ঢাকা ০৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা শ্যামলের ৫ বছরের কারাদণ্ড দিনে রেকি, রাতে বাড়িতে ঢুকে মা–মেয়ের গলায় অস্ত্র ধরে ডাকাতি কুমিল্লা কর অঞ্চলে ৪১ পদে চাকরি, আবেদন কুমিল্লা–চাঁদপুর–ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থায়ী বাসিন্দাদের ইসির পরীক্ষা হবে আগামীকাল: ১১–দলীয় ঐক্য জলঢাকায় সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ গায়ক ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার, কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সাইবার হামলার ঝুঁকিতে ৩টি মডেলের আইফোন, সতর্ক করল অ্যাপল দুই পা হারানো সাখাওয়াতের হাতে হুইলচেয়ার, ঘরে এক মাসের বাজার হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে পাননি পাঁচ চিকিৎসককে, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মিশিগানে আগের দিন ওবামা, পরদিন ট্রাম্প

হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কয়েক দিন ধরে পুরো দেশেই জেঁকে বসেছে শীত। পৌষের শুরু থেকেই সারা দেশে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। শীতের দাপটে একইসঙ্গে রাজধানীসহ সারা দেশে বেড়েছে শ্বাসতন্ত্রের রোগের প্রাদুর্ভাব। প্রতিদিনই জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। এর বেশির ভাগই প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা শিশু ও বৃদ্ধ।

রাজধানীর মুগদা হাসপাতাল, শ্যামলী শিশু হাসপাতাল, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শীতজনিত কারণে নতুন রোগীর চাপ বেড়েছে। নিয়মিত যেসব রোগী থাকে শীতের প্রকোপে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দ্বিগুণে। আর যেসব রোগী আসছে, তাদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধ এবং বক্ষব্যাধিজনিত রোগীর উপস্থিতি বেশি।

হাসপাতালের শয্যা ধারণক্ষমতার চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। শীত মৌসুমে এই রোগ থেকে বাঁচতে গরম পোশাকের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকদের মতে, এ সময় প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারায় তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং অ্যালার্জিজনিত জটিলতা এখন শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা জ্বর, ঠান্ডা ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কাদের জানান, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেশি। এছাড়া নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছু শিশু এই মুহূর্তে ভর্তি আছে। শীতের প্রকোপ বাড়লে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায় বলেও জানান তিনি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের নিউমোনিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে একটি শয্যাও খালি নেই। প্রতিদিন বহির্বিভাগে শত শত শিশু চিকিৎসা নিতে আসছে।

শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতে শিশুদের ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের রোগ দেখা দেয়। চলতি বছরে তীব্র শীতের কারণে দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ। বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা বেশির ভাগই শিশু। বাচ্চারা শ্বাসতন্ত্রের নানা ধরনের সংক্রমণ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। বাচ্চাদের অ্যাজমাও বেড়ে গেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি চাপ বেড়েছে ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে। আসন সংকটে গাদাগাদি করে নিতে হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। ঠান্ডাজনিত রোগের বাইরে কারও কারও দেখা দিয়েছে চর্মরোগও। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বহির্বিভাগেও রোগীর চাপ। এমতাবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনেরা।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের শিশু শ্বাসতন্ত্র (পালমোনোলজি) বিভাগের অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার সরকার বলেন, শীতকালে শিশুদের মধ্যে ফ্লু, সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ সময়ে অভিভাবকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যাবে না। কারণ শীতকালের বেশিরভাগ রোগই ভাইরাসজনিত। শিশুর জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তিনি বলেন, নিয়মিত গোসল প্রয়োজন হলেও অপরিণত নবজাতকদের ক্ষেত্রে দেরিতে ও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গোসল করাতে হবে, যাতে ঠান্ডা না লাগে। বাচ্চাদের সব সময় গরম রাখতে হবে।

এদিকে রাজধানীর জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীর চাপে কোথাও বসার জায়গা নেই। কেউ দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে, কেউ মেঝেতে শুয়ে। সাধারণ সময়ের চেয়ে রোগীর চাপ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে। অনেক রোগীর ভর্তির প্রয়োজন হলেও শয্যাসংকটে তা সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতালটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. গোলাম সারওয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁঞা জানান, শ্বাসনালির সমস্যায় আসা রোগীদের বড় অংশ অ্যাজমা, নিউমোনিয়া ও ব্রংকাইটিসে আক্রান্ত। সারা দেশে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এই ধরনের রোগী বাড়ছে। সাধারণ সময়ের চেয়ে রোগীর চাপ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে। এখানে শিশু রোগীর সংখ্যা খুব কম। বেশির ভাগ মধ্যবয়সী ও বয়স্করা আসে চিকিৎসার জন্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ বাড়ছে

আপডেট সময় : ১১:০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

কয়েক দিন ধরে পুরো দেশেই জেঁকে বসেছে শীত। পৌষের শুরু থেকেই সারা দেশে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। শীতের দাপটে একইসঙ্গে রাজধানীসহ সারা দেশে বেড়েছে শ্বাসতন্ত্রের রোগের প্রাদুর্ভাব। প্রতিদিনই জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। এর বেশির ভাগই প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা শিশু ও বৃদ্ধ।

রাজধানীর মুগদা হাসপাতাল, শ্যামলী শিশু হাসপাতাল, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শীতজনিত কারণে নতুন রোগীর চাপ বেড়েছে। নিয়মিত যেসব রোগী থাকে শীতের প্রকোপে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দ্বিগুণে। আর যেসব রোগী আসছে, তাদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধ এবং বক্ষব্যাধিজনিত রোগীর উপস্থিতি বেশি।

হাসপাতালের শয্যা ধারণক্ষমতার চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। শীত মৌসুমে এই রোগ থেকে বাঁচতে গরম পোশাকের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকদের মতে, এ সময় প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারায় তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং অ্যালার্জিজনিত জটিলতা এখন শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা জ্বর, ঠান্ডা ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কাদের জানান, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেশি। এছাড়া নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছু শিশু এই মুহূর্তে ভর্তি আছে। শীতের প্রকোপ বাড়লে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায় বলেও জানান তিনি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের নিউমোনিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে একটি শয্যাও খালি নেই। প্রতিদিন বহির্বিভাগে শত শত শিশু চিকিৎসা নিতে আসছে।

শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতে শিশুদের ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের রোগ দেখা দেয়। চলতি বছরে তীব্র শীতের কারণে দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ। বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা বেশির ভাগই শিশু। বাচ্চারা শ্বাসতন্ত্রের নানা ধরনের সংক্রমণ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। বাচ্চাদের অ্যাজমাও বেড়ে গেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি চাপ বেড়েছে ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে। আসন সংকটে গাদাগাদি করে নিতে হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। ঠান্ডাজনিত রোগের বাইরে কারও কারও দেখা দিয়েছে চর্মরোগও। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বহির্বিভাগেও রোগীর চাপ। এমতাবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনেরা।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের শিশু শ্বাসতন্ত্র (পালমোনোলজি) বিভাগের অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার সরকার বলেন, শীতকালে শিশুদের মধ্যে ফ্লু, সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ সময়ে অভিভাবকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যাবে না। কারণ শীতকালের বেশিরভাগ রোগই ভাইরাসজনিত। শিশুর জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তিনি বলেন, নিয়মিত গোসল প্রয়োজন হলেও অপরিণত নবজাতকদের ক্ষেত্রে দেরিতে ও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গোসল করাতে হবে, যাতে ঠান্ডা না লাগে। বাচ্চাদের সব সময় গরম রাখতে হবে।

এদিকে রাজধানীর জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীর চাপে কোথাও বসার জায়গা নেই। কেউ দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে, কেউ মেঝেতে শুয়ে। সাধারণ সময়ের চেয়ে রোগীর চাপ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে। অনেক রোগীর ভর্তির প্রয়োজন হলেও শয্যাসংকটে তা সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতালটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. গোলাম সারওয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁঞা জানান, শ্বাসনালির সমস্যায় আসা রোগীদের বড় অংশ অ্যাজমা, নিউমোনিয়া ও ব্রংকাইটিসে আক্রান্ত। সারা দেশে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এই ধরনের রোগী বাড়ছে। সাধারণ সময়ের চেয়ে রোগীর চাপ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে। এখানে শিশু রোগীর সংখ্যা খুব কম। বেশির ভাগ মধ্যবয়সী ও বয়স্করা আসে চিকিৎসার জন্য।