ঢাকা ০২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোরের কুয়াশায় শীতের আগমনী বার্তা, শঙ্কিত চরবাসী

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:২৭:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ফোটেনি। সবুজ ঘাসের ডগায় জমে আছে শিশিরকণা। ধানখেতের ওপর হালকা কুয়াশার চাদর, মেঠোপথে বইছে শীতল বাতাস। প্রকৃতির এই রূপবদল জানান দিচ্ছে, ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে শীত।

হেমন্তের শুরুতে গাইবান্ধার গ্রামাঞ্চল থেকে নদীবেষ্টিত চরগুলোতে এখন ভোরের চিত্র অনেকটা এমনই। গাছের পাতা, ধানের শীষ ও দূর্বাঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরকণা বাড়িয়ে তুলছে প্রকৃতির সৌন্দর্য। কুয়াশায় আবছা হয়ে থাকছে দূরের ফসলের মাঠ। ভোরের স্নিগ্ধ পরিবেশে কেউ বের হচ্ছেন হাঁটতে, আবার কৃষকেরা ছুটছেন মাঠে। কেউ আমন ধানের পরিচর্যা করছেন, কেউ শাকসবজি তুলছেন, আবার কেউ গবাদিপশু নিয়ে যাচ্ছেন চরাঞ্চলের মাঠে।

তবে হেমন্তের এই রূপবদল সবার জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে আসছে না। বিশেষ করে তিস্তা নদীর ভাঙনকবলিত চরাঞ্চলের মানুষের কাছে শীত মানেই বাড়তি দুশ্চিন্তা। জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তা-সংলগ্ন কাপাসিয়া, হরিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনে বসতভিটা ও আবাদি জমি হারিয়ে অনেক পরিবার এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলা হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় উদ্বেগ কাটছে না নদীতীরবর্তী মানুষের।

চরাঞ্চলে আমন ধানের পাশাপাশি শুরু হচ্ছে শীতকালীন সবজির আবাদ। তবে ঘন কুয়াশা ও দীর্ঘসময় রোদ না থাকলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

কৃষক আতিকুর রহমান বলেন, ‘কুয়াশা বাড়লে দীর্ঘসময় রোদ না উঠলে ধান ও সবজির ক্ষতি হতে পারে। তাই এখন থেকেই কৃষকদের সতর্ক থাকতে হবে।’

শীতের প্রস্তুতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে। বিশেষ করে অস্থায়ী ঘরে বসবাস করা শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শিক্ষক মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘শীত সবার জন্য আনন্দের নয়। নদীভাঙনে ঘর হারানো মানুষের জন্য এটি কষ্টের ঋতু। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব।’

স্থানীয়দের দাবি, শীতের তীব্রতা বাড়ার আগেই দরিদ্র ও নদীভাঙনকবলিত মানুষের জন্য শীতবস্ত্র, নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তিস্তার ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

গাইবান্ধার গ্রামাঞ্চলে শিশিরভেজা ঘাস আর কুয়াশায় ঢাকা ফসলের মাঠ শীতের আগমনী বার্তা দিচ্ছে। কিন্তু নদীভাঙনে নিঃস্ব চরবাসীর কাছে এই শীত প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি নতুন সংকটেরও আশঙ্কা। তাই শীত মোকাবিলার প্রস্তুতির সঙ্গে তাদের পাশে দাঁড়ানোও এখন সময়ের দাবি।

রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ভোরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনশীলতার কারণে ভোরে কুয়াশা দেখা দিতে পারে। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হালকা শীতের অনুভূতি পাওয়া যাবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

ভোরের কুয়াশায় শীতের আগমনী বার্তা, শঙ্কিত চরবাসী

আপডেট সময় : ১২:২৭:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ফোটেনি। সবুজ ঘাসের ডগায় জমে আছে শিশিরকণা। ধানখেতের ওপর হালকা কুয়াশার চাদর, মেঠোপথে বইছে শীতল বাতাস। প্রকৃতির এই রূপবদল জানান দিচ্ছে, ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে শীত।

হেমন্তের শুরুতে গাইবান্ধার গ্রামাঞ্চল থেকে নদীবেষ্টিত চরগুলোতে এখন ভোরের চিত্র অনেকটা এমনই। গাছের পাতা, ধানের শীষ ও দূর্বাঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরকণা বাড়িয়ে তুলছে প্রকৃতির সৌন্দর্য। কুয়াশায় আবছা হয়ে থাকছে দূরের ফসলের মাঠ। ভোরের স্নিগ্ধ পরিবেশে কেউ বের হচ্ছেন হাঁটতে, আবার কৃষকেরা ছুটছেন মাঠে। কেউ আমন ধানের পরিচর্যা করছেন, কেউ শাকসবজি তুলছেন, আবার কেউ গবাদিপশু নিয়ে যাচ্ছেন চরাঞ্চলের মাঠে।

তবে হেমন্তের এই রূপবদল সবার জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে আসছে না। বিশেষ করে তিস্তা নদীর ভাঙনকবলিত চরাঞ্চলের মানুষের কাছে শীত মানেই বাড়তি দুশ্চিন্তা। জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তা-সংলগ্ন কাপাসিয়া, হরিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনে বসতভিটা ও আবাদি জমি হারিয়ে অনেক পরিবার এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলা হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় উদ্বেগ কাটছে না নদীতীরবর্তী মানুষের।

চরাঞ্চলে আমন ধানের পাশাপাশি শুরু হচ্ছে শীতকালীন সবজির আবাদ। তবে ঘন কুয়াশা ও দীর্ঘসময় রোদ না থাকলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

কৃষক আতিকুর রহমান বলেন, ‘কুয়াশা বাড়লে দীর্ঘসময় রোদ না উঠলে ধান ও সবজির ক্ষতি হতে পারে। তাই এখন থেকেই কৃষকদের সতর্ক থাকতে হবে।’

শীতের প্রস্তুতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে। বিশেষ করে অস্থায়ী ঘরে বসবাস করা শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শিক্ষক মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘শীত সবার জন্য আনন্দের নয়। নদীভাঙনে ঘর হারানো মানুষের জন্য এটি কষ্টের ঋতু। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব।’

স্থানীয়দের দাবি, শীতের তীব্রতা বাড়ার আগেই দরিদ্র ও নদীভাঙনকবলিত মানুষের জন্য শীতবস্ত্র, নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তিস্তার ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

গাইবান্ধার গ্রামাঞ্চলে শিশিরভেজা ঘাস আর কুয়াশায় ঢাকা ফসলের মাঠ শীতের আগমনী বার্তা দিচ্ছে। কিন্তু নদীভাঙনে নিঃস্ব চরবাসীর কাছে এই শীত প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি নতুন সংকটেরও আশঙ্কা। তাই শীত মোকাবিলার প্রস্তুতির সঙ্গে তাদের পাশে দাঁড়ানোও এখন সময়ের দাবি।

রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ভোরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনশীলতার কারণে ভোরে কুয়াশা দেখা দিতে পারে। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হালকা শীতের অনুভূতি পাওয়া যাবে।’