ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সফল মানুষদের শৈশবের ১০টি অভ্যাস নদীর মাছ রক্ষায় গাইবান্ধায় জেলেদের সঙ্গে বন্ধুসভার মতবিনিময় নিউইয়র্কে মাসাবার পরনে লাল পাড় সাদা রঙের পোশাকটি কি শাড়ি, নাকি অন্য কিছু চীন সীমান্তবর্তী অরুণাচল প্রদেশে বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ মাদ্রাসায় শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর রাত ১১টায় মডেল–অভিনেত্রী তুলনাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক গণ–অভ্যুত্থানের পর হতাশাজনক পরিস্থিতি কি বিরল সুন্দরগঞ্জে মাদক মামলায় দুইজনসহ গ্রেফতার ৩ লগি-বইঠা নিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, ভিডিও ভাইরাল

নিজ দপ্তরে ১২ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েটের নতুন উপাচার্য, বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৮:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ১২ ঘণ্টা ধরে নিজ দপ্তরে অবরুদ্ধ রয়েছেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিলে তিনি ভেতরে আটকা পড়েন। সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বর্তমান উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন।

রাত ১২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন। উপাচার্য ও ভবনের ভেতরে থাকা অন্যরা অবরুদ্ধ রয়েছেন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে এবং তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। এতে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সোমবার সকাল নয়টার দিকে উপাচার্য প্রশাসনিক ভবনের ফটকের তালা ভেঙে চুয়েট ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। খবর পেয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাঁকে ভবন ছাড়ার সময়সীমা বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি বের না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।

এতে উপাচার্যের সঙ্গে চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ ও তাঁর সহযোগীরা এবং কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীও ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। এরপর শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

এদিকে কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। একই সঙ্গে নতুন করে ‘সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি’ পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে বেলা সোয়া তিনটায় তিন সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে ‘সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি’ ঘোষণা করা হয়েছে।

তিন সংগঠনের নেতারা জানান, নবনিযুক্ত উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাঁরা ‘সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি’ পালন করবেন। পূর্বঘোষিত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতির পাশাপাশি সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি পালন করা হবে। নতুন উপাচার্যকে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের সহযোগিতা করবেন না তাঁরা।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা চুয়েট ক্যাম্পাসে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ অন্যদের জন্য বিদ্যুৎ, পানি ও খাবারের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। শিক্ষার্থীরা জানান, ভেতরে খাবার ও পানি দেওয়া হয়েছে, তবে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হবে না।

এ সময় যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন মূলত উনার ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে ছিল না। কিন্তু তিনি ক্যাম্পাসে আসার আগেই আমাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন আটকে দিয়েছিলেন। আজ তালা ভেঙে অফিসে প্রবেশ করেছেন এবং চুয়েটের বাসে হামলা করিয়েছেন। এখন আর কোনো আপস নয়, আমরা সরাসরি তাঁর পদত্যাগ চাই। তিনি পদত্যাগ করলেই সসম্মানে বিদ্যুৎ, পানিসহ সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

নিজ দপ্তরে ১২ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েটের নতুন উপাচার্য, বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেট সময় : ১২:৫৮:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ১২ ঘণ্টা ধরে নিজ দপ্তরে অবরুদ্ধ রয়েছেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিলে তিনি ভেতরে আটকা পড়েন। সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বর্তমান উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন।

রাত ১২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন। উপাচার্য ও ভবনের ভেতরে থাকা অন্যরা অবরুদ্ধ রয়েছেন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে এবং তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। এতে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সোমবার সকাল নয়টার দিকে উপাচার্য প্রশাসনিক ভবনের ফটকের তালা ভেঙে চুয়েট ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। খবর পেয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাঁকে ভবন ছাড়ার সময়সীমা বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি বের না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।

এতে উপাচার্যের সঙ্গে চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ ও তাঁর সহযোগীরা এবং কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীও ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। এরপর শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

এদিকে কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। একই সঙ্গে নতুন করে ‘সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি’ পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে বেলা সোয়া তিনটায় তিন সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে ‘সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি’ ঘোষণা করা হয়েছে।

তিন সংগঠনের নেতারা জানান, নবনিযুক্ত উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাঁরা ‘সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি’ পালন করবেন। পূর্বঘোষিত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতির পাশাপাশি সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি পালন করা হবে। নতুন উপাচার্যকে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের সহযোগিতা করবেন না তাঁরা।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা চুয়েট ক্যাম্পাসে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ অন্যদের জন্য বিদ্যুৎ, পানি ও খাবারের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। শিক্ষার্থীরা জানান, ভেতরে খাবার ও পানি দেওয়া হয়েছে, তবে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হবে না।

এ সময় যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন মূলত উনার ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে ছিল না। কিন্তু তিনি ক্যাম্পাসে আসার আগেই আমাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন আটকে দিয়েছিলেন। আজ তালা ভেঙে অফিসে প্রবেশ করেছেন এবং চুয়েটের বাসে হামলা করিয়েছেন। এখন আর কোনো আপস নয়, আমরা সরাসরি তাঁর পদত্যাগ চাই। তিনি পদত্যাগ করলেই সসম্মানে বিদ্যুৎ, পানিসহ সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন।’