গ্রন্থমেলা সংস্কৃতি ও শিক্ষার বিকাশে ভূমিকা রাখবে: সিসিক প্রশাসক
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, গ্রন্থমেলা একটি জাতির মনন গঠনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বই মানুষের চিন্তাকে প্রসারিত করে, নতুন প্রজন্মকে জ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করে এবং সমাজে সংস্কৃতির বিকাশ ঘটায়। তাই নিয়মিত বইমেলার আয়োজন একটি সুস্থ, সচেতন ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কমল সাহিত্য পরিষদ আয়োজিত ‘শহীদ জিয়া ২য় গ্রন্থমেলা-২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একটি জাতির উন্নয়ন কেবল অবকাঠামোগত অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে না; বরং মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বই সেই বিকাশের প্রধান হাতিয়ার। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠলে সমাজে সচেতনতা বাড়ে, মূল্যবোধ তৈরি হয় এবং সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটে। এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করতে সহায়ক হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বাধাগ্রস্ত ছিল। জনগণের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন এসেছে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে দেশের মানুষ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এ অবস্থায় দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পারিবারিক নাম ‘কমল’ থেকে কমল সাহিত্য পরিষদের নামকরণ করা হয়েছে। এই সংগঠন নিয়মিত বইমেলার আয়োজন করে আসছে, যা শুধু একটি সাংস্কৃতিক উদ্যোগ নয়, বরং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের একটি ধারাবাহিক প্রয়াস। এমন উদ্যোগ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়লে বই পড়ার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।
সাহিত্য পরিষদের সভাপতি সাজন আহমদ সাজুর সভাপতিত্বে এবং সম্পাদক ছড়াকার ইলহাম সাদির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কবি ও লেখক সালেহ আহমদ খসরু, লেখক ও গবেষক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী এবং সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাবেক সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক আব্দুল মুকিত অপি। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা, সাহিত্যচর্চার গুরুত্ব এবং তরুণদের মধ্যে সৃজনশীলতা বিকাশে এমন আয়োজনের ভূমিকা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সিলেটের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষাঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, মেলায় বিভিন্ন প্রকাশনার নতুন বই, সাহিত্য আলোচনা, কবিতা পাঠ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে, যা দর্শনার্থীদের জন্য একটি প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করবে।






















