ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মার্কিন কর্মীদের সৌদি আরব ছাড়তে বলল যুক্তরাষ্ট্র এইচএসসিতে কমেছে জিপিএ-৫ এইচএসসিতে চট্টগ্রাম বোর্ডে ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এইচএসসিতে পাসের হার ৫১.৬২%, জিপিএ-৫ ৩৫ হাজার এইচএসসিতে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্যরা এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা দেবেন এবারের এইচএসসিতে ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করেননি এইচএসসিতে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীরা এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা দেবেন এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৪০০৮৪ জন এমপির ছেলেকে আবার রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন, নাটোর জেলা বিএনপির বিশেষ সভা বন্ডে বিনিয়োগ কতটা লাভজনক, কী বিবেচনা করতে হবে

পিরোজপুর পৌরসভায় তীব্র পানি সংকট, ভোগান্তিতে প্রায় ২ লাখ মানুষ

পিরোজপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:২৩:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬ ৮৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পিরোজপুরে গরমের শুরুতেই তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরসভার বসবাসরত বাসিন্দারা। পানির সংকটে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক ভাড়াটিয়া ইতিমধ্যে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,পিরোজপুরের পানি শোধনাগারের প্রধান পুকুরটি শুকিয়ে যাওয়ায় পৌরসভার একমাত্র সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে পৌর এলাকার প্রায় ২ লাখ মানুষ পড়েছেন সীমাহীন ভোগান্তিতে। নিয়ম অনুযায়ী দিনে ২ বার করে পানি সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক এলাকায় দিনে এক বার পানি মিলছে স্বল্প আকারে। কোথাও কোথাও একদিন পরপর পানি পাচ্ছেন গ্রাহকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২ লাখ মানুষের জন্য প্রতি ঘণ্টায় প্রয়োজন প্রায় ৯ লাখ লিটার পানি, অথচ উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৩ লাখ লিটার। চাহিদা ও সরবরাহের এই বিশাল ব্যবধানই সংকটের মূল কারণ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরেই পানি সংকট ধীরে ধীরে তীব্র হয়েছে। একসময় নির্ভরযোগ্য পানির উৎস থাকলেও জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। ১৯৮৩ সালে চালু হওয়া পানি শোধনাগারটি শুরুতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০ হাজার লিটার পানি উৎপাদন করত। বর্তমানে উৎপাদন বাড়িয়ে প্রায় ৩ লাখ লিটারে নেওয়া হলেও চাহিদার তুলনায় তা অনেক কম।

পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা জানান, প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ করে সংযোগ নেওয়ার পরও পানির অভাবে তা ব্যবহার করতে পারছেন না। ‘লাইনে পানি না থাকায় সংযোগ বন্ধ করে দিতে হয়েছে। আমাদের এলাকায় টিউবওয়েল বসানোও সম্ভব নয়’ বলেন তিনি।

একই চিত্র ৭ নম্বর ওয়ার্ডেও। ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা রোজিনা বেগম বলেন, ‘পানির সমস্যার কারণে ভাড়াটিয়ারা থাকতে চান না। আমার তিনটি ঘরের মধ্যে দুইটির ভাড়াটিয়া চলে গেছে।’

পিরোজপুর পৌরসভার পানি শোধনাগারের কর্মচারী বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে নেওয়া উদ্যোগগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। তার মতে, পুকুর পুনঃখনন এবং পুরনো সরু পাইপলাইন পরিবর্তন করে বড় পাইপ বসানো জরুরি।

এ বিষয়ে পৌরসভার পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান জানান, একসময় গ্রাহক সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০০, বর্তমানে তা বেড়ে ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে নদী-খাল শুকিয়ে যাওয়ায় সরবরাহ আরও কমে গেছে।

তিনি বলেন, ‘নতুন একটি পানি শোধনাগার স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এটি বাস্তবায়ন হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে, তবে সময় ও অর্থের বিষয় রয়েছে।’ পৌরবাসীর কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে রিজার্ভ পুকুর পুনঃখননের কাজ গত ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন গ্রীষ্মে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে এবং জনজীবনে নেমে আসবে চরম দুর্ভোগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

পিরোজপুর পৌরসভায় তীব্র পানি সংকট, ভোগান্তিতে প্রায় ২ লাখ মানুষ

আপডেট সময় : ০৬:২৩:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

পিরোজপুরে গরমের শুরুতেই তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরসভার বসবাসরত বাসিন্দারা। পানির সংকটে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক ভাড়াটিয়া ইতিমধ্যে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,পিরোজপুরের পানি শোধনাগারের প্রধান পুকুরটি শুকিয়ে যাওয়ায় পৌরসভার একমাত্র সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে পৌর এলাকার প্রায় ২ লাখ মানুষ পড়েছেন সীমাহীন ভোগান্তিতে। নিয়ম অনুযায়ী দিনে ২ বার করে পানি সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক এলাকায় দিনে এক বার পানি মিলছে স্বল্প আকারে। কোথাও কোথাও একদিন পরপর পানি পাচ্ছেন গ্রাহকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২ লাখ মানুষের জন্য প্রতি ঘণ্টায় প্রয়োজন প্রায় ৯ লাখ লিটার পানি, অথচ উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৩ লাখ লিটার। চাহিদা ও সরবরাহের এই বিশাল ব্যবধানই সংকটের মূল কারণ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরেই পানি সংকট ধীরে ধীরে তীব্র হয়েছে। একসময় নির্ভরযোগ্য পানির উৎস থাকলেও জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। ১৯৮৩ সালে চালু হওয়া পানি শোধনাগারটি শুরুতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০ হাজার লিটার পানি উৎপাদন করত। বর্তমানে উৎপাদন বাড়িয়ে প্রায় ৩ লাখ লিটারে নেওয়া হলেও চাহিদার তুলনায় তা অনেক কম।

পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা জানান, প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ করে সংযোগ নেওয়ার পরও পানির অভাবে তা ব্যবহার করতে পারছেন না। ‘লাইনে পানি না থাকায় সংযোগ বন্ধ করে দিতে হয়েছে। আমাদের এলাকায় টিউবওয়েল বসানোও সম্ভব নয়’ বলেন তিনি।

একই চিত্র ৭ নম্বর ওয়ার্ডেও। ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা রোজিনা বেগম বলেন, ‘পানির সমস্যার কারণে ভাড়াটিয়ারা থাকতে চান না। আমার তিনটি ঘরের মধ্যে দুইটির ভাড়াটিয়া চলে গেছে।’

পিরোজপুর পৌরসভার পানি শোধনাগারের কর্মচারী বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে নেওয়া উদ্যোগগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। তার মতে, পুকুর পুনঃখনন এবং পুরনো সরু পাইপলাইন পরিবর্তন করে বড় পাইপ বসানো জরুরি।

এ বিষয়ে পৌরসভার পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান জানান, একসময় গ্রাহক সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০০, বর্তমানে তা বেড়ে ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে নদী-খাল শুকিয়ে যাওয়ায় সরবরাহ আরও কমে গেছে।

তিনি বলেন, ‘নতুন একটি পানি শোধনাগার স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এটি বাস্তবায়ন হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে, তবে সময় ও অর্থের বিষয় রয়েছে।’ পৌরবাসীর কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে রিজার্ভ পুকুর পুনঃখননের কাজ গত ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন গ্রীষ্মে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে এবং জনজীবনে নেমে আসবে চরম দুর্ভোগ।