ঢাকা ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

এআইয়ের যুগে মানুষের বুদ্ধিমত্তাই আসল—ফরিদ জাকারিয়া

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন পুরো পৃথিবীতে আলোচিত একটি বিষয়। কেউ মনে করছে, এআই মানুষের জীবনকে আরও সহজ করে তুলবে। কেউ আবার ভয় পাচ্ছে, এই প্রযুক্তি একদিন মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে। মানুষের অনেক কাজই করে দেবে যন্ত্র। তাহলে ভবিষ্যতে মানুষের আর প্রয়োজন কী?

এই প্রশ্নের একটু অন্য রকম উত্তর দিয়েছেন লেখক ও সাংবাদিক ফরিদ জাকারিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের বার্ড কলেজের ২০২৬ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চেয়ে মানুষের বুদ্ধিমত্তার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এআই যতই শক্তিশালী হোক, মানুষের নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা, কল্পনা, অনুভূতি ও পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্ব আলাদা।

এআই নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফরিদ জাকারিয়া গুরুত্ব দিয়েছেন এইচআইয়ের ওপর। এইচআই অর্থ হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স বা মানুষের বুদ্ধিমত্তা।

এআই এখন প্রবন্ধ লিখতে পারে, গান তৈরি করতে পারে, রোগ শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে, কঠিন অঙ্ক করতে পারে, এমনকি ভিডিওও বানাতে পারে। এত কিছু যখন একটি কম্পিউটার করতে পারছে, তখন মানুষের জন্য কী বাকি থাকল?

ফরিদ জাকারিয়ার মতে, প্রশ্নটা অন্যভাবে করা দরকার। এআই কী কী করতে পারে, শুধু তা নিয়ে না ভেবে বরং ভাবতে হবে, মানুষের এমন কী কী গুণ আছে, যেগুলো তাকে অন্য সবকিছু থেকে আলাদা করে।

মানুষের মস্তিষ্কের ওজন প্রায় তিন পাউন্ড বা ১ দশমিক ৪ কেজি। অথচ এই ছোট্ট অঙ্গটি কাজ করে খুব সামান্য শক্তি ব্যবহার করে। ফরিদ জাকারিয়ার বক্তৃতায় বলা হয়েছে, মস্তিষ্কের শক্তি খরচ প্রায় ২০ ওয়াট।

অন্যদিকে, উন্নত এআই ব্যবস্থা তৈরি ও প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজন বিশাল বিশাল ডেটা সেন্টার। সেখানে থাকে অসংখ্য সার্ভার, সেগুলো ঠান্ডা রাখার যন্ত্র আর মাইলের পর মাইল তার। এসব চালাতে প্রচুর বিদ্যুৎ লাগে।

একটি ছোট শিশুর কথাই ভাবো। সে খুব সহজেই মা-বাবার মুখ চিনতে পারে। কারও গলার স্বর শুনে বুঝতে পারে, তিনি রেগে আছেন, নাকি খুশি। অন্যদের দেখে দেখে ভাষা শিখে ফেলে। নতুন পরিবেশে চলাফেরা করতে শেখে। মানুষের আচরণ দেখে তার উদ্দেশ্য বোঝারও চেষ্টা করে।

এসব শেখার জন্য শিশুকে আলাদা করে কোনো কম্পিউটার প্রোগ্রাম শেখানো হয় না। সে চারপাশের মানুষকে দেখে, তাদের কথা শোনে, মেলামেশা করে এবং অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে থাকে।

মানুষ আরও অনেক কিছু বুঝতে পারে। একটি হাসি আন্তরিক, নাকি কৃত্রিম, তা অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি। কেউ কিছু না বললেও তার মন খারাপ কি না, তা টের পাই। কথার মধ্যে লুকিয়ে থাকা রসিকতা, অভিমান কিংবা ভালোবাসার অর্থও বুঝতে পারি।

এআই তথ্য বিশ্লেষণে অসাধারণ দক্ষ হতে পারে। কিন্তু মানুষের বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনুভূতি, অভিজ্ঞতা এবং অন্য মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক।

ধরো, তুমি এআইকে একটি দুঃখের কবিতা লিখে দিতে বললে। সে হয়তো সুন্দর একটি কবিতা লিখে দিল। তুমি চাইলে আবেগপ্রবণ চিঠিও লিখিয়ে নিতে পারো। ভয়, আনন্দ কিংবা একাকিত্ব নিয়ে গল্পও তৈরি করে দিতে পারে এআই।

কিন্তু দুঃখের কবিতা লেখা আর সত্যিকারের দুঃখ অনুভব করা এক বিষয় নয়।

একজন মানুষ প্রিয়জনকে হারালে কাঁদেন। বন্ধুর বিপদে পাশে দাঁড়ান। অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করেন। নিজের ক্ষতি হবে জেনেও কখনো কখনো অন্যকে সাহায্য করেন। এসব কাজের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের অনুভূতি, বিবেক ও জীবনের অভিজ্ঞতা।

একজন লেখক যখন গল্প লেখেন, তখন তাঁর নিজের দেখা পৃথিবী, মানুষের সঙ্গে পরিচয়, আনন্দ-বেদনা এবং নানা অভিজ্ঞতা লেখার মধ্যে উঠে আসে। পাঠক শুধু গল্পের ঘটনাই পড়েন না, লেখকের চোখ দিয়ে পৃথিবীটাকেও দেখার সুযোগ পান।

তাই কোনো লেখা নিখুঁত হলেই যে সেটি মানুষের মনে গভীরভাবে দাগ কাটবে, এমন নয়। অনেক সময় লেখার ছোটখাটো অসম্পূর্ণতা, বাস্তব অভিজ্ঞতা কিংবা আবেগই লেখাকে আমাদের কাছে বিশেষ করে তোলে।

এআইয়ের উন্নতি নিয়ে ফরিদ জাকারিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাটি হলো, বিপদ শুধু এই নয় যে যন্ত্র এক দিন মানুষের মতো হয়ে উঠবে। বিপদ হলো, মানুষ নিজেই যদি যন্ত্রের মতো হয়ে উঠতে চায়!

আমরা যদি দ্রুত কাজ করা, বেশি তথ্য মনে রাখা কিংবা ভুল না করার মধ্যেই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় খুঁজি, তাহলে মানুষের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ গুণ চোখ এড়িয়ে যাবে। যেমন সহানুভূতি, বিচারবুদ্ধি, কল্পনাশক্তি, সাহস, বন্ধুত্ব, ক্ষমা করতে পারা এবং অন্যের জন্য কিছু করার ইচ্ছা।

এআই আমাদের অনেক কাজে সাহায্য করতে পারে। রোগ শনাক্ত করা, নতুন বৈজ্ঞানিক গবেষণা, জটিল সমস্যার সমাধান কিংবা শেখার নতুন সুযোগ তৈরিতে এই প্রযুক্তি কাজে লাগানো যায়। তাই এআইকে ভয় পেয়ে দূরে সরিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। বরং বুঝেশুনে ব্যবহার করতে হবে।

কিন্তু প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, কোন কাজটি করা উচিত, কোনটি অন্যায়, কাকে সাহায্য করা দরকার কিংবা কোন জিনিসটি আমাদের কাছে মূল্যবান, এসব প্রশ্নের গুরুত্ব থেকেই যায়।

তুমি হয়তো স্কুলের পড়া বুঝতে এআইয়ের সাহায্য নেবে। কোনো কঠিন বিষয় সহজ করে জানতে চাইবে। ইংরেজি অনুশীলন করবে কিংবা বিজ্ঞানের কোনো পরীক্ষা সম্পর্কে ধারণা নেবে। এসবই হতে পারে শেখার ভালো উপায়।

কিন্তু এআইকে দিয়ে সব কাজ করিয়ে নিলে নিজের শেখার সুযোগটাই নষ্ট হতে পারে। কোনো প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পর নিজে চিন্তা করো, উত্তরটি ঠিক কি না যাচাই করো, নিজের ভাষায় বোঝানোর চেষ্টা করো। বই পড়ো, বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করো, বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শেখো।

সবচেয়ে বড় কথা, মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গড়ে তোলো। বন্ধুর মন খারাপ হলে তার কথা শোনো। ভুল করলে তা স্বীকার করো। অন্যের মতের সঙ্গে দ্বিমত হলেও তাকে বোঝার চেষ্টা করো। এসব অভিজ্ঞতা তোমাকে এমনভাবে শেখাবে, যা শুধু তথ্য মুখস্থ করে পাওয়া যায় না।

ফরিদ জাকারিয়ার বক্তব্যের মূল কথা, নতুন প্রজন্ম যেন শুধু এআই ব্যবহারে দক্ষ না হয়, মানুষের বুদ্ধিমত্তা, কল্পনা, অনুপ্রেরণা ও পারস্পরিক সম্পর্কেরও চর্চা করে। এআইকে কাজে লাগাও, কিন্তু নিজের বুদ্ধিমত্তা ও মানবিকতা হারিয়ে ফেলো না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

এআইয়ের যুগে মানুষের বুদ্ধিমত্তাই আসল—ফরিদ জাকারিয়া

আপডেট সময় : ০৫:২০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন পুরো পৃথিবীতে আলোচিত একটি বিষয়। কেউ মনে করছে, এআই মানুষের জীবনকে আরও সহজ করে তুলবে। কেউ আবার ভয় পাচ্ছে, এই প্রযুক্তি একদিন মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে। মানুষের অনেক কাজই করে দেবে যন্ত্র। তাহলে ভবিষ্যতে মানুষের আর প্রয়োজন কী?

এই প্রশ্নের একটু অন্য রকম উত্তর দিয়েছেন লেখক ও সাংবাদিক ফরিদ জাকারিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের বার্ড কলেজের ২০২৬ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চেয়ে মানুষের বুদ্ধিমত্তার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এআই যতই শক্তিশালী হোক, মানুষের নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা, কল্পনা, অনুভূতি ও পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্ব আলাদা।

এআই নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফরিদ জাকারিয়া গুরুত্ব দিয়েছেন এইচআইয়ের ওপর। এইচআই অর্থ হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স বা মানুষের বুদ্ধিমত্তা।

এআই এখন প্রবন্ধ লিখতে পারে, গান তৈরি করতে পারে, রোগ শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে, কঠিন অঙ্ক করতে পারে, এমনকি ভিডিওও বানাতে পারে। এত কিছু যখন একটি কম্পিউটার করতে পারছে, তখন মানুষের জন্য কী বাকি থাকল?

ফরিদ জাকারিয়ার মতে, প্রশ্নটা অন্যভাবে করা দরকার। এআই কী কী করতে পারে, শুধু তা নিয়ে না ভেবে বরং ভাবতে হবে, মানুষের এমন কী কী গুণ আছে, যেগুলো তাকে অন্য সবকিছু থেকে আলাদা করে।

মানুষের মস্তিষ্কের ওজন প্রায় তিন পাউন্ড বা ১ দশমিক ৪ কেজি। অথচ এই ছোট্ট অঙ্গটি কাজ করে খুব সামান্য শক্তি ব্যবহার করে। ফরিদ জাকারিয়ার বক্তৃতায় বলা হয়েছে, মস্তিষ্কের শক্তি খরচ প্রায় ২০ ওয়াট।

অন্যদিকে, উন্নত এআই ব্যবস্থা তৈরি ও প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজন বিশাল বিশাল ডেটা সেন্টার। সেখানে থাকে অসংখ্য সার্ভার, সেগুলো ঠান্ডা রাখার যন্ত্র আর মাইলের পর মাইল তার। এসব চালাতে প্রচুর বিদ্যুৎ লাগে।

একটি ছোট শিশুর কথাই ভাবো। সে খুব সহজেই মা-বাবার মুখ চিনতে পারে। কারও গলার স্বর শুনে বুঝতে পারে, তিনি রেগে আছেন, নাকি খুশি। অন্যদের দেখে দেখে ভাষা শিখে ফেলে। নতুন পরিবেশে চলাফেরা করতে শেখে। মানুষের আচরণ দেখে তার উদ্দেশ্য বোঝারও চেষ্টা করে।

এসব শেখার জন্য শিশুকে আলাদা করে কোনো কম্পিউটার প্রোগ্রাম শেখানো হয় না। সে চারপাশের মানুষকে দেখে, তাদের কথা শোনে, মেলামেশা করে এবং অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে থাকে।

মানুষ আরও অনেক কিছু বুঝতে পারে। একটি হাসি আন্তরিক, নাকি কৃত্রিম, তা অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি। কেউ কিছু না বললেও তার মন খারাপ কি না, তা টের পাই। কথার মধ্যে লুকিয়ে থাকা রসিকতা, অভিমান কিংবা ভালোবাসার অর্থও বুঝতে পারি।

এআই তথ্য বিশ্লেষণে অসাধারণ দক্ষ হতে পারে। কিন্তু মানুষের বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনুভূতি, অভিজ্ঞতা এবং অন্য মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক।

ধরো, তুমি এআইকে একটি দুঃখের কবিতা লিখে দিতে বললে। সে হয়তো সুন্দর একটি কবিতা লিখে দিল। তুমি চাইলে আবেগপ্রবণ চিঠিও লিখিয়ে নিতে পারো। ভয়, আনন্দ কিংবা একাকিত্ব নিয়ে গল্পও তৈরি করে দিতে পারে এআই।

কিন্তু দুঃখের কবিতা লেখা আর সত্যিকারের দুঃখ অনুভব করা এক বিষয় নয়।

একজন মানুষ প্রিয়জনকে হারালে কাঁদেন। বন্ধুর বিপদে পাশে দাঁড়ান। অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করেন। নিজের ক্ষতি হবে জেনেও কখনো কখনো অন্যকে সাহায্য করেন। এসব কাজের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের অনুভূতি, বিবেক ও জীবনের অভিজ্ঞতা।

একজন লেখক যখন গল্প লেখেন, তখন তাঁর নিজের দেখা পৃথিবী, মানুষের সঙ্গে পরিচয়, আনন্দ-বেদনা এবং নানা অভিজ্ঞতা লেখার মধ্যে উঠে আসে। পাঠক শুধু গল্পের ঘটনাই পড়েন না, লেখকের চোখ দিয়ে পৃথিবীটাকেও দেখার সুযোগ পান।

তাই কোনো লেখা নিখুঁত হলেই যে সেটি মানুষের মনে গভীরভাবে দাগ কাটবে, এমন নয়। অনেক সময় লেখার ছোটখাটো অসম্পূর্ণতা, বাস্তব অভিজ্ঞতা কিংবা আবেগই লেখাকে আমাদের কাছে বিশেষ করে তোলে।

এআইয়ের উন্নতি নিয়ে ফরিদ জাকারিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাটি হলো, বিপদ শুধু এই নয় যে যন্ত্র এক দিন মানুষের মতো হয়ে উঠবে। বিপদ হলো, মানুষ নিজেই যদি যন্ত্রের মতো হয়ে উঠতে চায়!

আমরা যদি দ্রুত কাজ করা, বেশি তথ্য মনে রাখা কিংবা ভুল না করার মধ্যেই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় খুঁজি, তাহলে মানুষের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ গুণ চোখ এড়িয়ে যাবে। যেমন সহানুভূতি, বিচারবুদ্ধি, কল্পনাশক্তি, সাহস, বন্ধুত্ব, ক্ষমা করতে পারা এবং অন্যের জন্য কিছু করার ইচ্ছা।

এআই আমাদের অনেক কাজে সাহায্য করতে পারে। রোগ শনাক্ত করা, নতুন বৈজ্ঞানিক গবেষণা, জটিল সমস্যার সমাধান কিংবা শেখার নতুন সুযোগ তৈরিতে এই প্রযুক্তি কাজে লাগানো যায়। তাই এআইকে ভয় পেয়ে দূরে সরিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। বরং বুঝেশুনে ব্যবহার করতে হবে।

কিন্তু প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, কোন কাজটি করা উচিত, কোনটি অন্যায়, কাকে সাহায্য করা দরকার কিংবা কোন জিনিসটি আমাদের কাছে মূল্যবান, এসব প্রশ্নের গুরুত্ব থেকেই যায়।

তুমি হয়তো স্কুলের পড়া বুঝতে এআইয়ের সাহায্য নেবে। কোনো কঠিন বিষয় সহজ করে জানতে চাইবে। ইংরেজি অনুশীলন করবে কিংবা বিজ্ঞানের কোনো পরীক্ষা সম্পর্কে ধারণা নেবে। এসবই হতে পারে শেখার ভালো উপায়।

কিন্তু এআইকে দিয়ে সব কাজ করিয়ে নিলে নিজের শেখার সুযোগটাই নষ্ট হতে পারে। কোনো প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পর নিজে চিন্তা করো, উত্তরটি ঠিক কি না যাচাই করো, নিজের ভাষায় বোঝানোর চেষ্টা করো। বই পড়ো, বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করো, বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শেখো।

সবচেয়ে বড় কথা, মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গড়ে তোলো। বন্ধুর মন খারাপ হলে তার কথা শোনো। ভুল করলে তা স্বীকার করো। অন্যের মতের সঙ্গে দ্বিমত হলেও তাকে বোঝার চেষ্টা করো। এসব অভিজ্ঞতা তোমাকে এমনভাবে শেখাবে, যা শুধু তথ্য মুখস্থ করে পাওয়া যায় না।

ফরিদ জাকারিয়ার বক্তব্যের মূল কথা, নতুন প্রজন্ম যেন শুধু এআই ব্যবহারে দক্ষ না হয়, মানুষের বুদ্ধিমত্তা, কল্পনা, অনুপ্রেরণা ও পারস্পরিক সম্পর্কেরও চর্চা করে। এআইকে কাজে লাগাও, কিন্তু নিজের বুদ্ধিমত্তা ও মানবিকতা হারিয়ে ফেলো না।