ডি ভিলিয়ার্স। বয়স বেড়েছে, অভিজ্ঞতা বেড়েছে, ক্রিকেটে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে অনেক ওপরে উঠেছেন। সেই সঙ্গে বদলেছে তাঁর ব্যক্তিত্বও।ডি ভিলিয়ার্স বলেছেন, ‘বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওর সেই ব্যাপারটা কমে এসেছে। মানুষ ও ক্রিকেটার হিসেবে ও আরও পরিণত ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে। আমার মনে হয়, তরুণ বয়সে ওর অনেক কিছু প্রমাণ করার ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই তাগিদও কমেছে। অন্যদের সামনে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখানোর প্রয়োজনীয়তাও আর অনুভব করেনি। এভাবেই ও বদলে গেছে।’

কোহলি আর ডি ভিলিয়ার্সের বন্ধুত্বের শুরু ক্রিকেট মাঠে প্রথম পরিচয়ের পর থেকেই। তবে সেই সম্পর্ক সত্যিকার অর্থে গভীর হয় আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে একসঙ্গে খেলার সময়। একই দলের হয়ে বছরের পর বছর খেলতে খেলতে একে অন্যকে আরও ভালোভাবে চিনেছেন। মাঠে গড়ে উঠেছে অসাধারণ বোঝাপড়া, মাঠের বাইরে গভীর বন্ধুত্ব।

সময়ের সঙ্গে কোহলির ক্রিকেটীয় সামর্থ্যের পাশাপাশি মানুষ কোহলির প্রতিও ডি ভিলিয়ার্সের শ্রদ্ধা ও মুগ্ধতা বেড়েছে।

প্রথম দেখায় যাঁকে অহংকারী মনে হয়েছিল, সেই কোহলিই এখন ডি ভিলিয়ার্সের সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের একজন। প্রথম ধারণা যে সব সময় শেষ কথা নয়, তাঁদের বন্ধুত্বই তার বড় প্রমাণ।