ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দ্রুত সময়ের মধ্যে আইজিপির দায়িত্ব থেকে চলে যাওয়া উচিত: নাহিদ ইসলাম ইসরায়েলে ভোটের ফলাফলে সম্ভাব্য ৪ পরিস্থিতি কী ঢাকায় নতুন দুই মেট্রোরেলের স্টেশন ও রেলপথ তৈরির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু ব্যবসা বেড়েছে, তারপরও লোকসান বাড়ল সিঙ্গারের জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে চালু হলো বিনা মূল্যে হুইলচেয়ার সেবা স্টার্কের ৬ বলে ৪ উইকেট, কেপটাউনে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন অস্ট্রেলিয়ার ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে কে এই বাংলাদেশি ফুয়াদ আবদুল–আজিজ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ জানতে তদন্ত কমিটি ২৮ অক্টোবর দিনভর আওয়ামী লীগ তাণ্ডব চালানোর সুযোগ পেল কীভাবে, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের যুক্তির লড়াইয়ে ফাইনালে দুই দল, জয়-পরাজয়ের বাইরে বন্ধুত্বের চর্চা

২৮ অক্টোবর দিনভর আওয়ামী লীগ তাণ্ডব চালানোর সুযোগ পেল কীভাবে, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার–দলীয় জোট সরকারের আমলে কাদের দুর্বলতায় তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর দিনভর তাণ্ডব চালানোর সুযোগ পেয়েছিল, সে প্রশ্ন রেখেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘তখনো তো চার–দলীয় সরকার ছিল। সারা দিনভর, মাগরিবের আগপর্যন্ত তারা (আওয়ামী লীগ) তাণ্ডব চালানোর এই সুযোগ পেল কীভাবে? এখানে কার দুর্বলতা ছিল? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই নির্মম হত্যাকাণ্ড হলো, তারা কাউকে একটু হাত ধরে সরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করল না কেন? তাহলে এখানে কি অন্য কোনো বৃহৎ ষড়যন্ত্র এবং নোংরা খেলা ছিল? এটা জাতির বিরাট প্রশ্ন।’

.

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) মাল্টিপারপাস হলে এক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। ‘২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি দিবস’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই এরা বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে তারা চেয়েছিল চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সমান তালে সন্ত্রাস, লুটপাট, চাঁদাবাজি, নারীদের ইজ্জত নষ্ট করেছিল। শেষ পর্যন্ত শাসকের ছেলে ব্যাংক ডাকাত হয়েছিল। ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে খুন করা হয়েছিল। তাদের অপকর্মের বোঝা এত ভারী হয়ে গিয়েছিল, তারা বুঝতে পেরেছিল, এ দেশের মানুষ ভবিষ্যতে তাদের সমর্থন দেবে না। এ জন্য তারা বাকশাল ও রক্ষী বাহিনী গঠন করেছিল।

.

জামায়াত নেতাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে দাবি করে শফিকুর রহমান বলেন, এর পরিণাম তাদের (আওয়ামী লীগ) ভোগ করতে হবে। এই বিচারের শেষ দেখে ছাড়বে জামায়াত।

.

২০০৬ সালে চার–দলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ আগে আওয়ামী লীগ দলীয় নেতা–কর্মীদের লগি–বৈঠা হাতে ঢাকায় আসতে বলা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, রাজধানীতে পিচঢালা রাস্তায় নৌকা চলে না। এই লগি–বৈঠা আনা হয়েছিল মানুষ পিটিয়ে হত্যা করার জন্য। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের দোসর বামপন্থীরাও এতে শরিক ছিল।

জামায়াত নেতাদের মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে দাবি করে শফিকুর রহমান বলেন, এর পরিণাম তাদের (আওয়ামী লীগ) ভোগ করতে হবে। এই বিচারের শেষ দেখে ছাড়বে জামায়াত। আওয়ামী লীগ কখনো স্বাভাবিকভাবে বিদায় নিতে পারেনি। ধিকৃত, লাঞ্ছিত হয়ে বিদায় নিয়েছে। সে রাস্তা এখন অন্য কেউ অবলম্বন করতে চাইলে তাদের পরিণতিও ভিন্ন হবে না। এ দেশ কোনো ফ্যাসিবাদের হাতে ইজারা দেওয়া হবে না।

ফ্যাসিবাদীদের কেউ কেউ আশকারা দিচ্ছে অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সাপ নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন না। এই সাপই ছোবল দিয়ে কিন্তু শেষ করে দেবে।’

.

বর্তমান সরকারকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

আলোচনা সভায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি গণ–আকাঙ্ক্ষার অংশীজন হিসেবে নির্বাচনের আগে যে কথা দিয়েছিল, সেখান থেকে মুখ ফিরিয়ে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটতে শুরু করেছে।

জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন দলটির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও আবদুল হালিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন।

আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম), ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় নিহত গোলাম কিবরিয়ার বাবা তাজুল ইসলাম, সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুমের মা শামছুন নাহার, মুজাহিদুল ইসলামের মামা মিজান আহমেদ, হাবিবুর রহমানের ছেলে রুবেল মৃধা প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

২৮ অক্টোবর দিনভর আওয়ামী লীগ তাণ্ডব চালানোর সুযোগ পেল কীভাবে, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

আপডেট সময় : ১০:২২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার–দলীয় জোট সরকারের আমলে কাদের দুর্বলতায় তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর দিনভর তাণ্ডব চালানোর সুযোগ পেয়েছিল, সে প্রশ্ন রেখেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘তখনো তো চার–দলীয় সরকার ছিল। সারা দিনভর, মাগরিবের আগপর্যন্ত তারা (আওয়ামী লীগ) তাণ্ডব চালানোর এই সুযোগ পেল কীভাবে? এখানে কার দুর্বলতা ছিল? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই নির্মম হত্যাকাণ্ড হলো, তারা কাউকে একটু হাত ধরে সরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করল না কেন? তাহলে এখানে কি অন্য কোনো বৃহৎ ষড়যন্ত্র এবং নোংরা খেলা ছিল? এটা জাতির বিরাট প্রশ্ন।’

.

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) মাল্টিপারপাস হলে এক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। ‘২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি দিবস’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই এরা বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে তারা চেয়েছিল চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সমান তালে সন্ত্রাস, লুটপাট, চাঁদাবাজি, নারীদের ইজ্জত নষ্ট করেছিল। শেষ পর্যন্ত শাসকের ছেলে ব্যাংক ডাকাত হয়েছিল। ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে খুন করা হয়েছিল। তাদের অপকর্মের বোঝা এত ভারী হয়ে গিয়েছিল, তারা বুঝতে পেরেছিল, এ দেশের মানুষ ভবিষ্যতে তাদের সমর্থন দেবে না। এ জন্য তারা বাকশাল ও রক্ষী বাহিনী গঠন করেছিল।

.

জামায়াত নেতাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে দাবি করে শফিকুর রহমান বলেন, এর পরিণাম তাদের (আওয়ামী লীগ) ভোগ করতে হবে। এই বিচারের শেষ দেখে ছাড়বে জামায়াত।

.

২০০৬ সালে চার–দলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ আগে আওয়ামী লীগ দলীয় নেতা–কর্মীদের লগি–বৈঠা হাতে ঢাকায় আসতে বলা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, রাজধানীতে পিচঢালা রাস্তায় নৌকা চলে না। এই লগি–বৈঠা আনা হয়েছিল মানুষ পিটিয়ে হত্যা করার জন্য। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের দোসর বামপন্থীরাও এতে শরিক ছিল।

জামায়াত নেতাদের মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে দাবি করে শফিকুর রহমান বলেন, এর পরিণাম তাদের (আওয়ামী লীগ) ভোগ করতে হবে। এই বিচারের শেষ দেখে ছাড়বে জামায়াত। আওয়ামী লীগ কখনো স্বাভাবিকভাবে বিদায় নিতে পারেনি। ধিকৃত, লাঞ্ছিত হয়ে বিদায় নিয়েছে। সে রাস্তা এখন অন্য কেউ অবলম্বন করতে চাইলে তাদের পরিণতিও ভিন্ন হবে না। এ দেশ কোনো ফ্যাসিবাদের হাতে ইজারা দেওয়া হবে না।

ফ্যাসিবাদীদের কেউ কেউ আশকারা দিচ্ছে অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সাপ নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন না। এই সাপই ছোবল দিয়ে কিন্তু শেষ করে দেবে।’

.

বর্তমান সরকারকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

আলোচনা সভায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি গণ–আকাঙ্ক্ষার অংশীজন হিসেবে নির্বাচনের আগে যে কথা দিয়েছিল, সেখান থেকে মুখ ফিরিয়ে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটতে শুরু করেছে।

জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন দলটির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও আবদুল হালিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন।

আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম), ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় নিহত গোলাম কিবরিয়ার বাবা তাজুল ইসলাম, সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুমের মা শামছুন নাহার, মুজাহিদুল ইসলামের মামা মিজান আহমেদ, হাবিবুর রহমানের ছেলে রুবেল মৃধা প্রমুখ।