তিন দশকেও সংস্কার হয়নি, ঝুঁকিতে জনজীবন
- আপডেট সময় : ১১:৩৯:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

মুরাদনগর উপজেলা-এর কড়ইবাড়ী থেকে হায়দরাবাদ ইয়াকুব আলী ভূঁইয়া সড়কের প্রবেশমুখে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এখন জনসাধারণের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতুর মাঝখানে বড় ধরনের গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি এখন আর সেতু নয়, যেন একটি ‘মরণফাঁদ’।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯২ সালে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে মারাত্মকভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কাঠামোগত অংশ (টেম্পার) নষ্ট হয়ে মাঝখানে ভেঙে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে একই অবস্থায় পড়ে থাকলেও স্থায়ী সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝে মাঝে অস্থায়ীভাবে সিমেন্ট দিয়ে মেরামতের চেষ্টা করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে গত পাঁচ মাসে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এই সড়ক দিয়ে আকবপুরসহ আশপাশের অন্তত তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। সেতুটির এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে তাদের প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত যানবাহনের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ইতোমধ্যে একাধিক অটোরিকশা উল্টে গিয়ে কয়েকজন যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় অটোরিকশাচালক শিমুল, বাছির ও শরীফ মিয়া বলেন, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেতু পার হতে হয়। অনেক সময় গাড়ির চাকা ভাঙা অংশে পড়ে গিয়ে উল্টে যায়, এতে যাত্রীরা আহত হন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আকবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাল একটি হত্যা মামলার আসামি হয়ে পলাতক থাকায় স্থানীয়ভাবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তারা জানান।
সেতুটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়ে এলাকাবাসী বলেন, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ বলেন, সেতুটির ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি তার নজরে এসেছে। মেরামতের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং শিগগিরই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।


























