ঢাকা ০১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তেল দখলের পরিকল্পনা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
  • আপডেট সময় : ১২:০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের তেল দখলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরানের তেল দখল করা তার অগ্রাধিকার, এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে ইরানের তেলক্ষেত্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে ইরানের খারগ দ্বীপ, যেখান থেকে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রফতানি হয়। তবে দ্বীপটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কঠোর নিরাপত্তার আওতায় থাকায় সেখানে সামরিক অভিযান চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ইরানের প্রমাণিত তেলের মজুদ প্রায় ১৫৭ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বৈশ্বিক মজুদের উল্লেখযোগ্য অংশ। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৩.৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করে এবং ওপেক-ভুক্ত হিসেবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র খারগ দ্বীপ দখল করলেই ইরানের তেল নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন ও শোধনাগারের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করা কঠিন। সম্ভাব্য স্থল অভিযানে ইরানের প্রতিরোধ, গেরিলা যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল দখলের চেষ্টা করে, তবে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়ে যেতে পারে। ইরানের অর্থনীতিতে তেল খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে, তাই আঘাত দেশটির জন্য বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে এবং পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে দিতে পারে।

ইতিহাসও মনে করিয়ে দেয়, ইরানের তেল নিয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ নতুন নয়। ১৯৫৩ সালে মোহাম্মদ মোসাদ্দেগ সরকারের পতনের পেছনে পশ্চিমা শক্তির ভূমিকা ছিল, যা আজও ইরান-পশ্চিম সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।

সব মিলিয়ে, ইরানের তেল দখলের পরিকল্পনা কেবল সামরিক নয়, এটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত জটিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তেল দখলের পরিকল্পনা ট্রাম্পের

আপডেট সময় : ১২:০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের তেল দখলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরানের তেল দখল করা তার অগ্রাধিকার, এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে ইরানের তেলক্ষেত্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে ইরানের খারগ দ্বীপ, যেখান থেকে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রফতানি হয়। তবে দ্বীপটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কঠোর নিরাপত্তার আওতায় থাকায় সেখানে সামরিক অভিযান চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ইরানের প্রমাণিত তেলের মজুদ প্রায় ১৫৭ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বৈশ্বিক মজুদের উল্লেখযোগ্য অংশ। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৩.৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করে এবং ওপেক-ভুক্ত হিসেবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র খারগ দ্বীপ দখল করলেই ইরানের তেল নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন ও শোধনাগারের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করা কঠিন। সম্ভাব্য স্থল অভিযানে ইরানের প্রতিরোধ, গেরিলা যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল দখলের চেষ্টা করে, তবে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়ে যেতে পারে। ইরানের অর্থনীতিতে তেল খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে, তাই আঘাত দেশটির জন্য বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে এবং পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে দিতে পারে।

ইতিহাসও মনে করিয়ে দেয়, ইরানের তেল নিয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ নতুন নয়। ১৯৫৩ সালে মোহাম্মদ মোসাদ্দেগ সরকারের পতনের পেছনে পশ্চিমা শক্তির ভূমিকা ছিল, যা আজও ইরান-পশ্চিম সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।

সব মিলিয়ে, ইরানের তেল দখলের পরিকল্পনা কেবল সামরিক নয়, এটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত জটিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।