রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের তৃতীয় চালানের ইউরেনিয়াম
- আপডেট সময় : ১০:০৬:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে রাশিয়া থেকে আনা ইউরেনিয়ামের (পারমাণবিক জ্বালানি) আরেকটি চালান। এটি প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের তৃতীয় চালান। আজ মঙ্গলবার সকালে ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িবহরটি রূপপুরে পৌঁছায়।
প্রকল্প কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জনা গেছে, আজ ভোরে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পারমাণবিক জ্বালানিবাহী গাড়িবহর পাবনার উদ্দেশে রওনা দেয়। গাড়িবহরটি যমুনা সেতু পার হয়ে নাটোর হয়ে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক দিয়ে সকাল আটটার দিকে রূপপুরে পৌঁছায়। এ সময় রূপপুরে কর্মরত রাশিয়ার নাগরিকেরা গাড়িবহরটিকে স্বাগত জানান।
.
ইউরেনিয়ামের এই চালান প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের তৃতীয় চালান। সকাল সাড়ে আটটার দিকে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় পারমাণবিক জ্বালানিবাহী লরি প্রকল্প এলাকার পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে এই জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হবে।
রুহুল কুদ্দুস, সাইট ইনচার্জ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প
.রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের আরেকটি চালান.
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস প্রথম আলোকে বলেন, ইউরেনিয়ামের এই চালান প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের তৃতীয় চালান। সকাল সাড়ে আটটার দিকে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় পারমাণবিক জ্বালানিবাহী লরি প্রকল্প এলাকার পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে এই জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হবে।
গাড়িবহরটি নিরাপদে পৌঁছাতে ঢাকা থেকে পাবনা পুরো সড়কজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা নেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে আসা ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো যাতে যানজট ছাড়া ভালোভাবে রূপপুরে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য জেলা পুলিশ তৎপর ছিল। যানজট এড়াতে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে আটটা পর্যন্ত পাবনা-নাটোর ও পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক দিয়ে ছোট-বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িবহর পৌঁছানোর পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
.
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত চাহিদা এবং দ্বিতীয় ইউনিট চালুর প্রয়োজনীয়তা মেটাতে রাশিয়া থেকে আরও আটটি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হবে। আগের চালান দুটি আসে ৩ ও ২১ অক্টোবর। আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে রাশিয়া থেকে আরও জ্বালানির বাকি চালান দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পাবনার রূপপুরে নির্মাণ করা হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন।
.
এ প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদার হিসেবে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট। সময়মতো সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।






















