ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

চুয়াডাঙ্গায় মাঠ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি 
  • আপডেট সময় : ০৩:০৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় জাহিদ হাসান (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে মনোহরপুর ইউনিয়নের হারু শাহের মাজার সংলগ্ন একটি ঘাসের জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত জাহিদ হাসান উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নের খয়েরহুদা গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তবে মরদেহে আঘাতের চিহ্ন থাকায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কয়েকজনের সঙ্গে জাহিদের দ্বন্দ্ব চলছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে হারু শাহের মাজারের পাশে একটি ঘাসের জমিতে অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে জমির মালিক গোলাম রসুল ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মরদেহটি জাহিদের বলে শনাক্ত করেন।

নিহতের ফুফাতো ভাই ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্বাস জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে জাহিদ নিখোঁজ ছিল। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে ফোনে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি শনাক্ত করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, পেয়ারাতলা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে প্রবাসী পারভেজের স্ত্রী উর্মির সঙ্গে জাহিদের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে জাহিদকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

নিহতের ভাইও অভিযোগ করে বলেন, তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী বিভিন্নভাবে জাহিদকে বিরক্ত করতেন এবং ঘটনার রাতে তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে পারভেজের স্ত্রী উর্মি জানান, প্রায় আট মাস আগে জাহিদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল, তবে বর্তমানে কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে জাহিদ ফোন করে দেখা করতে চাইলেও তিনি রাজি হননি। মৃত্যুর বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলায়মান শেখ মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

চুয়াডাঙ্গায় মাঠ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৩:০৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় জাহিদ হাসান (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে মনোহরপুর ইউনিয়নের হারু শাহের মাজার সংলগ্ন একটি ঘাসের জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত জাহিদ হাসান উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নের খয়েরহুদা গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তবে মরদেহে আঘাতের চিহ্ন থাকায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কয়েকজনের সঙ্গে জাহিদের দ্বন্দ্ব চলছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে হারু শাহের মাজারের পাশে একটি ঘাসের জমিতে অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে জমির মালিক গোলাম রসুল ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মরদেহটি জাহিদের বলে শনাক্ত করেন।

নিহতের ফুফাতো ভাই ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্বাস জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে জাহিদ নিখোঁজ ছিল। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে ফোনে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি শনাক্ত করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, পেয়ারাতলা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে প্রবাসী পারভেজের স্ত্রী উর্মির সঙ্গে জাহিদের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে জাহিদকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

নিহতের ভাইও অভিযোগ করে বলেন, তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী বিভিন্নভাবে জাহিদকে বিরক্ত করতেন এবং ঘটনার রাতে তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে পারভেজের স্ত্রী উর্মি জানান, প্রায় আট মাস আগে জাহিদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল, তবে বর্তমানে কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে জাহিদ ফোন করে দেখা করতে চাইলেও তিনি রাজি হননি। মৃত্যুর বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলায়মান শেখ মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।