রংপুরে আদিবাসী ভাষা অধিকার নিয়ে একক বক্তৃতা
- আপডেট সময় : ০৫:৫৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে

বিভাগীয় শহর রংপুরে আদিবাসী ভাষা অধিকার বিষয়ক একক বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার প্লাটফর্ম ‘আত্মসভা’র উদ্যোগে শহরের কলেজ রোডে অবস্থিত গড়ন আর্ট গ্যালারি এন্ড রিসার্চ সেন্টার-এ এ আয়োজন করা হয়।

‘জাতিতাত্ত্বিক ভাষা: আদিবাসী অধিকার ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন গারো কবি ও গবেষক হিমেল রিছিল। তিনি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সাংস্কৃতিক সংকট, উত্তরণের উপায় এবং বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য সংরক্ষণের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্লাটফর্মে আদিবাসী ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির কনটেন্ট তৈরি এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় নিজ নিজ জাতিসত্তার মানুষকেই আগে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগে নিজ ভাষায় সাহিত্য ও সংগীতচর্চা বাড়াতে হবে এবং নিজেদের মধ্যে মাতৃভাষার ব্যবহার অব্যাহত রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুরের সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু আদিবাসী ভাষা রক্ষায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার আহ্বান জানান। শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, আদিবাসীদের নিজ ভাষায় শিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং তাদের ভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন সময়ের দাবি।
কবি ও প্রাবন্ধিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে খুব কম আলোচনা হয়। এ ধরনের আয়োজন সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। আদিবাসী নেতা সমুন খালকো জানান, রংপুরে এ ধরনের আয়োজন এটিই প্রথম, যা তরুণদের নতুনভাবে উদ্বুদ্ধ করবে।
অধিকারকর্মী অশোক সরকার, আলোকচিত্রী ফিরোজ চৌধুরী, শিল্পী অনীক রেজা, খাইশ্যা অং মরমা, রিনা মুর্মুসহ অনেকে মতামত দেন।
আয়োজক কবি ও চিন্তক মীর রবি বলেন, ভাষা একটি সমাজের সংস্কৃতির প্রধান ভিত্তি। ভাষা হারিয়ে গেলে জাতিসত্তার অস্তিত্বও সংকটে পড়ে। আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার তাগিদ থেকেই এ আয়োজন।
‘আত্মসভা’র অন্যতম সদস্য কবি আহমেদ মওদুদ বলেন, আদিবাসীদের ভাষাগত অধিকার নিশ্চিত না হলে ভাষা আন্দোলনের চেতনার পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কারমাইকেল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আদিবাসী শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, অধিকারকর্মী, লেখক, সাংবাদিক ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। শিল্পী ইসরাত জাহান কাকন ও শ্যামলী হোসদা আদিবাসী সংগীত পরিবেশন করেন। নিওন চাকমার গিটার পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।


























