ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে পাননি পাঁচ চিকিৎসককে, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মিশিগানে আগের দিন ওবামা, পরদিন ট্রাম্প সুন্দরগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গাজায় নিজের সেনাসন্তান নিহত হওয়াতেই কি রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন আইজেনকট বাংলাদেশের শিক্ষক থেকে যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী, আমার অভিজ্ঞতা পাখি তো আকাশেই সুন্দর রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা, তিনজন নিহত মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষা ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু অফিস থেকে হেঁটে বাসায় যাচ্ছিলেন যুবক, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত গুলশান-বনানীর পাঠকদের হাতের নাগালে বইয়ের সম্ভার

ফলের কদর থাকলেও অবহেলায় ঝরে চালতার ফুল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩২:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গ্রামের সড়ক থেকে কিছুটা দূরে গাছটি দাঁড়িয়ে। দূর থেকে হঠাৎ বোঝা কঠিন, কী গাছ। কাছে গিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেল—এটি চালতাগাছ।

গত বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বীরগাঁওয়ে একটি মসজিদের পাশে গাছটির দেখা মেলে। গাছের দিকে এগোতে এগোতে চোখে পড়ে খাঁজকাটা সবুজ পাতার আড়ালে ঝুলছে ফল; ফুল ঝরে গেছে আগেই। গাছটির বয়স কত, স্থানীয় কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। তবে দেখে অনেক বয়সী বলে মনে হয়।

প্রতিবছর গাছটিতে ফুল ফোটে। ফুলের দিকে কারও তেমন চোখ নেই। আপন খেয়ালে ফোটে, পাপড়িও ঝরে যায় দ্রুত। তবে চাটনি আর টক তরকারির জন্য অনেকেই গাছ থেকে ফল পেড়ে নেন। এবারও তা-ই হয়েছে। হাতের নাগালে এখন আর ফল নেই। তারপরও গাছে ফলের পরিমাণ কম নয়। ছড়িয়ে থাকা ডালপালায় পাতার আড়ালে ঝুলছে থোকা থোকা চালতা।

দূর থেকে গাছটি ব্যাঙের ছাতার মতো, নিচ থেকে গোল হয়ে ওপরে উঠে গেছে। কাছে এলে ধীরে ধীরে রূপ মেলে ধরে। ফুল না থাকলেও পাতাগুলো চকচকে সবুজ, লাবণ্যে মাখামাখি।

নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা তাঁর ‘শ্যামলী নিসর্গ’ বইয়ে লিখেছেন, দেশের অতি পরিচিত চালতার আকর্ষণ ফুলে নয়—ফলে। উপযোগবাদী দৃষ্টিতে ফুলের শোভা হারিয়ে গেছে। অথচ চালতা ফুল যেকোনো সুন্দর ফুলের সঙ্গেই তুলনীয়। গঠনে এটি ম্যাগনোলিয়ার ঘনিষ্ঠ। হয়তো এ কারণেই চালতা ফুল দেখে হঠাৎ কেউ চমকে ওঠেন, বিস্মিত হন। কেন এত দিন এই ফুলের দেখা পাননি—এ নিয়ে কারও কারও মনে হয়তো প্রশ্নও তৈরি হয়।

চালতার ইংরেজি নাম ‘এলিফেন্ট অ্যাপল’। বর্ষার শুরুতে ফুল ফোটে। ফুলের সাদা রঙের পাপড়ি চোখে পড়ার মতো। ঘ্রাণ মৃদু, রঙের মতোই স্নিগ্ধ। পাপড়ি স্বল্পস্থায়ী, ফোটার পরদিনই ঝরে যায়। ফল প্রায় গোল, সবুজ ও দৃঢ়, স্বাদ টক-মিষ্টি। শরৎ-হেমন্তে ফল পাকে। চালতার চাটনি, আচার বেশ জনপ্রিয়। গাছের কাঠ শক্ত ও টেকসই, জ্বালানি ছাড়াও নৌকা ও বন্দুকের বাট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

ফলের কদর থাকলেও অবহেলায় ঝরে চালতার ফুল

আপডেট সময় : ০৮:৩২:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

গ্রামের সড়ক থেকে কিছুটা দূরে গাছটি দাঁড়িয়ে। দূর থেকে হঠাৎ বোঝা কঠিন, কী গাছ। কাছে গিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেল—এটি চালতাগাছ।

গত বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বীরগাঁওয়ে একটি মসজিদের পাশে গাছটির দেখা মেলে। গাছের দিকে এগোতে এগোতে চোখে পড়ে খাঁজকাটা সবুজ পাতার আড়ালে ঝুলছে ফল; ফুল ঝরে গেছে আগেই। গাছটির বয়স কত, স্থানীয় কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। তবে দেখে অনেক বয়সী বলে মনে হয়।

প্রতিবছর গাছটিতে ফুল ফোটে। ফুলের দিকে কারও তেমন চোখ নেই। আপন খেয়ালে ফোটে, পাপড়িও ঝরে যায় দ্রুত। তবে চাটনি আর টক তরকারির জন্য অনেকেই গাছ থেকে ফল পেড়ে নেন। এবারও তা-ই হয়েছে। হাতের নাগালে এখন আর ফল নেই। তারপরও গাছে ফলের পরিমাণ কম নয়। ছড়িয়ে থাকা ডালপালায় পাতার আড়ালে ঝুলছে থোকা থোকা চালতা।

দূর থেকে গাছটি ব্যাঙের ছাতার মতো, নিচ থেকে গোল হয়ে ওপরে উঠে গেছে। কাছে এলে ধীরে ধীরে রূপ মেলে ধরে। ফুল না থাকলেও পাতাগুলো চকচকে সবুজ, লাবণ্যে মাখামাখি।

নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা তাঁর ‘শ্যামলী নিসর্গ’ বইয়ে লিখেছেন, দেশের অতি পরিচিত চালতার আকর্ষণ ফুলে নয়—ফলে। উপযোগবাদী দৃষ্টিতে ফুলের শোভা হারিয়ে গেছে। অথচ চালতা ফুল যেকোনো সুন্দর ফুলের সঙ্গেই তুলনীয়। গঠনে এটি ম্যাগনোলিয়ার ঘনিষ্ঠ। হয়তো এ কারণেই চালতা ফুল দেখে হঠাৎ কেউ চমকে ওঠেন, বিস্মিত হন। কেন এত দিন এই ফুলের দেখা পাননি—এ নিয়ে কারও কারও মনে হয়তো প্রশ্নও তৈরি হয়।

চালতার ইংরেজি নাম ‘এলিফেন্ট অ্যাপল’। বর্ষার শুরুতে ফুল ফোটে। ফুলের সাদা রঙের পাপড়ি চোখে পড়ার মতো। ঘ্রাণ মৃদু, রঙের মতোই স্নিগ্ধ। পাপড়ি স্বল্পস্থায়ী, ফোটার পরদিনই ঝরে যায়। ফল প্রায় গোল, সবুজ ও দৃঢ়, স্বাদ টক-মিষ্টি। শরৎ-হেমন্তে ফল পাকে। চালতার চাটনি, আচার বেশ জনপ্রিয়। গাছের কাঠ শক্ত ও টেকসই, জ্বালানি ছাড়াও নৌকা ও বন্দুকের বাট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।