ঢাকা ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২৮ বিশিষ্টজনের বিবৃতি: স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ঠিক করে দিতে পারে না কে মুক্তিযোদ্ধা, কে নন যশোর বোর্ডে ৫৫ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেননি, কমেছে জিপিএ-৫ ‘বাঁধনহারা’র পাতায় মুক্তির খোঁজ: নজরুলের উপন্যাস নিয়ে পাঠচক্র এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ–৫, তাঁর নাটকের ভিউ সবচেয়ে বেশি… বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তিন ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ খেলাপি ঋণের জালে আটকা ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ কী এইচএসসিতে ২২ বছরের মধ্যে পাসের হার কম, কিন্তু কেন এই বিপর্যয় কুমিল্লা বোর্ডে এবার ১৫ প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেননি খাবার না দেওয়ায় কাঠের চলা দিয়ে পিটুনি, বাবুর্চির পর আহত নারীর মৃত্যু ইতালিজুড়ে ধর্মঘট, রাস্তায় হাজারো মানুষ

স্বাভাবিক হওয়ার পথে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:০৮:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিগত কয়েক বছরের টানাপোড়েন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতার পথে ফিরছে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও পারস্পরিক সফর দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দুই দেশের সম্পর্ক মূলত একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবর্তিত হলেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভিসা, বাণিজ্য ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দূরত্ব তৈরি হয় বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তবে ২০২৬ সালের শুরু থেকে পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের আলোচনা শুরু হয়। ভারতও প্রকাশ্যে জানায়, তারা বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহী।

সাম্প্রতিক সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সফর এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৭ এপ্রিল ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফরের পর ৮ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা ও ভিসা সহজীকরণের বিষয় উঠে আসে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগামী সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা সহজ করা হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই পক্ষই এখন সম্পর্ককে ‘জনগণকেন্দ্রিক’ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র সরকার নয়, সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ও সুবিধা বাড়ানোর দিকেই মূল নজর দেওয়া হচ্ছে।

তবে সব ইস্যু এখনো সম্পূর্ণভাবে সমাধান হয়নি। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং কিছু রাজনৈতিক সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো সমাধান ছাড়া সম্পর্ক পুরোপুরি স্থিতিশীল হওয়া কঠিন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, দুই দেশের সম্পর্কে দীর্ঘদিনের যে রাজনৈতিক চাপ ছিল, তা ধীরে ধীরে কমছে। তবে বাস্তব অগ্রগতি দেখতে হলে কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন জরুরি।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্পর্ক এখন পুনর্গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। তবে এটি স্থায়ীভাবে স্বাভাবিক হবে কি না, তা আগামী কয়েক মাসের পারস্পরিক সিদ্ধান্ত ও বাস্তব পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

স্বাভাবিক হওয়ার পথে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

আপডেট সময় : ০৪:০৮:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

বিগত কয়েক বছরের টানাপোড়েন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতার পথে ফিরছে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও পারস্পরিক সফর দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দুই দেশের সম্পর্ক মূলত একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবর্তিত হলেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভিসা, বাণিজ্য ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দূরত্ব তৈরি হয় বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তবে ২০২৬ সালের শুরু থেকে পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের আলোচনা শুরু হয়। ভারতও প্রকাশ্যে জানায়, তারা বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহী।

সাম্প্রতিক সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সফর এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৭ এপ্রিল ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফরের পর ৮ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা ও ভিসা সহজীকরণের বিষয় উঠে আসে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগামী সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা সহজ করা হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই পক্ষই এখন সম্পর্ককে ‘জনগণকেন্দ্রিক’ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র সরকার নয়, সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ও সুবিধা বাড়ানোর দিকেই মূল নজর দেওয়া হচ্ছে।

তবে সব ইস্যু এখনো সম্পূর্ণভাবে সমাধান হয়নি। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং কিছু রাজনৈতিক সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো সমাধান ছাড়া সম্পর্ক পুরোপুরি স্থিতিশীল হওয়া কঠিন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, দুই দেশের সম্পর্কে দীর্ঘদিনের যে রাজনৈতিক চাপ ছিল, তা ধীরে ধীরে কমছে। তবে বাস্তব অগ্রগতি দেখতে হলে কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন জরুরি।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্পর্ক এখন পুনর্গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। তবে এটি স্থায়ীভাবে স্বাভাবিক হবে কি না, তা আগামী কয়েক মাসের পারস্পরিক সিদ্ধান্ত ও বাস্তব পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।