ঢাকা ১১:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৯০ শিশু ভর্তি, বাড়ছে উদ্বেগ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:২৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯০ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আক্রান্ত এসব শিশু কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার নাসরিন আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত ৮৮ দিনে জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৬৩ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত তিন সপ্তাহ ধরে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতালে ১৯ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, ২০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী রয়েছে। ওয়ার্ডের কক্ষ পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় বারান্দাতেও শিশুদের রাখা হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীদের আলাদা ওয়ার্ডে রাখা হলেও সেখানে বিছানার সংকট প্রকট। অনেক ক্ষেত্রে একটি বিছানায় দুজন করে শিশু রাখা হচ্ছে।

অধিকাংশ শিশুই জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও শরীরে র‌্যাশ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।

তবে চিকিৎসা সেবা নিয়ে অভিভাবকদের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, হাসপাতাল থেকে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে না। সিরিঞ্জ, অক্সিজেনের পানির নলসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, দিনে মাত্র একবার চিকিৎসক রাউন্ডে আসছেন।

হামে আক্রান্ত তিন মাস বয়সী শিশু ফারিয়া খাতুনের মা মিতু খাতুন জানান, তার মেয়ের প্রচণ্ড জ্বর ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে কিছুটা উন্নতি হলেও প্রতিদিন ওষুধ কিনতে খরচ হচ্ছে।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আলামপুর গ্রামের নাজনীন আক্তারও।

এ বিষয়ে দায়িত্বরত নার্স কামরুন্নাহার বলেন, হাসপাতালে সরবরাহ সীমিত। প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতির বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম জানান, বর্তমানে ১৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অক্সিজেন সাপোর্ট থাকলেও ভেন্টিলেশন সুবিধা নেই। তিনজন রোগীর অবস্থা কিছুটা গুরুতর।

সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও হামের রোগী বাড়ছে। প্রতিটি হাসপাতালে পৃথক ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ খোলা হয়েছে। জানুয়ারিতে ১৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২০ জন এবং মার্চের ২৯ দিনে ১২৮ জন রোগী ভর্তি হয়। এদের মধ্যে মোট ১৫ জন হামে পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তির দিকে রয়েছে। সব হাসপাতালে বিশেষ নজরদারিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

কুষ্টিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৯০ শিশু ভর্তি, বাড়ছে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ১১:২৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯০ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আক্রান্ত এসব শিশু কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার নাসরিন আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত ৮৮ দিনে জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৬৩ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত তিন সপ্তাহ ধরে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতালে ১৯ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, ২০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী রয়েছে। ওয়ার্ডের কক্ষ পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় বারান্দাতেও শিশুদের রাখা হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীদের আলাদা ওয়ার্ডে রাখা হলেও সেখানে বিছানার সংকট প্রকট। অনেক ক্ষেত্রে একটি বিছানায় দুজন করে শিশু রাখা হচ্ছে।

অধিকাংশ শিশুই জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও শরীরে র‌্যাশ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।

তবে চিকিৎসা সেবা নিয়ে অভিভাবকদের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, হাসপাতাল থেকে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে না। সিরিঞ্জ, অক্সিজেনের পানির নলসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, দিনে মাত্র একবার চিকিৎসক রাউন্ডে আসছেন।

হামে আক্রান্ত তিন মাস বয়সী শিশু ফারিয়া খাতুনের মা মিতু খাতুন জানান, তার মেয়ের প্রচণ্ড জ্বর ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে কিছুটা উন্নতি হলেও প্রতিদিন ওষুধ কিনতে খরচ হচ্ছে।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আলামপুর গ্রামের নাজনীন আক্তারও।

এ বিষয়ে দায়িত্বরত নার্স কামরুন্নাহার বলেন, হাসপাতালে সরবরাহ সীমিত। প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতির বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম জানান, বর্তমানে ১৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অক্সিজেন সাপোর্ট থাকলেও ভেন্টিলেশন সুবিধা নেই। তিনজন রোগীর অবস্থা কিছুটা গুরুতর।

সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও হামের রোগী বাড়ছে। প্রতিটি হাসপাতালে পৃথক ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ খোলা হয়েছে। জানুয়ারিতে ১৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২০ জন এবং মার্চের ২৯ দিনে ১২৮ জন রোগী ভর্তি হয়। এদের মধ্যে মোট ১৫ জন হামে পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তির দিকে রয়েছে। সব হাসপাতালে বিশেষ নজরদারিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।