ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংসারে সচ্ছলতা আনতে কিস্তিতে অটোরিকশা কেনেন আবদুল, কুপিয়ে হত্যা করে নিয়ে গেল দুর্বৃত্তরা স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ভালো লক্ষণ দেখছি না: জামায়াতের আমির খাওয়ার সময় অস্বাভাবিক ঘাম হয় কেন? হামলার হুমকি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল, আক্রমণাত্মক সামরিক নীতি নিচ্ছে ইরান, নতুন করে যুদ্ধ কি আসন্ন সফল মানুষদের শৈশবের ১০টি অভ্যাস নদীর মাছ রক্ষায় গাইবান্ধায় জেলেদের সঙ্গে বন্ধুসভার মতবিনিময় নিউইয়র্কে মাসাবার পরনে লাল পাড় সাদা রঙের পোশাকটি কি শাড়ি, নাকি অন্য কিছু চীন সীমান্তবর্তী অরুণাচল প্রদেশে বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ মাদ্রাসায় শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর

চীন সীমান্তবর্তী অরুণাচল প্রদেশে বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াংয়ে বাঁধকেন্দ্রিক বহুমুখী প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এ কারণে চীন সীমান্তবর্তী আপার সিয়াংয়ে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার।

গতকাল শুক্রবার যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, আপার সিয়াং প্রকল্পকে কেন্দ্র সংঘর্ষে অন্তত ছয় নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়তে বাধ্য হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

২৩ অক্টোবর সিয়াং অঞ্চলে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো ১২ ঘণ্টার বন্ধের ডাক দিয়েছিল। সিয়াং, আপার সিয়াং ও ইস্ট সিয়াং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এ ধর্মঘটের বেশ প্রভাব পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার সরাসরি অনেক বিক্ষোভকারীর গায়ে আছড়ে পড়ে। অনেকে শ্বাসকষ্টেও ভুগতে শুরু করেন।

.

ওই অঞ্চলের আদিবাসীদের একাধিক সংগঠন যেমন আদি বানে কেবাং, সিয়াং ইন্ডিজেনাস ফার্মার্স ফোরামের যুব শাখা ও অন্যান্য যৌথ সংগঠন এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। তাদের মূল দাবি চারটি—গ্রেপ্তার ১০ জন আন্দোলনকারীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে, বরখাস্ত হওয়া গাওঁ বুড়াদের পুনর্নিয়োগ করতে হবে এবং বাঁধের আগাম সমীক্ষার সব কাজ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সব সদস্যকে সরানোর দাবিও করেছেন আন্দোলনকারীরা। আজ শনিবারও পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে।

পুলিশ প্রশাসন অবশ্য অন্য দাবি করেছে। সিয়াংয়ের পুলিশ সুপার কামদাম সিকম বলেন, সকালে ১৫০ থেকে ২০০ বিক্ষোভকারী ডিটে-ডাইমে এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাঁদের সরাতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।

.

অরুণাচল প্রদেশের পাসিঘাটেও এমন সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে বাঁধবিরোধী যুব বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে। গোলমালের সময় একাধিক পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বক্তব্য রাখার সময়ই আন্দোলনকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হচ্ছে।

এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি। তারা পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে।

.

মেগা বাঁধ ইস্যুতে রাজ্য সরকার যেভাবে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দমন করছে, তা উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতারা মনে করিয়ে দিয়েছেন, গ্রেপ্তার তরুণদের মুক্তি এবং সমীক্ষার কাজ বন্ধের বিষয়ে আগে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।

কংগ্রেস বলেছে, মুখ্যমন্ত্রীকে সরকারি পদক্ষেপের জবাব দিতে হবে। বলপ্রয়োগ করে কখনো মানুষের সম্মতি পাওয়া যায় না। আদিবাসী সংগঠন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রবীণ মানুষের সঙ্গে অবিলম্বে সরকারকে আলোচনায় বসতে হবে। সেই সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

চীন সীমান্তবর্তী অরুণাচল প্রদেশে বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

আপডেট সময় : ০৬:১৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াংয়ে বাঁধকেন্দ্রিক বহুমুখী প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এ কারণে চীন সীমান্তবর্তী আপার সিয়াংয়ে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার।

গতকাল শুক্রবার যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, আপার সিয়াং প্রকল্পকে কেন্দ্র সংঘর্ষে অন্তত ছয় নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়তে বাধ্য হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

২৩ অক্টোবর সিয়াং অঞ্চলে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো ১২ ঘণ্টার বন্ধের ডাক দিয়েছিল। সিয়াং, আপার সিয়াং ও ইস্ট সিয়াং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এ ধর্মঘটের বেশ প্রভাব পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার সরাসরি অনেক বিক্ষোভকারীর গায়ে আছড়ে পড়ে। অনেকে শ্বাসকষ্টেও ভুগতে শুরু করেন।

.

ওই অঞ্চলের আদিবাসীদের একাধিক সংগঠন যেমন আদি বানে কেবাং, সিয়াং ইন্ডিজেনাস ফার্মার্স ফোরামের যুব শাখা ও অন্যান্য যৌথ সংগঠন এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। তাদের মূল দাবি চারটি—গ্রেপ্তার ১০ জন আন্দোলনকারীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে, বরখাস্ত হওয়া গাওঁ বুড়াদের পুনর্নিয়োগ করতে হবে এবং বাঁধের আগাম সমীক্ষার সব কাজ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সব সদস্যকে সরানোর দাবিও করেছেন আন্দোলনকারীরা। আজ শনিবারও পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে।

পুলিশ প্রশাসন অবশ্য অন্য দাবি করেছে। সিয়াংয়ের পুলিশ সুপার কামদাম সিকম বলেন, সকালে ১৫০ থেকে ২০০ বিক্ষোভকারী ডিটে-ডাইমে এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাঁদের সরাতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।

.

অরুণাচল প্রদেশের পাসিঘাটেও এমন সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে বাঁধবিরোধী যুব বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে। গোলমালের সময় একাধিক পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বক্তব্য রাখার সময়ই আন্দোলনকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হচ্ছে।

এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি। তারা পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে।

.

মেগা বাঁধ ইস্যুতে রাজ্য সরকার যেভাবে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দমন করছে, তা উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতারা মনে করিয়ে দিয়েছেন, গ্রেপ্তার তরুণদের মুক্তি এবং সমীক্ষার কাজ বন্ধের বিষয়ে আগে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।

কংগ্রেস বলেছে, মুখ্যমন্ত্রীকে সরকারি পদক্ষেপের জবাব দিতে হবে। বলপ্রয়োগ করে কখনো মানুষের সম্মতি পাওয়া যায় না। আদিবাসী সংগঠন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রবীণ মানুষের সঙ্গে অবিলম্বে সরকারকে আলোচনায় বসতে হবে। সেই সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে হবে।