ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

ইমেজ বাঁচাতে হামলার খবর গোপন রাখতে চায় আরব আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
  • আপডেট সময় : ০৪:১৭:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরান সম্প্রতি ব্যাপক আকারের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে দুবাই বন্দরে ইরানি ড্রোন একটি তেলবাহী জাহাজ ‘আল সালমি’-তে আগুন ধরিয়ে দেয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ঘটনা নজরে আসে না মিডিয়ায়; জ্বলন্ত জাহাজের ভিডিও বা পরিষ্কার ছবি প্রায় কেউই দেখতে পায়নি। শুধু একটি দূর থেকে তোলা ছবি প্রকাশ পায়, যেখানে ধোঁয়া ওঠা দৃশ্যটিই দেখা যায়।

সাধারণত এমন হামলার ছবি স্মার্টফোনে তোলা মাত্র মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ইরান, ইসরায়েল ও লেবাননে তা ঘটে। কিন্তু দুবাইয়ে কেন এমন হয়নি? উত্তর সরল—সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার হামলার খবর নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে নেমেছে। কেউ যদি ছবি বা ভিডিও শেয়ার করে, তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।

গত ১২ মার্চ, দুবাইয়ের ক্রিক হারবার এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ইরানি ড্রোন হামলা চালায়। সেই ভবনের তিনজন বাসিন্দা শুধু পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের ছবি পাঠানোর কারণে গ্রেফতার হন। এর আগেও একটি প্রাইভেট চ্যাটে হামলার খবর শেয়ার করার অভিযোগে ২১ জনকে আটক করা হয়।

দেশটির সাইবার অপরাধ আইনে বলা আছে, ‘মিথ্যা খবর, গুজব বা উত্তেজনামূলক কিছু প্রচার করলে’ শাস্তি হবে। এ শাস্তির মধ্যে রয়েছে দুই বছরের জেল, দেশ থেকে বহিষ্কার এবং ২০ হাজার থেকে ২ লাখ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানা।

‘ডিটেইনড ইন দুবাই’ সংস্থার প্রধান রাধা স্টার্লিং জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে শত শত সাধারণ মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তায় মানুষকে থামিয়ে ফোন তল্লাশি করছে, এমনকি বাড়িতেও একই কাজ করছে। ফিলিপিনো গৃহকর্মী থেকে শুরু করে কোটিপতি পর্যন্ত সবাই এর শিকার।

আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি বলেন, হামলার ছবি শেয়ার করলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে পারে এবং ‘দেশের আসল পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা’ তৈরি হতে পারে। তবে অনেক দেশি-বিদেশি সাংবাদিক এই নিয়মের কারণে দিনের পর দিন আটকা পড়েছেন।

কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস-এর মধ্যপ্রাচ্য বিভাগের পরিচালক সারা কুদাহ বলেন, সাংবাদিকরা গোপনভাবেই জানিয়েছেন, তারা কী ঘটছে তা প্রকাশ করতে পারছেন না—নিষেধাজ্ঞা কঠোর।

দুবাই নিজেকে ‘বিশ্বের নিরাপদতম শহর’ বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু এই যুদ্ধ এবং কঠোর সংবাদ নিয়ন্ত্রণ সেই ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত দিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশে ১,৯৭৭টি ড্রোন, ১৯টি ক্রুজ মিসাইল এবং ৪৩৩টি ব্যালিস্টিক মিসাইল আঘাত করেছে।

অনেক বিদেশি নাগরিক দেশ ছাড়েছেন। স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে চলছে। বিমানবন্দর মাত্র ৬০% ক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। শহরের একজন ব্রিটিশ প্রবাসী বলেন, আমিরাত সবসময় ভাবমূর্তির প্রতি সচেতন, কিন্তু নিরাপত্তা কমে গেলে তা মেনে নেওয়া কঠিন।

শারজাহর আমেরিকান ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক শ্রেয়া মিত্র মন্তব্য করেন, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ এখনও দুবাইকে নিরাপদ মনে করতে পারেন। কিন্তু রাধা স্টার্লিং ও সারা কুদাহ একমত, সেন্সরশিপ দীর্ঘমেয়াদে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এভাবে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

ইমেজ বাঁচাতে হামলার খবর গোপন রাখতে চায় আরব আমিরাত

আপডেট সময় : ০৪:১৭:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরান সম্প্রতি ব্যাপক আকারের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে দুবাই বন্দরে ইরানি ড্রোন একটি তেলবাহী জাহাজ ‘আল সালমি’-তে আগুন ধরিয়ে দেয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ঘটনা নজরে আসে না মিডিয়ায়; জ্বলন্ত জাহাজের ভিডিও বা পরিষ্কার ছবি প্রায় কেউই দেখতে পায়নি। শুধু একটি দূর থেকে তোলা ছবি প্রকাশ পায়, যেখানে ধোঁয়া ওঠা দৃশ্যটিই দেখা যায়।

সাধারণত এমন হামলার ছবি স্মার্টফোনে তোলা মাত্র মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ইরান, ইসরায়েল ও লেবাননে তা ঘটে। কিন্তু দুবাইয়ে কেন এমন হয়নি? উত্তর সরল—সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার হামলার খবর নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে নেমেছে। কেউ যদি ছবি বা ভিডিও শেয়ার করে, তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।

গত ১২ মার্চ, দুবাইয়ের ক্রিক হারবার এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ইরানি ড্রোন হামলা চালায়। সেই ভবনের তিনজন বাসিন্দা শুধু পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের ছবি পাঠানোর কারণে গ্রেফতার হন। এর আগেও একটি প্রাইভেট চ্যাটে হামলার খবর শেয়ার করার অভিযোগে ২১ জনকে আটক করা হয়।

দেশটির সাইবার অপরাধ আইনে বলা আছে, ‘মিথ্যা খবর, গুজব বা উত্তেজনামূলক কিছু প্রচার করলে’ শাস্তি হবে। এ শাস্তির মধ্যে রয়েছে দুই বছরের জেল, দেশ থেকে বহিষ্কার এবং ২০ হাজার থেকে ২ লাখ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানা।

‘ডিটেইনড ইন দুবাই’ সংস্থার প্রধান রাধা স্টার্লিং জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে শত শত সাধারণ মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তায় মানুষকে থামিয়ে ফোন তল্লাশি করছে, এমনকি বাড়িতেও একই কাজ করছে। ফিলিপিনো গৃহকর্মী থেকে শুরু করে কোটিপতি পর্যন্ত সবাই এর শিকার।

আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি বলেন, হামলার ছবি শেয়ার করলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে পারে এবং ‘দেশের আসল পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা’ তৈরি হতে পারে। তবে অনেক দেশি-বিদেশি সাংবাদিক এই নিয়মের কারণে দিনের পর দিন আটকা পড়েছেন।

কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস-এর মধ্যপ্রাচ্য বিভাগের পরিচালক সারা কুদাহ বলেন, সাংবাদিকরা গোপনভাবেই জানিয়েছেন, তারা কী ঘটছে তা প্রকাশ করতে পারছেন না—নিষেধাজ্ঞা কঠোর।

দুবাই নিজেকে ‘বিশ্বের নিরাপদতম শহর’ বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু এই যুদ্ধ এবং কঠোর সংবাদ নিয়ন্ত্রণ সেই ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত দিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশে ১,৯৭৭টি ড্রোন, ১৯টি ক্রুজ মিসাইল এবং ৪৩৩টি ব্যালিস্টিক মিসাইল আঘাত করেছে।

অনেক বিদেশি নাগরিক দেশ ছাড়েছেন। স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে চলছে। বিমানবন্দর মাত্র ৬০% ক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। শহরের একজন ব্রিটিশ প্রবাসী বলেন, আমিরাত সবসময় ভাবমূর্তির প্রতি সচেতন, কিন্তু নিরাপত্তা কমে গেলে তা মেনে নেওয়া কঠিন।

শারজাহর আমেরিকান ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক শ্রেয়া মিত্র মন্তব্য করেন, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ এখনও দুবাইকে নিরাপদ মনে করতে পারেন। কিন্তু রাধা স্টার্লিং ও সারা কুদাহ একমত, সেন্সরশিপ দীর্ঘমেয়াদে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এভাবে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।