সিরাজগঞ্জ শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ভোগান্তি, দুর্ভোগে নগরবাসী
- আপডেট সময় : ০৯:১৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জ শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুরবস্থার কারণে দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ। যমুনা নদীর তীরবর্তী এই শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে, স্কুল-কলেজের সামনে এবং হাসপাতাল এলাকায় চোখে পড়ছে ময়লার স্তুপ। এতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবে শহরটি ক্রমেই “ময়লার শহর” হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে।
পৌরসভা কর্তৃপক্ষ শহরের কয়েকটি স্থানে ডিজিটাল ডাস্টবিন স্থাপন করলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলোর অনেকগুলোই নষ্ট হয়ে গেছে। এসব ডাস্টবিনে আল্ট্রাসনিক সেন্সরের মাধ্যমে পূর্ণ হওয়ার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জিপিএস ও জিএসএম প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে নষ্ট ও ভাঙা ডাস্টবিন পড়ে থাকায় যানবাহন চলাচলেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আবর্জনার কারণে কুকুর-বিড়ালের আনাগোনা বেড়েছে। দুর্গন্ধের সঙ্গে গাড়ির হর্ন ও জনসমাগম মিলিয়ে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির ও হাসপাতালগামী মানুষকে আবর্জনার ওপর দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।
আফরিন তালুকদার আশা শিক্ষার্থী, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ, সিরাজগঞ্জ জানান, ডাস্টবিন রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা এবং নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য না ফেলার প্রবণতার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তাদের দাবি, শহরের বড় একটি অংশ এখনো যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতার বাইরে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
সচেতন মহলের মতে, এই সমস্যা সমাধানে জনবহুল এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক ঢাকনাযুক্ত মজবুত ডাস্টবিন স্থাপন, বিদ্যমান ডাস্টবিনগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা জোরদার, নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে জরিমানাসহ আইন প্রয়োগ এবং পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করে সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

























