ট্রাম্পের সামরিক কৌশলের ব্যঙ্গ করল ইরান
- আপডেট সময় : ১১:৩৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে

পশ্চিমাদের সামরিক কৌশলকে ‘অপারেশন ট্রাস্ট মি ব্রো’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক পশ্চিমা সামরিক কৌশল ও মহড়াকে তীব্র বিদ্রূপ করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে গালিবাফ তেহরানের বিরুদ্ধে ঘোষিত মার্কিন সামরিক অভিযানগুলোর নামকরণ নিয়েও পরিহাস করেন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপকে ‘অপারেশন ট্রাস্ট মি ব্রো’ এবং ‘অপারেশন ফক্সিওস’ নামে উল্লেখ করেন। তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কৌশলগত উত্তেজনা চরমে রয়েছে এবং উভয় পক্ষ মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে জড়িয়েছে।
গালিবাফ তার পোস্টে দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের পরিকল্পনাগুলো কার্যকর কোনো ফল বয়ে আনতে পারছে না। বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গিতে তিনি লেখেন, ‘অপারেশন ট্রাস্ট মি ব্রো ব্যর্থ হয়েছে।’ পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, পশ্চিমা শক্তিগুলো আবারও তাদের পুরোনো কৌশলে ফিরে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘ট্রাস্ট মি ব্রো’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে গালিবাফ মূলত মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক সক্ষমতার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চেয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমারা ফাঁকা আশ্বাস ও প্রচারণার মাধ্যমে নিজেদের শক্তিশালী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
ইরানের এই প্রভাবশালী নেতা মনে করেন, তেহরানকে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যে সামরিক পরিকল্পনা করছে, তা অনেকটাই নামসর্বস্ব। তার এই মন্তব্যকে ইরানের অভ্যন্তরীণ জনমতকে চাঙা করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেকোনো বহিরাগত আগ্রাসন মোকাবিলায় সক্ষম এবং ওয়াশিংটনর কৌশলগুলো মূলত প্রচারণানির্ভর।
গালিবাফের এই পোস্ট ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমগুলো একে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে একটি সফল ‘ডিজিটাল পাল্টা আক্রমণ’ হিসেবে তুলে ধরছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এ ধরনের বাগযুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত পেন্টাগন বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল আলোচনা চলছে।























