ঢাকা ০১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

যে কোনো উপায়ে হরমুজ প্রণালি সচল রাখা হবে’— মার্কিন হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
  • আপডেট সময় : ০৪:০৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত এর মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কো রুবিও বলেছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইরান সম্মত হোক বা না হোক, ‘যে কোনো উপায়ে’ এই প্রণালি সচল রাখা হবে।

সোমবার (৩০ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রুবিও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সবসময় কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন। তবে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করতেও পিছপা হবে না যুক্তরাষ্ট্র।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক তেল পরিবহনের একটি বড় অংশ এই নৌপথ দিয়ে হয়ে থাকে।

রুবিও দাবি করেন, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গোপন বার্তা আদান-প্রদান চলছে। পাকিস্তান-এর মধ্যস্থতায় সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনাও রয়েছে। যদিও ইরান এ ধরনের আলোচনা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের লক্ষ্য নির্দিষ্ট। ইরানের বিমান ও নৌ সক্ষমতা ইতোমধ্যে দুর্বল করা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি জানান, এখন লক্ষ্য তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করা।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন রুবিও। তার অভিযোগ, তেহরান পরমাণু অস্ত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে চায়। একই সঙ্গে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে রুবিও বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। যুদ্ধ শেষে ইরান নিজে এটি খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যৌথভাবে তা নিশ্চিত করবে। অন্যথায় তেহরানকে ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করতে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

প্রায় এক মাস ধরে চলা এই সংঘাতে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র—তিন পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

যে কোনো উপায়ে হরমুজ প্রণালি সচল রাখা হবে’— মার্কিন হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০৪:০৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত এর মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কো রুবিও বলেছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইরান সম্মত হোক বা না হোক, ‘যে কোনো উপায়ে’ এই প্রণালি সচল রাখা হবে।

সোমবার (৩০ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রুবিও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সবসময় কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন। তবে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করতেও পিছপা হবে না যুক্তরাষ্ট্র।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক তেল পরিবহনের একটি বড় অংশ এই নৌপথ দিয়ে হয়ে থাকে।

রুবিও দাবি করেন, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গোপন বার্তা আদান-প্রদান চলছে। পাকিস্তান-এর মধ্যস্থতায় সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনাও রয়েছে। যদিও ইরান এ ধরনের আলোচনা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের লক্ষ্য নির্দিষ্ট। ইরানের বিমান ও নৌ সক্ষমতা ইতোমধ্যে দুর্বল করা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি জানান, এখন লক্ষ্য তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করা।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন রুবিও। তার অভিযোগ, তেহরান পরমাণু অস্ত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে চায়। একই সঙ্গে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে রুবিও বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। যুদ্ধ শেষে ইরান নিজে এটি খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যৌথভাবে তা নিশ্চিত করবে। অন্যথায় তেহরানকে ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করতে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

প্রায় এক মাস ধরে চলা এই সংঘাতে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র—তিন পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।