ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ডের বিল পাস করল ইসরায়েল, বাড়ছে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
  • আপডেট সময় : ০৪:১১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসরায়েল-এর পার্লামেন্ট নেসেট ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়ে একটি বিতর্কিত বিল পাস করেছে। বিলটি কার্যকর হলে ছয় দশকের বেশি সময় পর দেশটিতে আবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শুরু হতে পারে।

সোমবার সন্ধ্যায় ভোটের মাধ্যমে বিলটি পাস হয়। এতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম The Jerusalem Post জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অধিবেশনে উপস্থিত থেকে বিলটির পক্ষে ভোট দেন।

বিলটি উত্থাপন করেন কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং তার দল ‘ওৎজমা ইহুদিত’। তাদের দাবি, নতুন আইন সন্ত্রাস দমনে কার্যকর হবে এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।

তবে বিলটি ঘিরে নেসেটে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেন, এটি কার্যকর কোনো আইন নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেওয়া পদক্ষেপ। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্টজ-ও এর বিরোধিতা করেন।

নতুন আইনে অধিকৃত পশ্চিম তীরে হত্যাকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য ফাঁসি কার্যকরের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলি আদালত নিজ দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা পাবে। তবে আইনটি পূর্ববর্তী ঘটনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না; শুধুমাত্র ভবিষ্যতের মামলায় কার্যকর হবে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিলটির তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এটি বর্ণবাদী ও কঠোর একটি আইন, যা সহিংসতা কমানোর পরিবর্তে পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানিয়েছে, বিলটি দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, ইসরায়েলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৬২ সালে নাৎসি কর্মকর্তা অ্যাডলফ আইখম্যান-কে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। নতুন আইন কার্যকর হলে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ খুলে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ডের বিল পাস করল ইসরায়েল, বাড়ছে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৪:১১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

ইসরায়েল-এর পার্লামেন্ট নেসেট ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়ে একটি বিতর্কিত বিল পাস করেছে। বিলটি কার্যকর হলে ছয় দশকের বেশি সময় পর দেশটিতে আবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শুরু হতে পারে।

সোমবার সন্ধ্যায় ভোটের মাধ্যমে বিলটি পাস হয়। এতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম The Jerusalem Post জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অধিবেশনে উপস্থিত থেকে বিলটির পক্ষে ভোট দেন।

বিলটি উত্থাপন করেন কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং তার দল ‘ওৎজমা ইহুদিত’। তাদের দাবি, নতুন আইন সন্ত্রাস দমনে কার্যকর হবে এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।

তবে বিলটি ঘিরে নেসেটে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেন, এটি কার্যকর কোনো আইন নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেওয়া পদক্ষেপ। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্টজ-ও এর বিরোধিতা করেন।

নতুন আইনে অধিকৃত পশ্চিম তীরে হত্যাকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য ফাঁসি কার্যকরের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলি আদালত নিজ দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা পাবে। তবে আইনটি পূর্ববর্তী ঘটনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না; শুধুমাত্র ভবিষ্যতের মামলায় কার্যকর হবে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিলটির তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এটি বর্ণবাদী ও কঠোর একটি আইন, যা সহিংসতা কমানোর পরিবর্তে পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানিয়েছে, বিলটি দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, ইসরায়েলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৬২ সালে নাৎসি কর্মকর্তা অ্যাডলফ আইখম্যান-কে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। নতুন আইন কার্যকর হলে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ খুলে যাবে।