আজ সিলেটে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৯:৪৯:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

সিলেট মহানগরীকে আগাম বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষায় ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২ মে) সকালে তিনি সিলেটে পৌঁছাবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার গুরুত্বপূর্ণ সফরগুলোর একটি হওয়ায় নগরজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে সার্বিক আয়োজন সম্পন্ন করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট মহানগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় নগরবাসীকে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে টিলা ও নদীবেষ্টিত সিলেট নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ১৩টি প্রাকৃতিক ছড়া সরাসরি সুরমা নদীতে গিয়ে মিশেছে। বর্ষাকালে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির ফলে এসব ছড়া দিয়ে নদীর পানি উল্টো শহরের ভেতরে প্রবেশ করে। এর ফলে সৃষ্টি হয় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, যা নগরবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর বন্যা পরিস্থিতি ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতেই এ প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কাজীরবাজার, ছড়ারপাড় ও বোরহানউদ্দিনে আধুনিক স্লুইস গেট এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে নদীর পানি যাতে শহরে প্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি দ্রুত অপসারণের সুযোগ তৈরি হবে, যা জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া শাহপরান ব্রিজ থেকে বাদাঘাট ব্রিজ পর্যন্ত সুরমা নদীর দুই তীরের প্রায় সাড়ে ১৭ কিলোমিটার এলাকা উঁচু করা হবে। যেখানে ভৌগোলিক বা কাঠামোগত কারণে উঁচু করা সম্ভব হবে না, সেখানে টেকসই ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ করা হবে। এতে নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি শহরকে বন্যার পানির অনুপ্রবেশ থেকে সুরক্ষিত রাখা যাবে।
জানা গেছে, প্রকল্পটির প্রথম ধাপে ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। বিদেশি সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা মনে করছেন, সুরমা নদী খনন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল প্রক্রিয়া হওয়ায় তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে এই প্রকল্প অত্যন্ত কার্যকর হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নগরীর পানি ব্যবস্থাপনায় একটি স্থায়ী সমাধান আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। পরে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এছাড়া জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সিলেট মহানগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথে একটি বড় অগ্রগতি সূচিত হবে এবং নগরবাসীর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।























