ঢাকা ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ক্ষমতা হারানোর ভয়েই কি আরব দলগুলোর ওপর আক্রমণ বাড়িয়েছেন নেতানিয়াহু বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় তিন বছর পেছাল গায়ে পা লাগলে ‘সালাম’ করা: প্রথা নাকি বিধান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির জাপানে চার দিনের সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ কমাল ঢাকা দক্ষিণ সিটি এসআরবির অভিযানের সময় তরুণের মৃত্যু, গুলি করেছে কে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে বড় নিয়োগ হচ্ছে হানিফসহ চার আসামির অপরাধ কী, মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও তাঁরা কী কী সাজা পেলেন নারীর ক্ষমতায়নে ধর্মের অপব্যাখ্যা ও পুরুষতন্ত্র এখনো বড় চ্যালেঞ্জ: জহির উদ্দিন স্বপন

একদিনও চালু হয়নি সাড়ে ৮ কোটি টাকার প্রকল্প

রংপুর চিনিকলের নবনির্মিত বর্জ্য পরিশোধনাগার ধ্বংসের মুখে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:৪৯:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাড়ে আট কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত রংপুর চিনিকলের বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) প্রকল্পটি কার্যক্রম শুরু না করতেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। নির্মাণ শেষ হওয়ার প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও একদিনের জন্যও চালু করা যায়নি এ পরিশোধনাগার। চিনিকল বন্ধ থাকায় ব্যবহারের অভাবে প্লান্টটি এখন ঝোপ-জঙ্গলে ঢেকে গেছে, রোদ-বৃষ্টি আর অবহেলায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলার কৃষিভিত্তিক একমাত্র ভারী শিল্পকারখানা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে অবস্থিত রংপুর চিনিকলে বর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে এবং শেষ হয় ২০২১ সালে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থা (বিএসএফআইসি)-এর অধীনে দেশের ১৪টি চিনিকলে একটি করে ইটিপি স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়। ওই প্রকল্পের ৫ম লটের আওতায় ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার এবিএম ওয়াটার কোম্পানিকে রংপুর চিনিকলের ইটিপি নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ কোটি ৫১ লাখ ৩১ হাজার টাকা। ২০২১ সালের জুন মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হলেও, একই বছরের ডিসেম্বর মাসে শিল্প মন্ত্রণালয় ‘আধুনিকায়নের পর পুনরায় চালু করা হবে’ মর্মে রংপুর চিনিকলসহ ছয়টি চিনিকলের আখমাড়াই কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। ফলে সদ্য নির্মিত ইটিপি প্লান্টটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করাও সম্ভব হয়নি। কাগজে-কলমে প্রকল্প শেষ হলেও বাস্তবে একদিনের জন্যও এর কার্যক্রম চালু হয়নি।

রংপুর চিনিকল ছাড়াও পঞ্চগড়, সেতাবগঞ্জ, শ্যামপুর, পাবনা ও কুষ্টিয়া চিনিকলের আখমাড়াই বন্ধ থাকায় সেসব কারখানায় নির্মিত ইটিপি প্লান্টগুলোও একইভাবে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। একই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীন পরিকল্পনার কারণে কোটি কোটি টাকার এসব প্রকল্প এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

রংপুর চিনিকলের আখচাষী ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শামসুল হোদা বলেন, অন্যান্য অনেক চিনিকলের তুলনায় এই এলাকায় এখনও বেশি আখ উৎপাদন হয়। কিন্তু এখানকার আখ মাড়াইয়ের জন্য জয়পুরহাট চিনিকলে নিতে গিয়ে পরিবহন খরচে লক্ষ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। আধুনিক ইটিপি প্লান্টসহ রংপুর চিনিকলের আখমাড়াই কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে কৃষক ও শ্রমিকরা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখবে।

রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু সুফিয়ান সুজা জানান, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আফরোজা বেগম পারুল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পূর্বের সরকারের আদেশে বন্ধ থাকা ছয়টি চিনিকলের আখমাড়াই স্থগিতের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে তিন ধাপে চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় আখচাষী ও শ্রমিকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ইটিপি প্লান্ট রক্ষার স্বার্থেও এসব চিনিকল দ্রুত আধুনিকায়নের মাধ্যমে চালু করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে রংপুর চিনিকলের ইনচার্জ শাহিনূল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আখমাড়াই বন্ধ থাকায় ইটিপি প্লান্টটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তবে চিনিকলের কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে পরিশোধনাগারটিও চালু করা সম্ভব হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

একদিনও চালু হয়নি সাড়ে ৮ কোটি টাকার প্রকল্প

রংপুর চিনিকলের নবনির্মিত বর্জ্য পরিশোধনাগার ধ্বংসের মুখে

আপডেট সময় : ০২:৪৯:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

সাড়ে আট কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত রংপুর চিনিকলের বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) প্রকল্পটি কার্যক্রম শুরু না করতেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। নির্মাণ শেষ হওয়ার প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও একদিনের জন্যও চালু করা যায়নি এ পরিশোধনাগার। চিনিকল বন্ধ থাকায় ব্যবহারের অভাবে প্লান্টটি এখন ঝোপ-জঙ্গলে ঢেকে গেছে, রোদ-বৃষ্টি আর অবহেলায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলার কৃষিভিত্তিক একমাত্র ভারী শিল্পকারখানা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে অবস্থিত রংপুর চিনিকলে বর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে এবং শেষ হয় ২০২১ সালে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থা (বিএসএফআইসি)-এর অধীনে দেশের ১৪টি চিনিকলে একটি করে ইটিপি স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়। ওই প্রকল্পের ৫ম লটের আওতায় ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার এবিএম ওয়াটার কোম্পানিকে রংপুর চিনিকলের ইটিপি নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ কোটি ৫১ লাখ ৩১ হাজার টাকা। ২০২১ সালের জুন মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হলেও, একই বছরের ডিসেম্বর মাসে শিল্প মন্ত্রণালয় ‘আধুনিকায়নের পর পুনরায় চালু করা হবে’ মর্মে রংপুর চিনিকলসহ ছয়টি চিনিকলের আখমাড়াই কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। ফলে সদ্য নির্মিত ইটিপি প্লান্টটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করাও সম্ভব হয়নি। কাগজে-কলমে প্রকল্প শেষ হলেও বাস্তবে একদিনের জন্যও এর কার্যক্রম চালু হয়নি।

রংপুর চিনিকল ছাড়াও পঞ্চগড়, সেতাবগঞ্জ, শ্যামপুর, পাবনা ও কুষ্টিয়া চিনিকলের আখমাড়াই বন্ধ থাকায় সেসব কারখানায় নির্মিত ইটিপি প্লান্টগুলোও একইভাবে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। একই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীন পরিকল্পনার কারণে কোটি কোটি টাকার এসব প্রকল্প এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

রংপুর চিনিকলের আখচাষী ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শামসুল হোদা বলেন, অন্যান্য অনেক চিনিকলের তুলনায় এই এলাকায় এখনও বেশি আখ উৎপাদন হয়। কিন্তু এখানকার আখ মাড়াইয়ের জন্য জয়পুরহাট চিনিকলে নিতে গিয়ে পরিবহন খরচে লক্ষ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। আধুনিক ইটিপি প্লান্টসহ রংপুর চিনিকলের আখমাড়াই কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে কৃষক ও শ্রমিকরা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখবে।

রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু সুফিয়ান সুজা জানান, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আফরোজা বেগম পারুল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পূর্বের সরকারের আদেশে বন্ধ থাকা ছয়টি চিনিকলের আখমাড়াই স্থগিতের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে তিন ধাপে চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় আখচাষী ও শ্রমিকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ইটিপি প্লান্ট রক্ষার স্বার্থেও এসব চিনিকল দ্রুত আধুনিকায়নের মাধ্যমে চালু করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে রংপুর চিনিকলের ইনচার্জ শাহিনূল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আখমাড়াই বন্ধ থাকায় ইটিপি প্লান্টটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তবে চিনিকলের কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে পরিশোধনাগারটিও চালু করা সম্ভব হবে।