ঢাকা ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমার বৈঠক

সিলেট প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্তরণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং টেকসই উন্নয়ন কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি’র সঙ্গে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং ইউএন-ওএইচআরএলএলএসের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমার। রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশন কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সময়সীমা, উত্তরণ-পরবর্তী সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাণিজ্য সুবিধা, শুল্ক নীতিমালা, শিল্পখাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং বৈদেশিক সহায়তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ধাপে ধাপে পরিকল্পিতভাবে এলডিসি উত্তরণ সম্পন্ন করতে চায়। এই উত্তরণ যেন দেশের অর্থনীতি, রপ্তানি খাত ও শিল্পখাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সে জন্য সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত সহায়তা ছাড়া এই প্রক্রিয়া সফলভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি।

তিনি উল্লেখ করেন, তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিনির্ভর শিল্পগুলো এলডিসি সুবিধা হারালে কিছুটা চাপে পড়তে পারে। সে কারণে বাজার বহুমুখীকরণ, পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিও সমানভাবে এগিয়ে যায়।

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, গত কয়েক দশকে দারিদ্র্য হ্রাস, নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশ যে সাফল্য দেখিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত। তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও এর সঙ্গে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জও আসবে।

তিনি আরও আশ্বস্ত করেন, এই উত্তরণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে জাতিসংঘ সবসময় পাশে থাকবে। টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নীতি সহায়তা, কারিগরি সহযোগিতা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৈঠক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এলডিসি উত্তরণের মতো বড় পরিবর্তনের আগে এমন সমন্বিত আলোচনা দেশের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে, যা নীতি নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমার বৈঠক

আপডেট সময় : ০৫:১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্তরণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং টেকসই উন্নয়ন কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি’র সঙ্গে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং ইউএন-ওএইচআরএলএলএসের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমার। রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশন কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সময়সীমা, উত্তরণ-পরবর্তী সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাণিজ্য সুবিধা, শুল্ক নীতিমালা, শিল্পখাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং বৈদেশিক সহায়তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ধাপে ধাপে পরিকল্পিতভাবে এলডিসি উত্তরণ সম্পন্ন করতে চায়। এই উত্তরণ যেন দেশের অর্থনীতি, রপ্তানি খাত ও শিল্পখাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সে জন্য সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত সহায়তা ছাড়া এই প্রক্রিয়া সফলভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি।

তিনি উল্লেখ করেন, তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিনির্ভর শিল্পগুলো এলডিসি সুবিধা হারালে কিছুটা চাপে পড়তে পারে। সে কারণে বাজার বহুমুখীকরণ, পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিও সমানভাবে এগিয়ে যায়।

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, গত কয়েক দশকে দারিদ্র্য হ্রাস, নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশ যে সাফল্য দেখিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত। তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও এর সঙ্গে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জও আসবে।

তিনি আরও আশ্বস্ত করেন, এই উত্তরণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে জাতিসংঘ সবসময় পাশে থাকবে। টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নীতি সহায়তা, কারিগরি সহযোগিতা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৈঠক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এলডিসি উত্তরণের মতো বড় পরিবর্তনের আগে এমন সমন্বিত আলোচনা দেশের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে, যা নীতি নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।