ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় বাড়তি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি, ডিলারকে জরিমানা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:১৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে অভিযোগের শুনানি শেষে শহরের জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন ‘মেসার্স রুহুল ট্রেডার্স’ নামের প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জেলা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পরেশ চন্দ্র বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শুনানিতে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় এ জরিমানা করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী রুহুল আমিন বাবুকে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল শহরের ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ১ হাজার ৮৫০ টাকায় কেনেন রওশন হাবিব নামে এক সংবাদকর্মী। পরে তিনি একই দিন জেলা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উপস্থিতিতে শুনানির আয়োজন করা হয়। শুনানিতে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য নেওয়া হয় এবং উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

এ বিষয়ে সহকারী পরিচালক পরেশ চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। ভোক্তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা সহ্য করা হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে।’

তবে শুনানির রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী রওশন হাবিব। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান যে কাগজপত্র উপস্থাপন করেছে, তা মূল কপি নয়। তার অভিযোগ, এসব নথি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি সঠিক বিচার পাইনি। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করব।’

এদিকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে তাদের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কোনো ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করলে বা ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

গাইবান্ধায় বাড়তি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি, ডিলারকে জরিমানা

আপডেট সময় : ০৫:১৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

গাইবান্ধায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে অভিযোগের শুনানি শেষে শহরের জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন ‘মেসার্স রুহুল ট্রেডার্স’ নামের প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জেলা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পরেশ চন্দ্র বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শুনানিতে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় এ জরিমানা করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী রুহুল আমিন বাবুকে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল শহরের ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ১ হাজার ৮৫০ টাকায় কেনেন রওশন হাবিব নামে এক সংবাদকর্মী। পরে তিনি একই দিন জেলা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উপস্থিতিতে শুনানির আয়োজন করা হয়। শুনানিতে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য নেওয়া হয় এবং উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

এ বিষয়ে সহকারী পরিচালক পরেশ চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। ভোক্তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা সহ্য করা হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে।’

তবে শুনানির রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী রওশন হাবিব। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান যে কাগজপত্র উপস্থাপন করেছে, তা মূল কপি নয়। তার অভিযোগ, এসব নথি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি সঠিক বিচার পাইনি। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করব।’

এদিকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে তাদের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কোনো ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করলে বা ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।