বোমার শব্দের ভেতরেও স্বপ্ন আঁকছে শিশুরা
- আপডেট সময় : ০৮:২৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে

লেবাননে ইসরাইলের তীব্র বোমাবর্ষণে যখন হাজার হাজার পরিবার ঘরছাড়া, তখন এক শিল্পী শিশুদের জন্য তৈরি করছেন এক টুকরো মানসিক আশ্রয়। বৈরুতের শিল্পী আবেদ আল কাদিরি বাস্তুচ্যুত শিশুদের নিয়ে আঁকার কর্মশালা করছেন, যেখানে তারা নিজেদের দুঃখ, ভয়, আনন্দ আর স্বপ্ন কাগজে ফুটিয়ে তুলছে।
বড় ক্যানভাসে যৌথভাবে আঁকা এসব ছবি একদিন জনসমক্ষে প্রদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে। যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝেও এই উদ্যোগ শিশুদের জন্য হয়ে উঠেছে মানসিক স্বস্তির এক আশ্রয়।
শিল্পী আবেদ আল কাদিরি শিশুদের জন্য এক ধরনের ‘নিরাপদ সাদা জায়গা’ তৈরি করেছেন, যেখানে তারা স্বাধীনভাবে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে। এটি কোনো বাস্তব আশ্রয়কেন্দ্র নয়, বরং প্রতীকী একটি মানসিক পরিসর— যেখানে কাগজ, রং আর কল্পনার মাধ্যমে শিশুরা যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে সাময়িক মুক্তি পায়।
বৈরুতে জন্ম নেওয়া কাদিরি নিজেও সংঘাতের শিকার। ইরান-ইসরাইল উত্তেজনার প্রভাবে তিনি চারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সম্প্রতি বৈরুতের একটি এলাকায় হামলার সময় তিনি তার ছেলেকে নিয়ে স্টুডিওতে ছিলেন। কাছেই বিস্ফোরণ ঘটলে সেখান থেকেই তাদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার যাত্রা শুরু হয়। এই অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং তার শিল্পচর্চাকে নতুন মাত্রা দেয়।
তার কাজ বরাবরই রাজনৈতিক সংকট ও সংঘর্ষের প্রতিফলন। বৈরুত বন্দর বিস্ফোরণ, গাজা পরিস্থিতি এবং লেবাননের সাম্প্রতিক সংঘাত—সবই তার শিল্পে উঠে এসেছে। তিনি ‘আজ আমি একটি গাছ হতে চাই’ শিরোনামে দেয়ালচিত্রের একটি আবেগঘন সিরিজও তৈরি করেছেন।
এক রাতে হামলার মধ্যেই ছেলেকে নিয়ে বসে আঁকার সময় তিনি উপলব্ধি করেন—একটি ক্যানভাস কখনো কখনো সবচেয়ে নিরাপদ জায়গায় পরিণত হতে পারে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বাস্তুচ্যুত শিশুদের নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি।
এ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানে ছয়টি কর্মশালা পরিচালনা করেছেন। এতে শতাধিক শিশু অংশ নিয়েছে। বড় কাগজে একসঙ্গে আঁকতে পেরে তারা আনন্দ পায় এবং নিজেদের ভেতরের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ পায়। তাদের আঁকায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসে নিজেদের ঘর, প্রকৃতি এবং দেশের প্রতীক।
প্রতিটি কর্মশালার শেষে শিশুদের রং, খাতা ও আঁকার উপকরণ দেওয়া হয়, যা কাদিরি নিজেই অর্থায়ন করেছেন। তিনি তার সহশিল্পীদেরও এই উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভবিষ্যতে এই কাজকে আরও বড় পরিসরে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তিনি চান, এক হাজার শিশুকে এই উদ্যোগের আওতায় আনতে এবং তাদের আঁকা ছবি প্রদর্শনী ও বই আকারে প্রকাশ করতে। তার বিশ্বাস, কঠিন সময়েও শিল্প মানুষের অনুভূতি প্রকাশের শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।























