ঢাকা ০৬:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৎ মায়ের ভালোবাসায় সাড়া দিল জেলা পুলিশ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:০১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রায়গঞ্জের চকমথুর ঝাপড়া গ্রামের এক ছোট্ট ঘরে প্রতিদিনই শুরু হয় সংগ্রামের গল্প। হাঁটতে পারে না, কথা বলতে পারে না তবুও ১০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী শিশু জিহাদের চারপাশে ছড়িয়ে থাকে সৎ মা জবেদা বেগমের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার গল্পই এবার ছুঁয়ে গেল মানবিকতার আরেকটি শক্ত হাত—জেলা পুলিশের।

শিশু জিহাদ দিনমজুর বাবলু শেখের ছেলে। জন্মের পর থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার জীবনকে করে তুলেছে স্থবির। অভাবের সংসারে চলাফেরার সামান্য সুযোগটুকুও ছিল না তার। কিন্তু সব কষ্টের মধ্যেও হাল ছাড়েননি সৎ মা জবেদা বেগম নিজের সন্তানের মতো করেই আগলে রেখেছেন জিহাদকে।

এই মানবিক গল্পটি খোলা বার্তা অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়ায় প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতুর। সংবাদটি পড়ে শিশুটির প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে পুলিশ প্রশাসন।

এরপর বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু তাঁর নিজস্ব তহবিল থেকে জিহাদের জন্য একটি হুইলচেয়ার ও নগদ অর্থ সহায়তা দেন। রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান সরাসরি শিশুটির পরিবারের হাতে এই সহায়তা তুলে দেন।

এ সময় তিনি বলেন,“জিহাদের মতো শিশুরা সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত অংশ। গণমাধ্যমে তার কষ্টের কথা উঠে আসায় জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। তাঁর নির্দেশনায় মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা এই সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি।”

উপহার হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া, উপপরিদর্শক (এসআই) নীলকমলসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা।

হুইলচেয়ার পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন সৎ মা জবেদা বেগম। কান্নাজড়ানো কণ্ঠে তিনি বলেন,“আমার জিহাদ কিছুই বলতে পারে না, কিন্তু আজ হুইলচেয়ারে বসে ওর চোখে আনন্দ দেখেছি। এই সহায়তা আমাদের জীবনে নতুন ভরসা এনে দিল।”

স্থানীয়দের মতে, সৎ মায়ের নিঃস্বার্থ ত্যাগ আর জেলা পুলিশের মানবিক উদ্যোগ একসঙ্গে মিলে প্রমাণ করেছে—মানবিকতা এখনও সমাজে বেঁচে আছে। জিহাদের মতো অসহায় শিশুদের জন্য এমন সহানুভূতিই হতে পারে নতুন জীবনের পথচলা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

সৎ মায়ের ভালোবাসায় সাড়া দিল জেলা পুলিশ

আপডেট সময় : ১২:০১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রায়গঞ্জের চকমথুর ঝাপড়া গ্রামের এক ছোট্ট ঘরে প্রতিদিনই শুরু হয় সংগ্রামের গল্প। হাঁটতে পারে না, কথা বলতে পারে না তবুও ১০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী শিশু জিহাদের চারপাশে ছড়িয়ে থাকে সৎ মা জবেদা বেগমের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার গল্পই এবার ছুঁয়ে গেল মানবিকতার আরেকটি শক্ত হাত—জেলা পুলিশের।

শিশু জিহাদ দিনমজুর বাবলু শেখের ছেলে। জন্মের পর থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার জীবনকে করে তুলেছে স্থবির। অভাবের সংসারে চলাফেরার সামান্য সুযোগটুকুও ছিল না তার। কিন্তু সব কষ্টের মধ্যেও হাল ছাড়েননি সৎ মা জবেদা বেগম নিজের সন্তানের মতো করেই আগলে রেখেছেন জিহাদকে।

এই মানবিক গল্পটি খোলা বার্তা অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়ায় প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতুর। সংবাদটি পড়ে শিশুটির প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে পুলিশ প্রশাসন।

এরপর বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু তাঁর নিজস্ব তহবিল থেকে জিহাদের জন্য একটি হুইলচেয়ার ও নগদ অর্থ সহায়তা দেন। রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান সরাসরি শিশুটির পরিবারের হাতে এই সহায়তা তুলে দেন।

এ সময় তিনি বলেন,“জিহাদের মতো শিশুরা সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত অংশ। গণমাধ্যমে তার কষ্টের কথা উঠে আসায় জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। তাঁর নির্দেশনায় মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা এই সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি।”

উপহার হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া, উপপরিদর্শক (এসআই) নীলকমলসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা।

হুইলচেয়ার পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন সৎ মা জবেদা বেগম। কান্নাজড়ানো কণ্ঠে তিনি বলেন,“আমার জিহাদ কিছুই বলতে পারে না, কিন্তু আজ হুইলচেয়ারে বসে ওর চোখে আনন্দ দেখেছি। এই সহায়তা আমাদের জীবনে নতুন ভরসা এনে দিল।”

স্থানীয়দের মতে, সৎ মায়ের নিঃস্বার্থ ত্যাগ আর জেলা পুলিশের মানবিক উদ্যোগ একসঙ্গে মিলে প্রমাণ করেছে—মানবিকতা এখনও সমাজে বেঁচে আছে। জিহাদের মতো অসহায় শিশুদের জন্য এমন সহানুভূতিই হতে পারে নতুন জীবনের পথচলা।