ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিসিএস পরীক্ষায় হতাশ হলেও ভ্যানচালক থেকে সফল উদ্যোক্তা ফরমাজুল

নাটোর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:২৩:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অভাব-অনটনের সংসারে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটত ফরমাজুল ইসলামের। বাবার একমাত্র উপার্জনের পথ ছিল প্যাডেল ভ্যান। নিজের পড়ালেখার খরচ চালাতে বছরের পর বছর ভ্যান চালাতে হয়েছে তাকে। পাঁচবার বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ভালো করতে না পারলেও তিনি হাল ছাড়েননি। চাকরির জন্য দুয়ারে দুয়ারে ঘোরাও তার পছন্দ হয়নি।

বেকারত্বের অভিশাপ ঘোচাতে হাঁস পালনের উদ্যোগ নেন তিনি। অল্প পুঁজিতে হাঁসের খামার গড়ে সাফল্য অর্জন করে আত্মনির্ভরশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরমাজুল ইসলাম। নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পূর্ব সোনাপাতিল গ্রামে তার খামার এখন সবার কাছে পরিচিত ‘ফরমান হাঁসের খামার’ নামে। এক বছরে ৯শ থেকে বেড়ে ৯ হাজার হাঁসের মালিক হয়েছেন তিনি। এ ব্যবসার মাধ্যমে এলাকার অনেক বেকারও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাটোরের হালতিবিল ও চলনবিল এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৫০টি হাঁসের খামার রয়েছে। এসব খামারে পাঁচ লাখের বেশি হাঁস পালন করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ডিম ও হাঁস রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে বিক্রি হয়। নলডাঙ্গার খামারে দুই ধরনের হাঁস রাখা হয়—ডিম দেয় এমন জাত এবং মাংসের জন্য বিশেষ জাত। খামারে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার ডিম উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়া হ্যাচারিতে বাচ্চাও ফুটানো হয়।

ফরমাজুল ইসলাম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ব্যবসায়িক চিন্তাভাবনা ছিল। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে থাকি। পাঁচবার পরীক্ষা দেওয়ার পরও ভালো করতে না পারায় ব্যবসার পরিকল্পনা করি। দুই লাখ টাকা নিজস্ব ও ছোট ভাইয়ের সহায়তায় ৯শ বড় হাঁস দিয়ে খামার শুরু করি। পরে ফেসবুকে খামারের প্রচার করি। প্রথম বছরেই প্রায় ১৫ লাখ টাকা আয় হয়েছে, চলতি বছরে আরও ২০ লাখ টাকা যুক্ত হয়েছে। এখন আমার খামারের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ৩৫ লাখ টাকার বেশি।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘এই অঞ্চলে ২৫০টিরও বেশি হাঁসের খামার রয়েছে। হাঁস পালন করে অনেকেই লাভবান হয়েছেন। নদী ও জলাশয় কম-বেশি পানি থাকায় প্রাকৃতিক খাবারের জোগানও রয়েছে।’

স্থানীয় আড়তদাররা বলেন, ‘ডিমের আড়ত না থাকায় স্থানীয়দের বেশি খরচে ডিম কিনতে হয়। নলডাঙ্গায় ডিমের আড়ত থাকলে সবার জন্য সুবিধা হতো।’

ফরমাজুলের গল্প দেখায়, সঠিক উদ্যোগ ও ধৈর্য থাকলে সীমিত পুঁজিতেও উদ্যোক্তা হিসেবে সাফল্য অর্জন সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

বিসিএস পরীক্ষায় হতাশ হলেও ভ্যানচালক থেকে সফল উদ্যোক্তা ফরমাজুল

আপডেট সময় : ০৮:২৩:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

অভাব-অনটনের সংসারে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটত ফরমাজুল ইসলামের। বাবার একমাত্র উপার্জনের পথ ছিল প্যাডেল ভ্যান। নিজের পড়ালেখার খরচ চালাতে বছরের পর বছর ভ্যান চালাতে হয়েছে তাকে। পাঁচবার বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ভালো করতে না পারলেও তিনি হাল ছাড়েননি। চাকরির জন্য দুয়ারে দুয়ারে ঘোরাও তার পছন্দ হয়নি।

বেকারত্বের অভিশাপ ঘোচাতে হাঁস পালনের উদ্যোগ নেন তিনি। অল্প পুঁজিতে হাঁসের খামার গড়ে সাফল্য অর্জন করে আত্মনির্ভরশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরমাজুল ইসলাম। নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পূর্ব সোনাপাতিল গ্রামে তার খামার এখন সবার কাছে পরিচিত ‘ফরমান হাঁসের খামার’ নামে। এক বছরে ৯শ থেকে বেড়ে ৯ হাজার হাঁসের মালিক হয়েছেন তিনি। এ ব্যবসার মাধ্যমে এলাকার অনেক বেকারও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাটোরের হালতিবিল ও চলনবিল এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৫০টি হাঁসের খামার রয়েছে। এসব খামারে পাঁচ লাখের বেশি হাঁস পালন করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ডিম ও হাঁস রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে বিক্রি হয়। নলডাঙ্গার খামারে দুই ধরনের হাঁস রাখা হয়—ডিম দেয় এমন জাত এবং মাংসের জন্য বিশেষ জাত। খামারে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার ডিম উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়া হ্যাচারিতে বাচ্চাও ফুটানো হয়।

ফরমাজুল ইসলাম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ব্যবসায়িক চিন্তাভাবনা ছিল। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে থাকি। পাঁচবার পরীক্ষা দেওয়ার পরও ভালো করতে না পারায় ব্যবসার পরিকল্পনা করি। দুই লাখ টাকা নিজস্ব ও ছোট ভাইয়ের সহায়তায় ৯শ বড় হাঁস দিয়ে খামার শুরু করি। পরে ফেসবুকে খামারের প্রচার করি। প্রথম বছরেই প্রায় ১৫ লাখ টাকা আয় হয়েছে, চলতি বছরে আরও ২০ লাখ টাকা যুক্ত হয়েছে। এখন আমার খামারের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ৩৫ লাখ টাকার বেশি।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘এই অঞ্চলে ২৫০টিরও বেশি হাঁসের খামার রয়েছে। হাঁস পালন করে অনেকেই লাভবান হয়েছেন। নদী ও জলাশয় কম-বেশি পানি থাকায় প্রাকৃতিক খাবারের জোগানও রয়েছে।’

স্থানীয় আড়তদাররা বলেন, ‘ডিমের আড়ত না থাকায় স্থানীয়দের বেশি খরচে ডিম কিনতে হয়। নলডাঙ্গায় ডিমের আড়ত থাকলে সবার জন্য সুবিধা হতো।’

ফরমাজুলের গল্প দেখায়, সঠিক উদ্যোগ ও ধৈর্য থাকলে সীমিত পুঁজিতেও উদ্যোক্তা হিসেবে সাফল্য অর্জন সম্ভব।