ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অদিতা হত্যা মামলার রায় পেছাল

নোয়াখালী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৫৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালীর চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী তাসমিয়া হোসেন অদিতি (১৪) হত্যা মামলার রায় ঘোষণার নির্ধারিত তারিখ পরিবর্তন করে আগামী ২৯ এপ্রিল ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সেলিম শাহী বলেন, বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত থাকলেও এজলাসে বসেই বিচারক রায়ের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করেন। মামলার রায় পিছিয়ে আগামী ২৯ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিহত অদিতি নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেন সরকারের মেয়ে। তার মা রাজিয়া সুলতানা বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।

অভিযুক্ত আব্দুর রহিম রনি (৩২) নোয়াখালী পৌরসভার একই এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে এবং অদিতির সাবেক গৃহশিক্ষক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার জাহান মঞ্জিলের নিজ বাসা থেকে অদিতির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের সময় তার গলা, হাত ও পায়ের রগ কাটা ছিল, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

ঘটনার দিন রাতেই পুলিশের তদন্তে অদিতির সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনি গ্রেফতার হন। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

অদিতির মা রাজিয়া সুলতানা জানান, রনি কিছুদিন অদিতির গৃহশিক্ষক ছিলেন। অল্প কিছুদিন পড়ার পর অদিতি তার মাকে জানায় যে সে আর রনির কাছে পড়বে না। পরে অন্যত্র কোচিং শুরু করলে এতে ক্ষুব্ধ হন রনি।

ঘটনার দিন অদিতি বাসায় একা থাকার সুযোগে দুপুরে বাসায় ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন রনি। অদিতি বিষয়টি তার মাকে জানাবে বললে রনি প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে এবং পরে নৃশংসভাবে গলা, হাত ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করেন। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বাসার আসবাবপত্রসহ পুরো ঘর এলোমেলো করে রাখেন তিনি।

রাজিয়া সুলতানা বলেন, আমার মেয়ের হত্যার ন্যায়বিচার চাই। খুনির এমন শাস্তি হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেফতারের সময় রনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে নখের আঁচড়ের দাগ এবং তার পোশাকে তাজা রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়, যা ডিএনএ পরীক্ষায় অদিতির বলে শনাক্ত হয়। পরে রনির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়।

মামলার বিচারিক কার্যক্রমে বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

অদিতা হত্যা মামলার রায় পেছাল

আপডেট সময় : ০৯:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

নোয়াখালীর চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী তাসমিয়া হোসেন অদিতি (১৪) হত্যা মামলার রায় ঘোষণার নির্ধারিত তারিখ পরিবর্তন করে আগামী ২৯ এপ্রিল ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সেলিম শাহী বলেন, বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত থাকলেও এজলাসে বসেই বিচারক রায়ের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করেন। মামলার রায় পিছিয়ে আগামী ২৯ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিহত অদিতি নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেন সরকারের মেয়ে। তার মা রাজিয়া সুলতানা বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।

অভিযুক্ত আব্দুর রহিম রনি (৩২) নোয়াখালী পৌরসভার একই এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে এবং অদিতির সাবেক গৃহশিক্ষক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার জাহান মঞ্জিলের নিজ বাসা থেকে অদিতির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের সময় তার গলা, হাত ও পায়ের রগ কাটা ছিল, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

ঘটনার দিন রাতেই পুলিশের তদন্তে অদিতির সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনি গ্রেফতার হন। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

অদিতির মা রাজিয়া সুলতানা জানান, রনি কিছুদিন অদিতির গৃহশিক্ষক ছিলেন। অল্প কিছুদিন পড়ার পর অদিতি তার মাকে জানায় যে সে আর রনির কাছে পড়বে না। পরে অন্যত্র কোচিং শুরু করলে এতে ক্ষুব্ধ হন রনি।

ঘটনার দিন অদিতি বাসায় একা থাকার সুযোগে দুপুরে বাসায় ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন রনি। অদিতি বিষয়টি তার মাকে জানাবে বললে রনি প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে এবং পরে নৃশংসভাবে গলা, হাত ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করেন। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বাসার আসবাবপত্রসহ পুরো ঘর এলোমেলো করে রাখেন তিনি।

রাজিয়া সুলতানা বলেন, আমার মেয়ের হত্যার ন্যায়বিচার চাই। খুনির এমন শাস্তি হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেফতারের সময় রনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে নখের আঁচড়ের দাগ এবং তার পোশাকে তাজা রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়, যা ডিএনএ পরীক্ষায় অদিতির বলে শনাক্ত হয়। পরে রনির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়।

মামলার বিচারিক কার্যক্রমে বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।