ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২৮ বিশিষ্টজনের বিবৃতি: স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ঠিক করে দিতে পারে না কে মুক্তিযোদ্ধা, কে নন যশোর বোর্ডে ৫৫ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেননি, কমেছে জিপিএ-৫ ‘বাঁধনহারা’র পাতায় মুক্তির খোঁজ: নজরুলের উপন্যাস নিয়ে পাঠচক্র এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ–৫, তাঁর নাটকের ভিউ সবচেয়ে বেশি… বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তিন ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ খেলাপি ঋণের জালে আটকা ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ কী এইচএসসিতে ২২ বছরের মধ্যে পাসের হার কম, কিন্তু কেন এই বিপর্যয় কুমিল্লা বোর্ডে এবার ১৫ প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেননি খাবার না দেওয়ায় কাঠের চলা দিয়ে পিটুনি, বাবুর্চির পর আহত নারীর মৃত্যু ইতালিজুড়ে ধর্মঘট, রাস্তায় হাজারো মানুষ

শ্রীপুরে ‘চাপাই-কোপাই’ মরিচ চাষে নতুন সম্ভাবনা

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ৭৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাজীপুরের শ্রীপুরে ইন্দোনেশিয়ান জাতের ‘চাপাই-কোপাই’ মরিচ চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছেন এক চীনা উদ্যোক্তা। উচ্চ ফলন, আকর্ষণীয় আকার ও বাজারে চাহিদা থাকায় এ মরিচকে সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে দেখছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের হায়েতখারচালা গ্রামে প্রায় এক একর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এ মরিচের চাষ করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সর্বোচ্চ প্রায় দুই ফুট উচ্চতার গাছে ১২ থেকে ১৪ ইঞ্চি লম্বা মরিচ ঝুলছে। প্রতিটি গাছে ৩০ থেকে ৫০টি পর্যন্ত মরিচ ধরেছে। অধিক ফলনের কারণে গাছগুলো যাতে ভেঙে না পড়ে, সেজন্য খুঁটি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

উদ্যোক্তা চীনা নাগরিক ছেন জিয়েন গাও জানান, ‘চাপাই-কোপাই’ মরিচ ইন্দোনেশিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয় এবং চায়নিজ রেস্তোরাঁগুলোতে এর চাহিদা বেশি। মূলত নিজের রেস্তোরাঁর চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই তিনি এ মরিচ চাষ শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর। এখানে শাকসবজি চাষ করে আমরা ভালো ফলন পাচ্ছি। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেছি, ভবিষ্যতে বড় পরিসরে চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।’

মরিচ ক্ষেতের শ্রমিক আরিফ হোসেন বলেন, অল্প জমিতেই দুই থেকে আড়াই মণ পর্যন্ত মরিচ পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ এই ক্ষেত দেখতে আসছেন, যা নতুন ধরনের আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আব্দুল কাদির প্রধান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাসির উদ্দীন বলেন, এ ধরনের ভিন্নধর্মী চাষাবাদ এলাকায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে এবং কৃষকদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে।

জমির মালিক আতিকুর রহমান প্রধান জানান, তিনি এক একর জমি লিজ দিয়েছেন এবং সফলতা পাওয়ায় উদ্যোক্তা আরও জমি লিজ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, ‘চাপাই-কোপাই’ মরিচ দেখতে ক্যাপসিকামের মতো হলেও এর ঝাল অনেক বেশি। চায়নিজ রেস্তোরাঁগুলোতে এর চাহিদা থাকায় এটি লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে চাষিদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের মাটিতে এ মরিচের ভালো উৎপাদন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। সঠিক পরিকল্পনা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এ মরিচ দেশের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

শ্রীপুরে ‘চাপাই-কোপাই’ মরিচ চাষে নতুন সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০৮:০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুরে ইন্দোনেশিয়ান জাতের ‘চাপাই-কোপাই’ মরিচ চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছেন এক চীনা উদ্যোক্তা। উচ্চ ফলন, আকর্ষণীয় আকার ও বাজারে চাহিদা থাকায় এ মরিচকে সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে দেখছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের হায়েতখারচালা গ্রামে প্রায় এক একর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এ মরিচের চাষ করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সর্বোচ্চ প্রায় দুই ফুট উচ্চতার গাছে ১২ থেকে ১৪ ইঞ্চি লম্বা মরিচ ঝুলছে। প্রতিটি গাছে ৩০ থেকে ৫০টি পর্যন্ত মরিচ ধরেছে। অধিক ফলনের কারণে গাছগুলো যাতে ভেঙে না পড়ে, সেজন্য খুঁটি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

উদ্যোক্তা চীনা নাগরিক ছেন জিয়েন গাও জানান, ‘চাপাই-কোপাই’ মরিচ ইন্দোনেশিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয় এবং চায়নিজ রেস্তোরাঁগুলোতে এর চাহিদা বেশি। মূলত নিজের রেস্তোরাঁর চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই তিনি এ মরিচ চাষ শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর। এখানে শাকসবজি চাষ করে আমরা ভালো ফলন পাচ্ছি। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেছি, ভবিষ্যতে বড় পরিসরে চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।’

মরিচ ক্ষেতের শ্রমিক আরিফ হোসেন বলেন, অল্প জমিতেই দুই থেকে আড়াই মণ পর্যন্ত মরিচ পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ এই ক্ষেত দেখতে আসছেন, যা নতুন ধরনের আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আব্দুল কাদির প্রধান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাসির উদ্দীন বলেন, এ ধরনের ভিন্নধর্মী চাষাবাদ এলাকায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে এবং কৃষকদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে।

জমির মালিক আতিকুর রহমান প্রধান জানান, তিনি এক একর জমি লিজ দিয়েছেন এবং সফলতা পাওয়ায় উদ্যোক্তা আরও জমি লিজ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, ‘চাপাই-কোপাই’ মরিচ দেখতে ক্যাপসিকামের মতো হলেও এর ঝাল অনেক বেশি। চায়নিজ রেস্তোরাঁগুলোতে এর চাহিদা থাকায় এটি লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে চাষিদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের মাটিতে এ মরিচের ভালো উৎপাদন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। সঠিক পরিকল্পনা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এ মরিচ দেশের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।