ইরান আগ্রাসন প্রশ্নে হলিউডে নীরবতা কেন
- আপডেট সময় : ১১:২৪:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত যখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, তখন আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুতে সরব থাকা হলিউডের তারকাদের উল্লেখযোগ্য নীরবতা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পুরস্কার মঞ্চ কিংবা জনসম্মুখে প্রতিবাদ—এসব জায়গায় যেখানে আগে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল, সেখানে ইরান ইস্যুতে সেই দৃশ্যপট অনেকটাই অনুপস্থিত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতা হঠাৎ কোনো পরিবর্তন নয়; বরং এটি একটি হিসাবকৃত অবস্থান, যেখানে রাজনৈতিক বাস্তবতা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং পেশাগত ঝুঁকি—সবকিছু মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
যুদ্ধের প্রভাব তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনেও পড়ছে। মার্কিন টেলিভিশন উপস্থাপক Abby Huntsman একটি লাইভ অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, কারণ তার পরিবারের সদস্যরা সরাসরি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত এবং যুদ্ধের ঝুঁকিতে রয়েছেন। একইভাবে অভিনেত্রী Sydney Sweeney তার বিমানবাহিনীতে কর্মরত ভাইয়ের প্রতি সমর্থন জানালেও যুদ্ধের পক্ষে বা বিপক্ষে স্পষ্ট কোনো অবস্থান নেননি। এই ধরনের অবস্থানকে বিশ্লেষকরা ‘মানবিক কিন্তু রাজনৈতিকভাবে সংযত’ বলে উল্লেখ করছেন।
এদিকে ‘সিলেক্টিভ অ্যাক্টিভিজম’ বা বেছে বেছে প্রতিবাদের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সমালোচকদের দাবি, হলিউড তারকারা এমন ইস্যুতে বেশি সরব হন যেখানে জনসমর্থন স্পষ্ট এবং ঝুঁকি কম। কিন্তু যেখানে অবস্থান নেওয়া বিতর্কিত বা জটিল, সেখানে তারা নীরব থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
তবে এই নীরবতা একেবারে সর্বত্র নয়। ইরানি বংশোদ্ভূত শিল্পী ও মানবাধিকারকর্মীরা এ বিষয়ে ক্রমেই সোচ্চার হচ্ছেন। অভিনেত্রী Nazanin Boniadi আন্তর্জাতিক মহলে বারবার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, নীরব থাকা মানে নিরপেক্ষ থাকা নয়। একইভাবে Golshifteh Farahani দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছেন। সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট Masih Alinejad-ও পশ্চিমা তারকাদের উদ্দেশে একই আহ্বান জানিয়েছেন—অন্য ইস্যুতে যেমন সরব, ইরানের ক্ষেত্রেও তেমন অবস্থান নিতে হবে।
অন্যদিকে, হলিউডের কিছু প্রভাবশালী তারকার নীরবতা আরও বেশি প্রশ্ন তৈরি করেছে। অভিনেত্রী Angelina Jolie, যিনি ইউক্রেনসহ বিভিন্ন মানবিক সংকটে সরব ছিলেন, কিংবা Mark Ruffalo, যিনি ফিলিস্তিন ইস্যুতে অবস্থান নিয়েছেন—তাদের এই নীরবতা বিশ্লেষকদের নজরে এসেছে। একইভাবে Gal Gadot এবং Leonardo DiCaprio-এর মতো তারকারাও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রথমত, ইরান ইস্যুতে বৈশ্বিক রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট, ফলে যেকোনো অবস্থান নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, হলিউড একটি বৈশ্বিক শিল্প হওয়ায় একটি মন্তব্য বড় বাজার হারানোর কারণ হতে পারে। তৃতীয়ত, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ—সংবেদনশীল বিষয়ে মন্তব্য করলে হুমকি বা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা থাকে। চতুর্থত, তথ্যযুদ্ধের এই সময়ে সঠিক তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা অনেককে সতর্ক করে তুলছে।
সব মিলিয়ে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত শুধু ভূরাজনীতি নয়, সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও প্রভাব ফেলছে। হলিউডের এই নীরবতা তাই কেবল অনুপস্থিতি নয়—এটি একটি জটিল বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে প্রতিটি বক্তব্যের পেছনে হিসাব-নিকাশ জড়িত।























