ঢাকা ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মান্দায় হাফেজিয়া মাদ্রাসার সামনে বেড়া দেয়ায় বিপাকে শতাধিক শিক্ষার্থী

নওগাঁ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নওগাঁর মান্দায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে কৌশলে ডেকে নিয়ে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের ‘ডাকাতের মোড়’ এলাকায় অবস্থিত হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসাকে ঘিরে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসাটির প্রধান ফটকে প্রভাবশালী একটি পক্ষ বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়ায় শতাধিক শিক্ষার্থীর যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ খুঁজছে, আবার কেউ কেউ নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হতে পারছে না।

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, শুক্রবার বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোকাররম হোসেন মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হাফেজ মেহেদী হাসানকে জানান, থানার ওসি তার সঙ্গে কথা বলতে চান। এ কথা শুনে তিনি স্বেচ্ছায় থানায় গেলে পরে তাকে আর ফিরতে দেওয়া হয়নি। কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাকে একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহলের চাপে পুলিশ এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ প্রতিপক্ষ বেলাল উদ্দিন মন্ডল ও তার লোকজন ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও মালামাল চুরির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, মামলায় যেসব মালামাল চুরির কথা বলা হয়েছে, সেগুলো এখনো ঘটনাস্থলেই পড়ে রয়েছে, যা অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

এদিকে মামলার আরেক আসামি প্রবীণ শিক্ষক হাফেজ আবু বক্কর সিদ্দিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। একদিকে সন্তানের গ্রেপ্তার, অন্যদিকে মাদ্রাসার অস্তিত্ব সংকট—সব মিলিয়ে পরিবারটি চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষ পূর্বে তাদের মালিকানাধীন জমি বিক্রি করলেও এখন প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসার জমি দখলের চেষ্টা করছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোকাররম হোসেন বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল এবং পরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’

এলাকাবাসী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাকে সাজানো ও হয়রানিমূলক দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মাদ্রাসার প্রধান ফটক খুলে দিয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

মান্দায় হাফেজিয়া মাদ্রাসার সামনে বেড়া দেয়ায় বিপাকে শতাধিক শিক্ষার্থী

আপডেট সময় : ০৯:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

নওগাঁর মান্দায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে কৌশলে ডেকে নিয়ে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের ‘ডাকাতের মোড়’ এলাকায় অবস্থিত হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসাকে ঘিরে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসাটির প্রধান ফটকে প্রভাবশালী একটি পক্ষ বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়ায় শতাধিক শিক্ষার্থীর যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ খুঁজছে, আবার কেউ কেউ নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হতে পারছে না।

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, শুক্রবার বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোকাররম হোসেন মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হাফেজ মেহেদী হাসানকে জানান, থানার ওসি তার সঙ্গে কথা বলতে চান। এ কথা শুনে তিনি স্বেচ্ছায় থানায় গেলে পরে তাকে আর ফিরতে দেওয়া হয়নি। কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাকে একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহলের চাপে পুলিশ এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ প্রতিপক্ষ বেলাল উদ্দিন মন্ডল ও তার লোকজন ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও মালামাল চুরির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, মামলায় যেসব মালামাল চুরির কথা বলা হয়েছে, সেগুলো এখনো ঘটনাস্থলেই পড়ে রয়েছে, যা অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

এদিকে মামলার আরেক আসামি প্রবীণ শিক্ষক হাফেজ আবু বক্কর সিদ্দিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। একদিকে সন্তানের গ্রেপ্তার, অন্যদিকে মাদ্রাসার অস্তিত্ব সংকট—সব মিলিয়ে পরিবারটি চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষ পূর্বে তাদের মালিকানাধীন জমি বিক্রি করলেও এখন প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসার জমি দখলের চেষ্টা করছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোকাররম হোসেন বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল এবং পরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’

এলাকাবাসী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাকে সাজানো ও হয়রানিমূলক দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মাদ্রাসার প্রধান ফটক খুলে দিয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।