ঢাকা ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হলো ‘পিঠা উৎসব ২০২৬’

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:১৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৭৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

“নতুন ধানে, নতুন প্রাণে—চলো মাতি পিঠার ঘ্রাণে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পিঠা উৎসব ২০২৬’। গত ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) তারিখে কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ উৎসব বাঙালি সংস্কৃতি ও তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।

উৎসবে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যৌথ অংশগ্রহণে মোট ১৭টি স্টল স্থাপন করা হয়। স্টলগুলো বাহারি রঙে ও ভিন্ন ভিন্ন ঢঙে সাজানো হয় এবং প্রতিটি স্টলের নামকরণেও ছিল সৃজনশীলতার ছোঁয়া। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-

রসায়ন বিভাগের “চন্দ্রপুলি”,

পদার্থবিজ্ঞানের “কোয়ান্টাম পিঠাঘর”,

ইসলামিক স্টাডিজের “বারাকাহ”,

হিসাববিজ্ঞানের “লুই প্যাসিওলি”,

ইতিহাস বিভাগের “হেরোডোটাসের শ্বশুড়বাড়ি” সহ আরও নানা আকর্ষণীয় নামের স্টল দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে।

উৎসবে ছিল ছোনের ঘর, ঢেকি, বায়োস্কোপ—যা গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার প্রশংসনীয় প্রয়াস হিসেবে দেখা যায়। পাশাপাশি ভাপা, চিতই, দুধপুলি, পাটিসাপটা, নকশি পিঠা, মুগ পাকনসহ প্রায় শতাধিক ঐতিহ্যবাহী পিঠা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

শুধু পিঠা নয়, উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বেও ছিল বর্ণাঢ্য আয়োজন। পুঁথিপাঠ, ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি, বাউল ও লোকসংগীত এবং শীতের গান পরিবেশনার মাধ্যমে হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

এ সময় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: মহীদুল হাসান বলেন,“পিঠা উৎসব আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির একটি প্রাণের আয়োজন। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও দলগত কাজের দক্ষতা বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

প্রধান শিক্ষক বলেন, “শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। এই উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দায়িত্ববোধ, নেতৃত্ব এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে।”

স্টল প্রতিনিধি শিক্ষার্থী আফরিন তালুকদার আশা বলেন,“আমরা আমাদের স্টলকে ভিন্নভাবে সাজাতে চেয়েছি। স্টলের নাম, সাজসজ্জা এবং পিঠার বৈচিত্র্য—সবকিছুতেই আমরা চেষ্টা করেছি যেন বাংলার ঐতিহ্য ফুটে ওঠে।”

আয়শা সিদ্দিকা সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ দর্শনার্থী বলেন, “কলেজ ক্যাম্পাসে এত সুন্দরভাবে গ্রামীণ পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। ঢেকি, বায়োস্কোপ আর নানা পিঠা—সবকিছু মিলে মনে হলো যেন গ্রামের মেলা।”

সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ উৎসব উপভোগ করতে আসেন। দর্শনার্থীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও প্রাণবন্ত উপস্থিতির মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ আনন্দঘন আয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হলো ‘পিঠা উৎসব ২০২৬’

আপডেট সময় : ১০:১৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

“নতুন ধানে, নতুন প্রাণে—চলো মাতি পিঠার ঘ্রাণে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পিঠা উৎসব ২০২৬’। গত ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) তারিখে কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ উৎসব বাঙালি সংস্কৃতি ও তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।

উৎসবে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যৌথ অংশগ্রহণে মোট ১৭টি স্টল স্থাপন করা হয়। স্টলগুলো বাহারি রঙে ও ভিন্ন ভিন্ন ঢঙে সাজানো হয় এবং প্রতিটি স্টলের নামকরণেও ছিল সৃজনশীলতার ছোঁয়া। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-

রসায়ন বিভাগের “চন্দ্রপুলি”,

পদার্থবিজ্ঞানের “কোয়ান্টাম পিঠাঘর”,

ইসলামিক স্টাডিজের “বারাকাহ”,

হিসাববিজ্ঞানের “লুই প্যাসিওলি”,

ইতিহাস বিভাগের “হেরোডোটাসের শ্বশুড়বাড়ি” সহ আরও নানা আকর্ষণীয় নামের স্টল দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে।

উৎসবে ছিল ছোনের ঘর, ঢেকি, বায়োস্কোপ—যা গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার প্রশংসনীয় প্রয়াস হিসেবে দেখা যায়। পাশাপাশি ভাপা, চিতই, দুধপুলি, পাটিসাপটা, নকশি পিঠা, মুগ পাকনসহ প্রায় শতাধিক ঐতিহ্যবাহী পিঠা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

শুধু পিঠা নয়, উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বেও ছিল বর্ণাঢ্য আয়োজন। পুঁথিপাঠ, ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি, বাউল ও লোকসংগীত এবং শীতের গান পরিবেশনার মাধ্যমে হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

এ সময় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: মহীদুল হাসান বলেন,“পিঠা উৎসব আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির একটি প্রাণের আয়োজন। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও দলগত কাজের দক্ষতা বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

প্রধান শিক্ষক বলেন, “শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। এই উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দায়িত্ববোধ, নেতৃত্ব এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে।”

স্টল প্রতিনিধি শিক্ষার্থী আফরিন তালুকদার আশা বলেন,“আমরা আমাদের স্টলকে ভিন্নভাবে সাজাতে চেয়েছি। স্টলের নাম, সাজসজ্জা এবং পিঠার বৈচিত্র্য—সবকিছুতেই আমরা চেষ্টা করেছি যেন বাংলার ঐতিহ্য ফুটে ওঠে।”

আয়শা সিদ্দিকা সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ দর্শনার্থী বলেন, “কলেজ ক্যাম্পাসে এত সুন্দরভাবে গ্রামীণ পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। ঢেকি, বায়োস্কোপ আর নানা পিঠা—সবকিছু মিলে মনে হলো যেন গ্রামের মেলা।”

সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ উৎসব উপভোগ করতে আসেন। দর্শনার্থীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও প্রাণবন্ত উপস্থিতির মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ আনন্দঘন আয়োজন।