ঢাকা ১১:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডোমারে মহান স্বাধীনতা দিবসে বর্ণাঢ্য আয়োজন ও পুরস্কার বিতরণ

নীলফামারী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৩১:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় কুচকাওয়াজ ও বর্ণাঢ্য প্রদর্শনীর আয়োজন শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। তবে একই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির নাম ঘোষণা না করাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে ডোমার হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব শায়লা সাঈদ তন্বী। এসময় উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে কুচকাওয়াজ ও বর্ণাঢ্য প্রদর্শনী শেষে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়, যা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং অংশগ্রহণকারীদের মাঝে উৎসাহ ও উদ্দীপনা জাগায়। প্রধান অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্য নিজেই বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ বিন আমিন সুমন। এ সময় অভিযোগ উঠে, দলীয় ব্যক্তিকে সঞ্চালনার দায়িত্ব দেওয়ার কারণেই প্রধান অতিথির নাম ঘোষণা নিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, সঞ্চালনার সময় প্রধান অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়নি, যা নিয়ে উপস্থিতদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং এক পর্যায়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী জামায়াত নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ করে স্লোগান দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ অস্বীকার করে সঞ্চালক মাসুদ বিন আমিন সুমন বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া স্ক্রিপ্টে প্রধান অতিথির নাম উল্লেখ ছিল না। এরপরও এমপি মহোদয়কে যথাযথ সম্মান দিয়ে আসন গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছিল। কিছু দুষ্কৃতিকারী পরিকল্পিতভাবে অনুষ্ঠানকে বিশৃঙ্খল করার চেষ্টা করেছে।”

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, “অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে চলছিল। তবে এ ধরনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দলীয় ব্যক্তির পরিবর্তে সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সঞ্চালনা করা উচিত। ভবিষ্যতে উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকবে বলে আশা করি।”

ডোমার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নিয়াজ মেহেদী জানান, “অনুষ্ঠানে সামান্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলেও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

ডোমারে মহান স্বাধীনতা দিবসে বর্ণাঢ্য আয়োজন ও পুরস্কার বিতরণ

আপডেট সময় : ০৬:৩১:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় কুচকাওয়াজ ও বর্ণাঢ্য প্রদর্শনীর আয়োজন শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। তবে একই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির নাম ঘোষণা না করাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে ডোমার হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব শায়লা সাঈদ তন্বী। এসময় উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে কুচকাওয়াজ ও বর্ণাঢ্য প্রদর্শনী শেষে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়, যা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং অংশগ্রহণকারীদের মাঝে উৎসাহ ও উদ্দীপনা জাগায়। প্রধান অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্য নিজেই বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ বিন আমিন সুমন। এ সময় অভিযোগ উঠে, দলীয় ব্যক্তিকে সঞ্চালনার দায়িত্ব দেওয়ার কারণেই প্রধান অতিথির নাম ঘোষণা নিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, সঞ্চালনার সময় প্রধান অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়নি, যা নিয়ে উপস্থিতদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং এক পর্যায়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী জামায়াত নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ করে স্লোগান দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ অস্বীকার করে সঞ্চালক মাসুদ বিন আমিন সুমন বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া স্ক্রিপ্টে প্রধান অতিথির নাম উল্লেখ ছিল না। এরপরও এমপি মহোদয়কে যথাযথ সম্মান দিয়ে আসন গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছিল। কিছু দুষ্কৃতিকারী পরিকল্পিতভাবে অনুষ্ঠানকে বিশৃঙ্খল করার চেষ্টা করেছে।”

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, “অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে চলছিল। তবে এ ধরনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দলীয় ব্যক্তির পরিবর্তে সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সঞ্চালনা করা উচিত। ভবিষ্যতে উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকবে বলে আশা করি।”

ডোমার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নিয়াজ মেহেদী জানান, “অনুষ্ঠানে সামান্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলেও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”