মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তেল দখলের পরিকল্পনা ট্রাম্পের
- আপডেট সময় : ১২:০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের তেল দখলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরানের তেল দখল করা তার অগ্রাধিকার, এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে ইরানের তেলক্ষেত্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে ইরানের খারগ দ্বীপ, যেখান থেকে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রফতানি হয়। তবে দ্বীপটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কঠোর নিরাপত্তার আওতায় থাকায় সেখানে সামরিক অভিযান চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ইরানের প্রমাণিত তেলের মজুদ প্রায় ১৫৭ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বৈশ্বিক মজুদের উল্লেখযোগ্য অংশ। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৩.৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করে এবং ওপেক-ভুক্ত হিসেবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র খারগ দ্বীপ দখল করলেই ইরানের তেল নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন ও শোধনাগারের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করা কঠিন। সম্ভাব্য স্থল অভিযানে ইরানের প্রতিরোধ, গেরিলা যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল দখলের চেষ্টা করে, তবে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়ে যেতে পারে। ইরানের অর্থনীতিতে তেল খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে, তাই আঘাত দেশটির জন্য বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে এবং পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে দিতে পারে।
ইতিহাসও মনে করিয়ে দেয়, ইরানের তেল নিয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ নতুন নয়। ১৯৫৩ সালে মোহাম্মদ মোসাদ্দেগ সরকারের পতনের পেছনে পশ্চিমা শক্তির ভূমিকা ছিল, যা আজও ইরান-পশ্চিম সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।
সব মিলিয়ে, ইরানের তেল দখলের পরিকল্পনা কেবল সামরিক নয়, এটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত জটিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।























