মাদ্রাসায় শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান
- আপডেট সময় : ০৬:০২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশুদের যৌন নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগের সাম্প্রতিক খবরে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। সংস্থাটি বলেছে, প্রতিটি অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। নির্যাতনের শিকার শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও আইনি সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পরিচয়, গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।
আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানিয়েছে এমজেএফ।
.
গাজীপুর, টঙ্গী, সাভার ও কুষ্টিয়ায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে এমজেএফ বলেছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার চেয়ে প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে। ভয়, সামাজিক লজ্জা কিংবা চাপের কারণে অনেক শিশু হয়তো নির্যাতনের কথা বলতে পারে না। এসব ঘটনার পাশাপাশি অভিযোগ জানাতে বাধা দেওয়া ও ভয়ভীতি দেখানোর বিষয়ও উদ্বেগজনক। প্রতিটি অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।
এমজেএফ বলেছে, শিশুদের ওপর নির্যাতন প্রতিরোধ এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রত্যেক শিশু যেন নিরাপদ পরিবেশে মর্যাদার সঙ্গে এবং কোনো ভয় ছাড়াই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
.
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ‘প্রত্যেক শিশুর নিরাপদ ও স্নেহপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। মা–বাবা তাঁদের সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠান এই বিশ্বাস নিয়ে যে সেখানে তারা শিখবে, নিজেদের বিকশিত করবে এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়বে। যাঁদের দায়িত্ব শিশুদের যত্ন নেওয়া ও শিক্ষা দেওয়া, তাঁদের কাছ থেকে কোনো শিশুর ভয় পাওয়ার কথা নয়। কোনো শিশু নির্যাতনের কথা জানালে আমাদের প্রথম দায়িত্ব হলো তার কথা শোনা, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’
শিশুদের যেকোনো নির্যাতন বা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের কথা নির্ভয়ে জানাতে মা–বাবাকে তাদের উৎসাহিত করতে হবে উল্লেখ করে শাহীন আনাম বলেন, শিশুদের আশ্বস্ত করতে হবে যে তাদের কথা শোনা হবে, তাদের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে। নির্যাতনের কথা বলার কারণে কোনো শিশুকে দোষারোপ, ভয় দেখানো বা চুপ করিয়ে দেওয়া যাবে না।
.
শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব উল্লেখ করে শাহীন আনাম আরও বলেন, প্রত্যেক শিশু যেন নির্ভয়ে নিজের কথা বলতে পারে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শিশুকে যেন শিক্ষা ও নিরাপত্তার মধ্যে একটিকে বেছে নিতে না হয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা জোরদার করা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য এমজেএফ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে উল্লেখে সংস্থাটি ২০০৯ সালে হাইকোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশনা এবং পরবর্তী নির্দেশনার আলোকে মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন ও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে শিশু সুরক্ষা জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছে এমজেএফ।























