ঢাকা ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবনায় পরকীয়ার জেরে সন্তান হত্যা ও মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা

পাবনা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাবনার আটঘরিয়ায় এক দুঃখজনক ও নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। চার বছর বয়সী শিশুটি মো. তাওহিদকে তার মা মুক্তা খাতুন বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পরে একই নারী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এই ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টার দিকে চাঁদভা ইউনিয়নের ভরতপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামে।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, মুক্তা খাতুন দীর্ঘ দুই বছর ধরে ‘হৃদয়’ নামের এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। শিশুটির বাবা টুটুল ইসলাম দীর্ঘ দুই বছর ধরে সিঙ্গাপুর প্রবাসে অবস্থান করছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মা মুক্তা খাতুন সন্তানের সঙ্গে থাকা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়ে ঘরের ভেতরে বালিশ চাপা দিয়ে সন্তানকে হত্যা করেন এবং এরপর নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা সময়মতো বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মুক্তা খাতুনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। Meanwhile, নিহত শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, শিশুর মৃত্যু পুরো পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে।

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই নির্মম ঘটনা পরকীয়া সম্পর্কের কারণে ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, মা মুক্তা খাতুন সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং ঘটনার সঠিক তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে।

স্থানীয় সমাজ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই ধরনের ঘটনা সমাজে মানসিক চাপ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক অনৈতিক প্রভাবের ফলেও ঘটতে পারে। শিশু ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পুলিশ এবং সামাজিক সংস্থা একযোগে পদক্ষেপ নিচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, শিশুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কেউ থাকলে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে।

এ ঘটনায় পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরকীয়া ও পারিবারিক বিরোধের কারণে যে কোন মুহূর্তে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারে, তাই সামাজিক সচেতনতা ও পরিবারিক মানসিক সমর্থন অপরিহার্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

পাবনায় পরকীয়ার জেরে সন্তান হত্যা ও মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা

আপডেট সময় : ১১:৪৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

পাবনার আটঘরিয়ায় এক দুঃখজনক ও নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। চার বছর বয়সী শিশুটি মো. তাওহিদকে তার মা মুক্তা খাতুন বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পরে একই নারী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এই ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টার দিকে চাঁদভা ইউনিয়নের ভরতপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামে।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, মুক্তা খাতুন দীর্ঘ দুই বছর ধরে ‘হৃদয়’ নামের এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। শিশুটির বাবা টুটুল ইসলাম দীর্ঘ দুই বছর ধরে সিঙ্গাপুর প্রবাসে অবস্থান করছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মা মুক্তা খাতুন সন্তানের সঙ্গে থাকা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়ে ঘরের ভেতরে বালিশ চাপা দিয়ে সন্তানকে হত্যা করেন এবং এরপর নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা সময়মতো বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মুক্তা খাতুনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। Meanwhile, নিহত শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, শিশুর মৃত্যু পুরো পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে।

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই নির্মম ঘটনা পরকীয়া সম্পর্কের কারণে ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, মা মুক্তা খাতুন সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং ঘটনার সঠিক তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে।

স্থানীয় সমাজ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই ধরনের ঘটনা সমাজে মানসিক চাপ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক অনৈতিক প্রভাবের ফলেও ঘটতে পারে। শিশু ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পুলিশ এবং সামাজিক সংস্থা একযোগে পদক্ষেপ নিচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, শিশুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কেউ থাকলে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে।

এ ঘটনায় পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরকীয়া ও পারিবারিক বিরোধের কারণে যে কোন মুহূর্তে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারে, তাই সামাজিক সচেতনতা ও পরিবারিক মানসিক সমর্থন অপরিহার্য।