ঢাকা ১২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে কৃষিজমিতে ড্রেজার, বন্ধের পরও ফের বালু উত্তোলন

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ কৃষিজমিতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নির্দেশে দুই দফায় পুলিশ গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করলেও পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবারও ড্রেজার চালু করা হচ্ছে।

জানা যায়, উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের রামডাকুয়া গ্রামের গুচ্ছগ্রামের উত্তর পাশে গত বৃহস্পতিবার থেকে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন স্থানীয় হাসর আলী নামের এক ব্যক্তি। কৃষিজমি থেকে বালু তুলে নতুন বাড়ির জায়গা ভরাট করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, আবাদি জমির কাছাকাছি ড্রেজার বসিয়ে মাটির নিচ থেকে বালু তোলা হচ্ছে। এতে আশপাশের প্রায় ২৫ একর ফসলি জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি পুলিশ পাঠান। পুলিশ গিয়ে ড্রেজার বন্ধ করে দেয়। পরে পুলিশ চলে গেলে আবারও বালু উত্তোলন শুরু হয়। শুক্রবার দিনভর বালু উত্তোলন করেন।

শনিবার বিষয়টি ইউএনওকে জানানো হলে তিনি ফের পুলিশ পাঠান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবারও ড্রেজার চালু করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আবাদি জমি থেকে বালু উত্তোলন হচ্ছে। এতে আশপাশের অনেক জমির ফসল নষ্ট হবে। বিষয়টি একাধিকবার ইউএনওকে জানানো হয়েছে। পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করা হলেও পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবার বালু উত্তোলন শুরু হয়।’

মাসুদা বেগম নামের এক গৃহীনি বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে বালু উত্তোলন করছে। পুলিশ এসেও কোনো কাজ হচ্ছেনা। তারা নাকি সবাইকে ম্যানেজ করেই এ কাজ করছেন।’

স্থানীয়দের দাবি, কৃষিজমির কাছ থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি ইউএনওকে বারবার জানানো হলেও তিনি ঘটনাস্থলে আসেননি। দুই দফায় পুলিশ পাঠিয়ে ড্রেজার বন্ধ করা হলেও পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবারও বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে বালু উত্তোলনের ঘটনায় কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ড্রেজারের মালিক সবুজ মিয়া বলেন, ‘সবাইকে ম্যানেজ করেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আজকের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।’

তবে কার সঙ্গে কীভাবে ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

এ বিষয়ে বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমি জানতাম না ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেদিন পুলিশ আসায় বিষয়টি জানতে পেরেছি।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশ পাঠিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ বালু উত্তোলন করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

সুন্দরগঞ্জে কৃষিজমিতে ড্রেজার, বন্ধের পরও ফের বালু উত্তোলন

আপডেট সময় : ০৮:৪৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ কৃষিজমিতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নির্দেশে দুই দফায় পুলিশ গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করলেও পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবারও ড্রেজার চালু করা হচ্ছে।

জানা যায়, উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের রামডাকুয়া গ্রামের গুচ্ছগ্রামের উত্তর পাশে গত বৃহস্পতিবার থেকে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন স্থানীয় হাসর আলী নামের এক ব্যক্তি। কৃষিজমি থেকে বালু তুলে নতুন বাড়ির জায়গা ভরাট করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, আবাদি জমির কাছাকাছি ড্রেজার বসিয়ে মাটির নিচ থেকে বালু তোলা হচ্ছে। এতে আশপাশের প্রায় ২৫ একর ফসলি জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি পুলিশ পাঠান। পুলিশ গিয়ে ড্রেজার বন্ধ করে দেয়। পরে পুলিশ চলে গেলে আবারও বালু উত্তোলন শুরু হয়। শুক্রবার দিনভর বালু উত্তোলন করেন।

শনিবার বিষয়টি ইউএনওকে জানানো হলে তিনি ফের পুলিশ পাঠান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবারও ড্রেজার চালু করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আবাদি জমি থেকে বালু উত্তোলন হচ্ছে। এতে আশপাশের অনেক জমির ফসল নষ্ট হবে। বিষয়টি একাধিকবার ইউএনওকে জানানো হয়েছে। পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করা হলেও পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবার বালু উত্তোলন শুরু হয়।’

মাসুদা বেগম নামের এক গৃহীনি বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে বালু উত্তোলন করছে। পুলিশ এসেও কোনো কাজ হচ্ছেনা। তারা নাকি সবাইকে ম্যানেজ করেই এ কাজ করছেন।’

স্থানীয়দের দাবি, কৃষিজমির কাছ থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি ইউএনওকে বারবার জানানো হলেও তিনি ঘটনাস্থলে আসেননি। দুই দফায় পুলিশ পাঠিয়ে ড্রেজার বন্ধ করা হলেও পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবারও বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে বালু উত্তোলনের ঘটনায় কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ড্রেজারের মালিক সবুজ মিয়া বলেন, ‘সবাইকে ম্যানেজ করেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আজকের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।’

তবে কার সঙ্গে কীভাবে ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

এ বিষয়ে বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমি জানতাম না ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেদিন পুলিশ আসায় বিষয়টি জানতে পেরেছি।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশ পাঠিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ বালু উত্তোলন করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’